২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

PM-5ae4a20294475.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ এপ্রিল) :: বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে, বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলবে। এ লক্ষ্য নিয়ে ২০২১- ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ কী রকম হবে, সেই উন্নয়ন পরিকল্পনাও নির্ধারণ করা শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা প্রণয়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা কিভাবে দেখতে চাই সেভাবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।’ তিনি শনিবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসসের

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের গৃহিত বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের জন্যই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশ হবার যোগ্যতা অর্জনে সমর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আগামী ছয় বছর পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এর অবস্থানকে ধরে রাখার লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এখন আমরা পরিকল্পনা করছি কিভাবে দেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অষ্ট্রেলিয়া সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অষ্ট্রেলিয়া শাখা এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।  গ্লোবাল উইমেন সামিট-২০১৮তে যোগদান করতে এবং গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ এওয়ার্ড-২০১৮ গ্রহণে শুক্রবার সিডনী পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সকল ধরনের পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’ তিনি বাংলাদেশের এই উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা যাতে কোনভাবে ব্যাহত না হয় সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধাপরাধী, খুনী এবং দেশের উন্নয়নের প্রতি অনাস্থাশীল চক্র যাতে কোনভাবে আর কোনদিন এ দেশের রাষ্ট্রীয় রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে।

দেশের মর্যাদার বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা যে যেখানেই বাস করুন না কেন, আপনাদের দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করে দেশের সম্মানকে তুলে ধরতে হবে, যে সম্মান আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্যদিয়েই আমরা শহীদদের প্রতি যথাযথভাবে সন্মান জানাতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সিডনীর সোফিটেল হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি হয়।

অষ্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.শামসু রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ড. মিল্টন হাসনাত, গামা আব্দুল কাদির, আনিসুর রহমান রিতু, প্রদ্যুত সিং চুন্নু এবং নিরাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক শেখ শামিমুল হক। অষ্ট্রেলিয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri