কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ জলকেলি উৎসব সম্পন্ন

IMG_3365.jpg

এম.এ আজিজ রাসেল(১৯ এপ্রিল) :: ভালবাসার সিক্ত জল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে শেষ হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান জলকেলি উৎসব। একই সাথে তারা বিদায়ী বছরের সব দুঃখ, কষ্ট আর গ্লানি মুছে নতুন দিন শুরুর মানসে নৃত্যের তাল আর গান-বাজনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করেছেন দিনটি। রাখাইনরা জানান, গায়ে পানি ছিটিয়ে, পুরনো জরা-জীর্ণতা ধুয়ে ফেলার আশায় ৩ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান করেন তারা।

১৩৮০ রাখাইন অব্দকে (মঘী সন) বরন করতে পরস্পর পরস্পরের প্রতি জল ছুঁড়ে পাপ-পঙ্কিলতাকে ঝেড়ে ফেলে নতুন জীবনের সূচনার শপথ নেয় রাখাইন সম্প্রদায়।

এরই ধারাবাহিকতায় জেলায় বসবাসকারী রাখাইন তরুন-তরুনীরাও নতুন পোশাকে নানা রংয়ে, ঢংয়ে আর জল ছিটিয়ে ধুয়ে মুছে এবং নেচে-গেয়ে উদযাপন করে রাখাইন নববর্ষ।

রাখাইনদের এই জলকেলি উৎসব জেলার রাখাইন-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

গত তিনদিন শহরের বিভিন্ন জলকেলির প্যান্ডেল ঘুুরে দেখা যায়, টেকপাড়া, হাঙর পাড়া, বার্মিজ স্কুল এলাকা, চাউল বাজার, ফুলবাগ সড়ক, পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, আরডিএফ প্রাঙ্গন, ক্যাং পাড়া ও বৈদ্যঘোনাস্থ থংরো পাড়ায় দুপুর থেকে স্ব স্ব রাখাইন পল্লী বাদ্য বাজনার তালে তালে দলবেঁধে ছুটে যায় রাখাইরন তরুণরা।

আর প্যান্ডেল গুলোতে আগে থেকে সেজে গুঁজে অপেক্ষামান তরুণীরা এক অপরকে মেত্রিময় পানি ছিটিয়ে পুরোনো বছরের হতাশা দূর করে নব আলোকে পথ চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

যা অবলোকনে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের পাশাপাশি জড়ো হয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরাও। এতে রাখাইন পল্লী সমূহ রূপ নেয় সার্বজনীন অহিংস কেন্দ্র বিন্দুতে।

এ যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে লালিত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গড়া সোনার বাংলার এক খন্ড বাংলাদেশ।মূলত ১৩৭৯ রাখাইন বর্ষ বিদায় জানিয়ে ১৩৮০ রাখাইন বর্ষকে বরণ করা জন্য রাখাইন সম্প্রদায় নতুন বর্ষ পালন করার উদ্দেশ্যে এই উৎসব পালন করে। রাখাইন ভাষায় এ উৎসবকে বলা হয় মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে। এর বাংলা আভিধানিক অর্থ মৈত্রিময় জলকেলি উৎসব।

জলকেলি উৎসবের সমাপনী দিনে শহরছাড়াও মহেশখালী, টেকনাফ সদর, হ্নীলা চৌধুরী পাড়া, রামু, পানিরছড়া, চকরিয়ার মানিক পুরসহ রাখাইন অধ্যুষিত এলাকা গুলোতে সপ্তাহ জুড়ে রাখাইন নববর্ষ পালনে নানা অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। জলকেলির প্যান্ডেল গুলো রঙিন ফুল আর নানা কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রাখাইন এলাকার প্রতিটি বাড়িতে এখন উৎসবের বর্ণিল আবহ বিরাজ করছে।

জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সকলে যেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যথা-বেদনা, গ্লানি ভুলে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

এর আগে উৎসব শুরুর দিন স্থানীয় সাংসদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক,জেলা আওয়ামীলীগের জেলা সভাপতি, জেলা পুলিশ সুপার, কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিং অং সহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য এউ উৎসবের শুভ সূচনা করেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিং অং জানান, মাহা সাংগ্রাই পোয়ে বা জলকেলি রাখাইনদের সামাজিক উৎসব। সময়ের আবর্তে এই উৎসব সার্বজনীনে রূপ নিয়েছে। তিনদিন পর্যন্ত জলকেলি উদযাপনে কোন বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেনি।

এর জন্য জেলা পুলিশসহ প্রশাসনের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের ভাষ্যমতে, উৎসব চলাকালীন পুলিশ ও র‌্যাব আমাদের উৎসবস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়েছেন।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন জানান, রাখাইনদের জলকেলি উৎসবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোন অঘটন ছাড়া আজ এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri