izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

ভারতের অস্ত্র বাজার কি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ?

india-s-400-usa.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২ মে) :: নতুন ওয়াশিংটন ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভাসারিস থ্রু স্যাঙ্কশনস অ্যাক্ট’ (সিএএটিএসএ) একটি মার্কিন আইন নিয়ে ভারত খুবই হতাশ। আর ভারতের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বাজারটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ভারত  হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। আর শীর্ষ অস্ত্র রফতানিকারক হিসেবে রাশিয়ার আসনটি কেড়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া বাজার দখলের চেষ্টায় অস্বস্তিতে রয়েছে ভারত। কারণ রাশিয়ার অনেক অস্ত্র এখনো ব্যয়সাশ্রয়ী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা পণ্যের ওপর ভারতের ঐতিহ্যবাহী নির্ভরশীলতা থেকে বের হওয়া অসম্ভব ভারতের জন্য।

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাতের সময় আরো বেশি বেশি মার্কিন অস্ত্র কেনার জন্য তাকে উৎসাহিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদিকে ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আমরাই সেরা।’ তবে ভারত চায় এস-৪০০ কিনতে। আর যদি সিএএটিএসএ যদি এই আমদানিতে বাধা দেয়, তবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক হয়তো আরো অবনতি ঘটবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন,এ আইনের ফলে ভারত তার সামরিক সম্ভার সরবরাহের ঐতিহ্যবাহী দেশ রাশিয়া থেকে অতিপ্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তার নীতির প্রতি অটল থাকে এবং নতুন আইন কার্যকর করা থেকে বিরত থেকে রাশিয়া থেকে প্রতিরক্ষা আমদানিতে সুযোগ না দেয়, তবে ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক আরো অবনতি হতে পারে।

নয়া দিল্লি এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আলমাজ-অ্যান্টে করপোরেশনের সাথে আলোচনা করছে। গত ৩ এপ্রিল মস্কো বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সিতারামন ও তার রুশ প্রতিপক্ষ জেনারেল সার্গেই শোইগো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা নিয়েও কথা বলেন।

দিল্লিতে নিযুক্ত মস্কোর দূত নিকোলাই কুদাশেভ সম্প্রতি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, আগামী অক্টোবরে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মিলিত হওয়ার আগেই ওই চুক্তিটি হয়ে যেতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ সূত্র সাউথ এশিয়ান মনিটরকে জানিয়েছে, সরকার এখন চুক্তি করতে বদ্ধপরিকর। ওয়াশিংটন ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভাসারিস থ্রু স্যাঙ্কশনস অ্যাক্ট’ (সিএএটিএসএ) ভারতের ওপর প্রয়োগ করতে চায় কিনা তা বুঝতে চায়।

রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করতে মার্কিন কংগ্রেস ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সিএএটিএসএ পাস করে। একই বছরের অক্টোবরে এর আওতা আরো বাড়ানো হয়।

সিএএটিএসএ-এর ২৩১ ধারাটিতে বলা হয়েছে, কোনো দেশ যদি রাশিয়া থেকে উচ্চমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম কেনে, তবে তার ওপর অবরোধ আরোপ করা হবে। ভারত-রাশিয়া প্রস্তাবিত এস-৪০০ চুক্তিটির মূল্য আনুমানিক ৫.৫ বিলিয়ন ডলার (৩৯,০০০ কোটি ভারতীয় রুপি)।

সিএএটিএসএ অবরোধ থেকে ভারতকে ছাড় দেওয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কিছু আলোচনা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটনকে দিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, রুশ সামরিক সম্ভারের ওপর তার নির্ভরশীলতা হঠাৎ করেই খুব বেশি কমাবে না। তারা দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা বলছে। দিল্লি এও জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি সিএএটিএসএ অবরোধ থেকে দিল্লিকে ছাড় দিতে রাজি না হয়, তবে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্য ভারতীয় সামরিক বাহিনীকে জোরদার করা, দুর্বল করা নয়। আবার ভারত যদি এস-৪০০-এর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম আমদানি না করে, তবে তার প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে।

রাশিয়া দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ স্টিলথ মাল্টি-রোল জঙ্গিবিমানের আক্রমণের বিরুদ্ধে তার এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর। রাশিয়া ইতোমধ্যেই চীনকে এস-৪০০ সরবরাহ শুরু করে দেওয়ায় দিল্লি চাচ্ছে চুক্তিটি তাড়াতাড়ি করে ফেলতে।

ভারত ও রাশিয়া ২০১৬ সালে এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে আন্তঃসরকারি চুক্তি করে। তারপর থেকে উভয় দেশ চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

Share this post

PinIt
scroll to top