কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে তিন পাকিস্তানি নাগরিক আটক

arrest-pk.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৭ মে) :: কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে তিন পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তাদের মঙ্গলবার সকালেই কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নভোএয়ার বিমানযোগে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

সদর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক পাকিস্তানের এই তিন নাগরিক পাকিস্তান থেকে সরাসরি ঢাকায় না এসে প্রথমে হংকংয়ে যায়। হংকং থেকে তারা গত রবিবার ঢাকায় পৌঁছে। এরপর তারা এক মাসের ট্যুারিস্ট ভিসা সংগ্রহ করে।

সোমবারই ওই পাকিস্তানি নাগরিক ঢাকা থেকে কক্সবাজার চলে আসে। কক্সবাজার বিমান বন্দরে তিন পাকিস্তানিকে আটক করার পরপরই জেলা পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন সেখানে ছুটে যান এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। প্রথমে তারা বলে কক্সবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে কিন্তু কোনো আত্মীয় তা জানাতে পারেনি পুলিশকে। পরে তারা পুলিশকে জানায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির দেখতে এসেছে তারা। তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদেরকে ক্যাম্পের দিকে যেতে দেয়নি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, জনৈক হেলাল তাদের জন্য হোটেল কক্স-টু-ডেতে রুম বুকিং দিয়েছে।

কক্সবাজারের বাংলাদেশি মুফতি রিয়াজ উদ্দিন খাঁন নামের একজন মাওলানা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের আশা-যাওয়ার জন্য সফরসঙ্গী হিসেবে ঠিক করা হয়। কিন্তু পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাকিস্তান কেন্দ্রীক বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন আশা-যাওয়ার অভিযোগ উঠে। গোয়েন্দা সূত্রে এসব সংগঠনের সন্দেহজনক তৎপরতাও উঠে আসে।

আটক এই তিন পাকিস্তানি নাগরিক তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য কক্সবাজার এসেছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আটক পাকিস্তানিরা হচ্ছেন- মোহাম্মদ আরশাদ (৫০), আসাদরুর রশিদ (২৭), শহীদ হাফিজ (৪৫)। তাদের মধ্যে প্রথম দু’জন বর্তমানে হংকংয়ে নাগরিকত্ব নিয়েছে।

কক্সবাজারে তাদেরকে বিমানবন্দর থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে নিয়ে যাওযার কথা ছিল। বাংলাদেশি মুফতি রিয়াজ উদ্দিন খাঁন (৪২)। তার বাড়ি খুলনার খাঁন জাহান আলী এলাকায়।

তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে মার্কাজ-উল-মুসলেমিন নামের একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে এই তিন পাকিস্তানিকে কক্সবাজার থানায় আটক রাখা হয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri