সৌদি যুবরাজ সালমান কি মারা গেছেন? বেঁচে থাকা’ নিয়ে সন্দেহ ইরানি গণমাধ্যমে

saudi_crown_prince_mohammed_bin_salman_deputy_prime_minister_and_minister_of_defense._spa.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৯ মে) :: কোথায় আছেন সৌদি রাজপরিবারের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি? বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য আছেন যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমান।

এদিকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দীর্ঘদিন জনসম্মুখে না আসার কারণে তার বেঁচে থাকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরানের বেশকিছু গণমাধ্যম। গত মাসে এক ‘অভ্যুত্থান’ চেষ্টায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি মারা গেছেন বলে এসব গণমাধ্যম ধারণা করছে।

তবে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুটনিক অবশ্য জানিয়েছে, যে ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে সৌদি যুবরাজের সম্ভাব্য মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে তার সপ্তাহখানেক পরের এক অনুষ্ঠানে সালমানকে দেখা গেছে।

অন্যদিকে ইরানি খবরের কাগজ কায়হান বলছে, এপ্রিলের ২১ তারিখ রিয়াদের রাজপ্রাসাদে হওয়া অভ্যুত্থানচেষ্টার ঘটনায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের গায়ে অন্তত দুটি গুলি লেগেছে। এর পর থেকে মোহাম্মদকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার ‘কাইহান’ এর সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটির এডিটর ইন চিফ হোসেন শরীয়তমাদারি জানান, ‘গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের সংঘর্ষের সময়ে অন্তত দুটি বুলেট তার বুকে বিঁধেছে। এতে তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে একটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আরব ইন্টেলিজেন্স দেশটির সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।’
যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এ বিষয়টিকে অস্বীকার করে বলছে, ‘সৌদি রাজপ্রাসাদের বাইরে তেমন কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। সেসময় আকাশে উড়া একটি অনিবন্ধিত খেলনা ড্রোনকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করে নিরাপত্তারক্ষীরা।’
এদিকে গোলাগুলির সময় সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান কোথায় ছিলেন তা নিয়েও দুই রকম তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। মিররের খবরে বলা হয়েছে, গোলাগুলির সময় যুবরাজকে নিরাপদে পার্শ্ববর্তী সেনা বাঙ্কারে সরিয়ে নেয়া হয়। অন্যদিকে স্থানীয় পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে নিউজ উইকের খবরে বলা হয়, ওই সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান ওই প্যালেসে ছিলেন না। তিনি দিরিয়ায় তার একটি ফার্মে অবস্থান করছিলেন।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজপ্রাসাদের বাইরে ভয়াবহ গোলাগুলির চিত্র দেখা গেছে। এমনকি প্রাসাদের আশেপাশে ট্যাঙ্ক এবং অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের যানও দেখা যায় । এসব থেকেই অনেকের ধারণা, সেখানে হয় অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে বা ভবনের ভেতর থেকেই প্রতিশোধমূলক কোনো আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে। ফারস নিউজ এজেন্সি বুধবার এক খবরে জানিয়েছে, ২৮ এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রথমবারের মতো রিয়াদ ভ্রমণের সময়ও মোহাম্মদ বিন সালমান গণমাধ্যমের সামনে আসেননি। তবে ওই সময় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ রিয়াদে মোহাম্মদ বিন সালমান ও রেক্স টিলারসনের মিটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে।
গত বছরের জুনে নিজের চাচাতো ভাইকে যুবরাজের পদ থেকে সরিয়ে দিলে আলোচনায় আসেন ৩১ বছর বয়সী মুহাম্মদ বিন সালমান। এর পর থেকেই সৌদি আরবে নানা অর্থনৈতিক ও সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছেন যুবরাজ। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে নানা আলোচনার জন্ম দেন তিনি।
গত নভেম্বরে সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে প্রিন্স, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী এবং ধনকুবের ব্যবসায়ীরা ছিলেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে  প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। যদিও পরে ধীরে ধীরে ‘আপসরফার’ মাধ্যমে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Share this post

PinIt
scroll to top