কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৭ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করছে যুক্তরাজ্যে

rohingya-refugees-uk-aid.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৭ মে) :: কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নতুন মানবিক সহায়তা তহবিলের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাজ্য । আসন্ন ঝড় ও বর্ষাকালকে মাথায় রেখে যুক্তরাজ্যের প্রস্তাব করা নতুন ওই সহায়তায় প্রাণঘাতী কলেরা প্রতিরোধে ৭ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।  প্রায়  ১০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে ওই অর্থ।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বর্ষাকাল শুরু হলে  মিয়ানমার সীমান্তের কাছে থাকা শরণার্থী শিবিরগুলোর পরিস্থিতি ক্রমেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। প্রবল বর্ষণে অস্থায়ী ভিত্তিতে বানানো পলকা ঘরগুলো ভেসে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে প্রাণঘাতী রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ওষুধ, তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী কাঠামোর ঘর, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রসবকালীন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটি।

তারা একই সঙ্গে কক্সবাজার এলাকায় থাকা রোহিঙ্গা ও শরণার্থী শিবিরগুলোর কাছে থাকা স্থানীয়দের কলেরা প্রতিরোধক টিকা প্রদান কর্মসূচীতে সহায়তা করছে। এ সুবিধা পাওয়া মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। যুক্তরাজ্যের দেওয়া সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে:

  • ২ লাখ মানুষের জন্য তুলনামূলক শক্তিশালী কাঠামোর ঘর বানাতে প্রয়োজনীয় উপকরণ,
  • ৩ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা ও বিশুদ্ধ পানি,‌
  • ৩০ হাজার গর্ভবতী নারী ও স্তনদাত্রী এবং ১ লাখ ২০ হাজার ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য জরুরি পুষ্টি,
  • ৫০ হাজার গর্ভবতী নারী যারা আসন্ন বর্ষাকালে সন্তান প্রসব করবে তাদের জন্য ধাত্রীসেবা,
  • ৫২ হাজার ৯০০ জন নারী ও কন্যাশিশুর জন্য জন্য গোসলখানা এবং
  • ৫০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার উপকরণ।

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী পেনি মরডন্ট বলেছেন, ‘এখন বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন রোহিঙ্গা পরিবারগুলো ভয়ঙ্কর বর্ষাকাল থেকে রক্ষা পায়। এই বিপর্যয়ের ব্যপকতা দিনকে দিন বাড়ছে।

প্রলয়ংকারী ঝড় এবং বর্ষাকাল যতই এগিয়ে আসছে ততই বেশি প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ভূমিধস ঘরগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ।’

ইউকে এইডের সর্বশেষ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া এই সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য সরকার পুরোপুরি সহায়তা করে আসছে। এ পর্যন্ত তারা ১২ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড অর্থ সহায়তা দিয়েছে।

সরকার বলেছে, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে চলমান কর্মকাণ্ডে আরও তহবিল গঠনের জন্য উদ্যোগ দিয়েছে। আসন্ন বর্ষাকালকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ।

ইউকে এইড’র তৈরি ওষুধ দিয়েই টিকা প্রদান অভিযান চালানো হচ্ছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সরকার এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি চলছে এই কার্যক্রম। বর্ষাকালের সংকট মোকাবিলায় কক্সবাজারে জানুয়ারি মাসেই কাজ শুরু করেছে ইউকে এইড।

জাতিসংঘের ধারণা, প্রায় ১ লাখ ২ হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। আর ১২ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ভূমিধসের ঝুঁকির মধ্যে বাস করছে।শরণার্থী শিবিরগুলোর রাস্তা ঠিক রাখার জন্যও কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এসব রাস্তা ব্যবহার করে সেখানে ত্রাণ ও সেবা পৌঁছানো হয়। এছাড়া ঝড়ো হাওয়া ও বন্যার পানি থেকে বাঁচার জন্য ১ লাখ ৫৮ হাজার মানুষের মধ্যে ছাউনি ও বালুর বস্তা বিতরণ করা হয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri