izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

কুতুবদিয়া উপকূলের দুই লক্ষ মানুষ এখনো ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে

FB_IMG_1525019743800.jpg

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া(২৯ এপ্রিল) :: ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের কথা এখনো ভুলতে পারছে না উপকূলের মানুষ। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আড়াই যুগ অতিবাহিত হয়ে গেলেও ভয়ের দাগ কাটছে না স্বজনহারা ভিটে- মাটিহীন নিস্বঃ পরিবারগুলোর।

দিনের পর মাস, মাসের পর বছর গুনতে গুনতে ২৮টি বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি সাগর পাড়ের মানুষগুলো। বাচাঁর তাগিদে বসতি গড়ে চলেছে বন- জঙ্গলে।

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণীঝড়ের ২৮ বছর পরও টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হওয়ায় এখনো বেঁচে থাকার ঠিকানা খোজে পায়নি উপকূলের বাসিন্দারা।

কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের  সভাপতি এস,কে,লিটন কুতুবী জানান, ১৯৯১ সনের ঘূর্ণিঝড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার পর তৎ সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুদিয়ারটেক ও রাজাখালী নামক দুটি মৌজা বাদ দিলে ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সাগরে বিলীন হয়ে যায়।

১৯৯৪ সনে সৌদি সরকারের আর্থিক অনুদানে কুতুবদিয়া দ্বীপের ৬ ইউনিয়নের ৪০কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড । এরপর থেকেই  আরো ৮/১০টি ঘূর্ণিঝড় কুতুবদিয়া দ্বীপের উপর পরপর বয়ে গেলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় দ্বীপ রক্ষা বেড়িবাঁধের প্রায় ৩০ কি: মি । প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাঁধ মেরামতের নামে মাটি ও বালির বাঁধ দিয়ে সরকারের অর্থ অপচয় করে নিজেদের পকেট ভারি করলেও দ্বীপের অসহায় মানুষের কোন উপকার করতে পারেনি।

প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভরা পূর্ণিমা ও অমাবষ্যার জেয়ারে মাটি  ও বালির বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে সাগরের লোনাজল। ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফসলি জমি,মাছের ঘের, কোমর পানিতে তলিয়ে যায় বসতঘর। এসময়ে ওই সব এলাকার মানুষগুলো আশ্রয় নেয় খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় ও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে।

সাবেক খুদিয়ারটেক এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন জানান, ১৯৯১ সনের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এ পর্যন্ত কুতুবদিয়া দ্বীপ ছেড়ে অন্যত্রে পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় এক লক্ষের অধিক মানুষ।

কক্সবাজার,বান্দরবান,চট্টগ্রাম এই তিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা,নগর,মহানগরে আশ্রয়স্থল করে নিয়েছে কুতুবদিয়া দ্বীপের আশ্রয়হীন মানুষ। এমনকি বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়া লোকজন আবাসন গড়ে তোলে ঐ এলাকায় কুতুবদিয়া পাড়া নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

এদিকে প্রতি বছরের ন্যয় এ বছরও কুতুবদিয়া দ্বীপসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের  মসজিদ, মন্দির,গীর্জায় ২৯  এপ্রিল  প্রাণ হারানো স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনাসভার আয়োজন করে বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধূরী বলেন, সেই ১৯৯১ সালের ভয়াল ২৯ এপ্রিলের  মহা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় কুতুবদিয়ার ইতিহাসে কালোরাত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পারিবারিক  ও সামাজিক অসচেতনতা ও অপর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কারনে সেই রাতে আপনজনদের হারিয়ে  কুতুবদিয়াবাসীকে বার বার চোখের মুছতে হয়েছে। এখনো সেই স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে অনেকে। আর যেন কুতুবদিয়াবাসীকে চোখের জলে ভাসতে না হয় তার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেল্টারের পাশাপাশি সামাজিকভাব সচেতনতা বাড়ানো।

কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর জানান,  ১৯৯১ সনের ২৯ এপ্রিল রাতে একই সময়ে ৩০ হাজার মানুষ প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিল। একই সাথে মৃত্যুবরণকারী ৩০ হাজার মানুষের  স্বরণে কুতুবদিয়ায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের আহবান করেন সরকারের নিকট।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য  বরাদ্দ দেয়া ৯২ কোটি টাকার কাজ চলছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ বেড়িবাঁধের  বিধ্বস্ত অংশগুলো মেরামত করতে না পারলে বর্ষা মৌসুমে আবারো লোকালয়ে জোয়ারভাটা বসবে।

Share this post

PinIt
scroll to top