মানসিক স্বাস্থ্য ও হৃদযন্ত্র ভালো রাখে চকোলেট

cakolat.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৭ এপ্রিল) :: মুড চেঞ্জার বা মানসিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো এবং মননে রোমান্টিক আবহ তৈরিতে চকোলেটের কার্যকারিতা এরই মধ্যে প্রমাণিত। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, চকোলেট তথা চকোলেটের মূল উপাদান কোকো মানসিক স্বাস্থ্য ও হৃদযন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।

সম্প্রতি চকোলেটের সার্বিক উপকারিতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদ ও চিটস অ্যান্ড ইটস গ্রন্থের লেখক রব হবসন একটি নিবন্ধ লেখেন। সেখানে চকোলেটের স্বাস্থ্যগত ও মানসিক উপকারিতার বিষয়গুলো উঠে আসে। খবর ডেইলি মেইল।

তবে এখানে শুরুতেই একটি কথা বলে নেয়া ভালো, অতিমাত্রায় চকোলেট গ্রহণের ভয়ঙ্কর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যেকোনো মিষ্টান্নের মতোই অতিমাত্রায় চকোলেট খাওয়া হয়ে উঠতে পারে মানুষের মুটিয়ে যাওয়ার কারণ। এক্ষেত্রে ডার্ক চকোলেটের মতো চিনি ও অন্যান্য উপাদানের তুলনামূলক কম মিশ্রণযুক্ত চকোলেট খাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

রব হবসনের ভাষ্যমতে, চকোলেটের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেক। এটি গ্রহণের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক। ম্যাগনেসিয়াম (হাড়ের সুস্বাস্থ্য রক্ষাকারী ও পেশি শিথিলায়নে কার্যকর), লৌহ (রক্তের লৌহ কণিকার সুস্বাস্থ্য রক্ষাকারী উপাদান) এবং জিংকের (দেহে নতুন কোষ তৈরিতে সহায়ক উপাদান) এক অনন্য উৎস হলো চকোলেটের মূল উপাদান কোকো। এছাড়া এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সব খাদ্যোপাদানের চেয়েই বেশি বলা চলে। এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মূলত ফ্ল্যাভোনোলস নামে পরিচিত।

মস্তিষ্কের যেসব রাসায়নিক আমাদের মনমেজাজ ভালো রাখায় ভূমিকা রাখে, সেগুলোর মাত্রা বাড়ায় কোকো। ফেনিলিথাইলাসিন (পিইএ) এ ধরনেরই একটি রাসায়নিক। মনমেজাজ উত্ফুল্ল করে তোলার ক্ষেত্রে এ রাসায়নিক উপাদানটির উপস্থিতি বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

একই ধরনের আরেকটি রাসায়নিক উপাদান ট্রিপটোফ্যানের কাজ হলো ‘ভালো বোধ সৃষ্টিকারী’ হরমোন সেরোটোনিনে রূপান্তরিত হওয়া। মস্তিষ্কে এ দুটি রাসায়নিকেরই উপস্থিতির মাত্রা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে কোকো। এছাড়া কোকোয় থিওব্রোমিন নামে আরেকটি উপাদান রয়েছে, যার প্রভাব অনেকটাই ক্যাফেইনের মতো। পার্থক্য হলো, এতে ক্যাফেইনের স্নায়ু দুর্বল করে দেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি অনুপস্থিত।

এছাড়া কোকোর উপাদান ফ্ল্যাভোনোল ধমনিকে প্রসারিত করে। এতে ধমনির নমনীয়তা বাড়ে ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া রক্ত পাতলা করার পাশাপাশি এতে অযাচিতভাবে দানা বেঁধে যাওয়া প্রতিরোধ করে অনেকটা অ্যাসপিরিনের মতোই।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri