পেকুয়া প্রবাসীকে আটকিয়ে টাকা আদায়

Pekua-news.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৩ মে) :: পেকুয়ায় প্রবাসীকে আটকিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে তিন ভাই ও এক বোনের বিরোধ চলছিল। সদ্য নির্মিত পাকা বসতবাড়ির আধিপত্য নিয়ে সহোদরদের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারন করে।

এর সুত্র ধরে প্রবাসী তিন ভাই ও এক বোনের এ বিরোধ থানা কোর্টে পর্যন্ত গড়ায়। প্রবাসীর স্ত্রীর হুকুমে গভীর রাতে ভাসুর ও চাচাতো ভাসুরকে আটক করে।

এ সময় তারা ২ জনকে আটকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় । কোন ওয়ারেন্ট ও মামলা ছাড়া গভীর রাতে প্রবাসীকে আটকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে এ আচরনে উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করে সাধারন মানুষ।

অপরদিকে এ ধরনের আটকের ঘটনায় সাধারন নাগরিকদের মাঝে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় দেখা দেয়।

স্থানীয়রা জানায়, এ ধরনের হয়রানি সাধারন নাগরিকের উপর নিকৃ বর্বরতা। নাগরিকদের উপর মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী আইনের বরখেলাপ।

গত ১ মে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আটকের এ ঘটনা ঘটে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের রাহাতআলী পাড়া গ্রামে। হয়রানির শিকার ২ ব্যক্তির নাম আবু তাহের(৩৯) ও কামাল হোসেন(৩৫)। আবু তাহের ওই এলাকার গোলাম নবীর ছেলে ও কামাল হোসেন ইমাম শরীফের ছেলে। এদের মধ্যে ১ম জন সৌদি প্রবাসী। ১ মাস আগে তিনি দেশে আসে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ১ টি ১তলা পাকা ভবন নিয়ে গোলাম নবীর ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের বিরোধ চলছিল। ৩ ভাই ও ১ বোন এক পক্ষে।

অপরদিকে প্রবাসী আবু শামার সাথে এদের বিরোধ। ভবনটি তিন চার মাস আগে নির্মিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গোলাম নবীর ৩ ছেলে সৌদিতে থাকে। তারা সবাই পৈত্রিক ভিটায় এ ভবন নির্মাণ করতে অর্থের যোগান দেয়। তবে বর্তমানে ভবনটি প্রবাসী ভাই আবু শামা দখলে নেয়।

সম্প্রতি গোলাম নবীর দুই ছেলে আবু তাহের ও আবুল বশর বিদেশ থেকে বাড়িতে আসে। তারা আবু শামাকে ওই বাড়ির একক আধিপত্য ছেড়ে দিতে চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে আবু শামার স্ত্রী ও ভাসুরদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়।

এর সুত্র ধরে ওই দিন রাতে আবু শামার স্ত্রী পারভীন আক্তার পুলিশ নেয় বাড়িতে। ওই দিন রাত সাড়ে ১২ টার দিকে রাহাতআলী পাড়া থেকে আবু শামার বড় ভাই প্রবাসী আবু তাহের ও তাদের চাচাতো ভাই কামাল হোসেনকে আটক করে পেকুয়ার দিকে নিয়ে আসছিল।

আবু তাহেরের মা নুরুন্নাহার জানায়, আমার সব ছেলেদের হক ধ্বংস করে ছেলে আবু শামা তার স্ত্রীকে দিয়ে বাড়ি দখলে রেখে দেয়। আমার ছেলে মেয়ে ও আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

আবু তাহের জানায়, আমার বিরুদ্ধে মামলা ও ওয়ারেন্ট ছিলনা। গভীর রাতে তুলে নিয়ে ছেড়ে দেয়। আমাকে ও আমার চাচাতো ভাই কামালকে মারধর করে। এমনকি ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল।

কামাল হোসেনের স্ত্রী মনচুরা বেগম জানায়, আমার স্বামীকে বিছান থেকে তুলে নিয়ে গেছে। গালিগালাজ করে।

তবে ছোট ভাই আবুল শামার স্ত্রী পারভীন আক্তার জানায়, তারা আমাকে বার বার নির্যাতন করছিল। মারধর করা হয়েছে। আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।

 

Share this post

PinIt
scroll to top