আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

pm-pc-3.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২ মে) :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফরে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই তিনটি সফর অনুষ্ঠিত হয়। সবগুলো সফরই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বুধবার (২ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি তিন দেশ সফরের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরতে বুধবার বিকাল ৪টায় এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৫ এপ্রিল সৌদি আরব সফরে যান তিনি। সেখানে গালফ শিল্ড-ওয়ান শীর্ষক যৌথ সামরিক মহড়ায় যোগ দেন। ১৬ এপ্রিল দেশটির ইস্টার্ন প্রভিন্সের আল জুবাইলে এর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ মহড়ায় অংশ নেয়।

ওই দিনই লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পরদিন ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী ২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। মূল সম্মেলনের পাশাপাশি বেশকিছু সাইড ইভেন্টেও যোগ দেন এবং বক্তব্য রাখেন তিনি। যুক্তরাজ্য সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল তিনি অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। সেখানে ২৭ এপ্রিল গ্লোবাল উইমেন’স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮-তে ভূষিত করা হয় তাকে। ওই অ্যাওয়ার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্বে নারীর অধিকার আদায়ে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরদিন তিনি ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করে সেখানে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলকে সরকার চাপিয়ে দিতে পারে না

কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার চাপিয়ে দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি করবে না, এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। একজনের দলীয় সিদ্ধান্ত তো আমি আর চাপিয়ে দিতে পারি না। বলতে পারি না, তোমাদেরকে নির্বাচন করতেই হবে। নির্বাচন করবে, না করলে ধরে নিয়ে জেলে দিবো- এটা তো বলতে পারি না।

বুধবার (২ মে) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফরের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরতে বুধবার বিকাল ৪টায় এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

ঘি নিয়ে প্রচলিত একটি দেশি প্রবাদের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে অবশ্যই নির্বাচন হলেই আমরা জয়ী হবো। নিশ্চয়ই এটা আশাও করি। আর এত উন্নয়ন করার পর জনগণ যদি ভোট না দেয়, আর যদি না আসতে পারি… আর আমরা না আসলে যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায় সেটা তো আপনারা দেখেছেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আমরা যে উন্নয়ন করেছিলাম, সেটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ২০০১ বিএনপি আসার পর থেকে। সেটা তো সবাই জানেন। কাজেই ওইভাবে বাংলাদেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে না চাইলে নিশ্চয়ই মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বলছে, তাদের নেত্রী মুক্ত না হলে তারা ইলেকশন করবে না। তাদের নেত্রীকে তো আমি জেলে পাঠাই নাই। আমি যদি জেলে পাঠাতাম, রাজনৈতিক কারণে পাঠাতে পারতাম । ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ সালে যখন পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছিল, নিজেকেই নিজেকে একটা অফিস রুমে অন্তরীণ করলো, ৬৮ জন লোক নিয়ে একবাড়ির মধ্যে। সেখান থেকে হুকুম দিয়ে দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে যখন হত্যা করলো, তখনই আমি তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতাম। কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে তা করতে চাইনি।’

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়ার বাসায় তাদের দেখতে গিয়েও ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার ছেলে মারা গেল। আমি দেখতে গেলাম। আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে ঢুকতে দিলো না। অন্য কোনো দেশ হলে কী করত? ওই দরজার বাইরে দিয়ে আরকেটা তালা দিয়ে দিতাম, যাতে ওখান থেকে কেউ আর বেরুতেই না পারে। হ্যাঁ, সেটা করতে পারতাম ইচ্ছে করলে। আমি যখন ঢুকতে পারবো না, তোমরা বেরুতেও পারবো না। সে তালাও আমি দিয়ে দিতে পারতাম। আমরা কিন্তু তাও করি নাই।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘১০টা বছর মামলা চলেছে। ১৫২ কি ১৫৪ বার সময় নিয়েছে। তিন বার কোর্ট বদল হয়েছে। ২২ বার রিট হয়েছে। তারপরও বিএনপির এত বড় বড় ল’ইয়ার, কত বড় বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ল’ইয়াররা; তারা কিছুতেই প্রমাণ করতে পারল না, খালেদা জিয়া ওই এতিম খানার নামে টাকা এনে দুর্নীতি করে নাই। তারা তো প্রমাণ করতে পারে নাই। এখন কোর্ট রায় দিয়েছে। এখানে আমাদের কাছে দাবি করলে তো কিছু হবে না। যখন আইনগতভাবে কারাগারে গেছে, তখন আইনগভাবে ফাইট করে রেব করতে হবে। এখানে আমাদের কাছে দাবি করে কী লাভ হবে?’

বরং আমি একটি অন্যায় কাজ করেছি। একজন নিরাপরাধ মানুষ, ফাতেমা বেগম। তার এখন মেইড সারভেন্ট লাগবে। আপনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত কোন আসামিকে কবে, কে, কোন দেশে মেইড সারভেন্ট সাপ্লাই দিয়েছে। তার সেই দাবিও মেনে নিয়ে আমার হোম মিনিস্টার দয়াবশত মেইড সারভেন্ট পর্যন্ত সাথে দিয়ে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এত সোচ্চার, তবে একজন নিরাপরাধ মানুষ কেন খামোখা জেল খাটবে, তা নিয়ে তারা সোচ্চার হয়নি। তারপরও যদি একটা ভালো বেতন দিত, তাও না। কত বেতন দেয়, সেটা জিজ্ঞাসা করে দেখেন, আমি আর বলতে চাই না। একটা নিরাপরাধ মানুষকেও কিন্তু জেল খাটতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার কারণে। যদিও আমাদের এখানে কোনো মানবাধিকার সংস্থা এটা নিয়ে একটা টু শব্দও করে না। বিনা বিচারে, বিনা সাজায়, বিনা কারণে কেন একজন মহিলা জেল খাটবেন, এটা আমাকে বলেন।’

কারাগার থেকে বাইরে নিয়ে এসে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার ওষুধ রাখার জন্য ফ্রিজ লাগবে। সেই ফ্রিজের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে। আর কত শুনবেন। বলেন, কোন সাজাপ্রাপ্ত আসামির জন্য এত করে? আর তারা কারা? যুদ্ধাপরাধীদের যারা পুরস্কৃত করেছে, জাতির পিতার হত্যাকারীদের যারা পুরষ্কৃত করেছে। তাদেরই একজন এতিমের টাকা চুরি করে এখন কারাগারে। ১০ বছরের মধ্যে বিএনপির বড় বড় আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারল না, সে নিরাপরাধ। আর এখন চিৎকার করে। আর আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির আসার ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, এটা হচ্ছে গণতন্ত্র। কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি করবে না- এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। একজনের দলীয় সিদ্ধান্ত তো আমি আর চাপিয়ে দিতে পারি না। বলতে পারি না, তোমাদেরকে নির্বাচন করতেই হবে। নির্বাচন করবে, না করলে ধরে নিয়ে জেলে দিবো- এটা তো বলতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ইলেকশনে তারা আসে নাই। তারা নির্বাচন ঠেকাতে চেষ্টা করেছে। কে ইলেকশনে আসবে, না আসবে, সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করে। আর ইলেকশনে জেতাটা আমি জনগণের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি মনে করে তাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকবে, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। আর আমরা আবার ক্ষমতায় আসবো।’

টানা মেয়াদে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশের যে স্বীকৃতি পেয়েছে সেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ একটা মধ্যম আয়ের দেশ তো হবেই, উন্নত দেশও হবে, ইনশাল্লাহ। একমাত্র আওয়ামী লীগই সেটা করতে পারবে। আর কেউ পারবে না।

‘না হলে, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু উন্নয়ন হয়নি কেন? এখন হচ্ছে কেন?’- বলেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে খোশমেজাজে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছি। মাত্র ৯ বছরে যে উন্নয়ন কাজ আমরা করেছি, তার জন্য একটু শোকর করেন, একটু ধন্যবাদ দেন।’ ‘আর যেন ভোটটা পাই, সেটাও একটু দেখেন’- বলে হেসে ওঠেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দুই পাশে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

Share this post

PinIt
scroll to top