পেকুয়ায় প্রবাসীকে জেলে পাঠানোর হুমকি!

homki.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১৯ এপ্রিল) :: পেকুয়ায় অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে প্রবাসীকে জেলে পাঠানোর প্রকাশ্যে হুমকি দিল সেই সৎভাইয়ের ছেলেরা। ছোট চাচা আ’লীগ করে।

অপরদিকে সৎভাইয়ের ছেলেরা বিএনপির রাজনীতির স্থানীয় কর্ণধার। তারা বিত্তবান ও প্রভাবশালী।

জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাচা ভাতিজার মধ্যে বিরোধ চলছিল। চাচাদের ৬শতক জায়গা জবর দখলে নিতে সৎভাইয়ের ছেলেরা তৎপর। এতে করে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধের সুত্রপাত তৈরী হয়েছে। বর্তমানে দু’পক্ষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সহ উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এর সুত্র ধরে সৎচাচাকে অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিল প্রতিপক্ষ। গত ২ দিন আগে হুমকির এ ঘটনা ঘটে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনা এলাকায়।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ৬শতক জায়গা নিয়ে কালু গং ও সৎ ভাই নাগু গংদের বিরোধ দেখা দেয়। জায়গা পাউবোর মালিকানাধীন। ভোলাখালের অংশে এ জায়গা খালশ্রেনীভূক্ত। বিগত ২০ বছর আগে পেছু মিয়া নামক ব্যক্তি এ জায়গা বিক্রি করে। নাল ও হালশ্রেনীর জায়গা বিক্রি করে তিনি দখল হস্তান্তর করেন।

ওই সময় থেকে নাল ও খাল অংশ তারা ভোগ করে আসছিল। বর্তমানে কালু গং বেড়িবাঁধের নদীর অংশে চর ভরাট করে পাকা বসতবাড়ি নির্মাণ করে। বসবাসের উপযোগী এ জায়গায় তারা পাকা সীমানা প্রাচীরও নির্মাণ করে। এ দিকে নাগু মিয়া ও তার ছেলে ফজল করিম, রেজাউল করিম গং সম্প্রতি কালু গংদের বসতবাড়ির অংশের ৬শতক জায়গায় ঘিরা বেড়া দেয়।

এ নিয়ে কালু গং স্থানীয় গ্রাম আদালতে মামলা রুজু করে। গ্রাম আদালত কাগজপত্র ও সরেজমিন প্রমানাদিসহ কালু গংদের অনুকুলে রায় প্রদান করে। তবে রেজাউল করিম গং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নথি তলব মামলা করে। বিষয়টি অমীমাংসিত।

অভিযোগ উঠেছে, রেজাউল করিম গং সম্প্রতি অধিক ক্ষিপ্ত হন। তারা নদীর চরে কালু গংদের পাকা স্থাপনা নাশকতার পরিকল্পনা নেয়। সীমানা প্রাচীর ও পাকা বসতবাড়ি ধসে দিতে তারা তৎপর। কালু গংদের বসতবাড়ি ঘেষে তারা মাটি কেটে বিশাল গর্ত তৈরী করছে। প্রায় ৯৩ ফুট দৈর্ঘ্য সীমানা প্রাচীর দেবে দিতে তারা বিশাল আকারের গর্ত তৈরী চরে। গভীর গর্তে পতিত হওয়ার শংকা দেখা দেয় কালু গংদের বসতবাড়িসহ পাকা সীমানা প্রাচীর।

সুত্র জানায়, কালু আ’লীগের কর্মী। অপরদিকে ফজল করিম ও রেজাউল করিম গং বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তারা এলাকায় প্রচন্ড ক্ষমতাধর ছিলেন। সে সময় কালু সহ তার সহোদরদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নির্যাতন সহ হয়রানি চালানো হত। হত্যা, চাঁদাবাজিসহ কাল্পনিক ঘটনায় মামলা দিয়ে চরম হয়রানি করা হয়। মামলায় জর্জরিত কালু প্রবাসে পাড়ি দেয়। বর্তমানও পূর্বের এ ধারা ও হয়রানি করা হচ্ছে আ’লীগ কর্মী কালু গংদের নিয়ে।

মোহাম্মদ কালু জানায়, আমি ওমানে থাকি। আমার অপর দুই ভাই প্রবাসী। তারা বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার কুমানসে লিপ্ত। পায়খানার পয়:নিশস্কাশন বন্ধ করে দেয়। অস্ত্র ও ইয়াবা দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছে।

রাজাখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি জানায়, হাবিবুর রহমানের ছেলে কালু আমাদের দলের একজন নিবেদিত কর্মী। তার বিরুদ্ধে অত্যাচার করা হচ্ছে।

সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল জানায়, অতীতেও তাকে হয়রানি করা হয়েছে। মামলা দিয়ে দেশ ছাড়া করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর জানায়, তারা যে ভাবে গর্ত করছে সেটি কুপরিকল্পনা। বিল্ডিং ও দেয়াল বিধ্বস্ত হবে। আমি গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। দেয়াল ঘেষে মাটি খনন না করতে। একজন মানুষের বসতবাড়ি ধ্বংস করার কু পরিকল্পনা সেটি। আমরা অবশ্যই এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri