বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ব্যাংক’র ঠিকানা ভারত

indian-banks.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ মে) :: অভূতপূর্ব প্রতারণা ও কুঋণে ডুবে থাকা ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো চলতি বছর বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে কম মুুনাফা দিতে পেরেছে। তবে নতুন কয়েকটি ব্যাংক সর্বোচ্চ লভ্যাংশ প্রদান করে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির সম্ভাবনার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রেখেছে। সেই সঙ্গে বেশকিছু ভারতীয় বেসরকারি ব্যাংক বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যাংকের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

উদাহরণ হিসেবে চলে আসতে পারে দেশটির এইউ স্মল ফিন্যান্স ব্যাংকের নাম। প্রতিষ্ঠানটির রিটার্ন অন ইকুইটি বা আরওইর পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ। চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ হার ১৫ শতাংশ, জেপি মরগান অ্যান্ড চেজের ১১ শতাংশ। ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি বাজার মূলধনের ৪৩০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আরওইর গড় ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।

এডেলওয়াইস সিকিউরিটি লিমিটেডের বিশ্লেষক আদিত্য নারায়ণ এ প্রসঙ্গে বলেন, ভারতের ব্যাংকগুলো স্পষ্ট দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কনজিউমার বা ভোক্তা ব্যাংকগুলো শক্তিশালী ভোগব্যয়ের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। এসব ব্যাংকগুলোয় ঋণ চাহিদাও যথেষ্ট। অন্যদিকে হোলসেল ব্যাংকগুলো অর্থনীতির পুনর্গঠন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করছে। আরো স্পষ্ট করে বললে, হোলসেল ব্যাংকগুলো ঋণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করায় তারা যথেষ্ট মাত্রায় ঝুঁকিবিমুখ হয়ে উঠেছে; আর এর ফলে মূলধনমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী রিটেইল ব্যাংকগুলোর জন্য সুবিশাল একটি বাজার উন্মুক্ত হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশটিতে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার ফলেই দুটি একদম নতুন ঋণদাতার জন্ম হয়েছে, যাদের ওপর বিনিয়োগকারীদের উচ্চাশা জন্মেছে। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ফার্ম টেমাসেক হোল্ডিং চলতি মাসে ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারে এইউ স্মল ফিন্যান্স ব্যাংকের ৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। গোল্ডম্যান স্যাকসও এ মাসে বন্ধন ব্যাংকের শেয়ার কিনতে উদ্যোগ নিয়েছে।

ভারতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আরো বছরখানেক বাকি। সাধারণত এ সময়ে সরকার ভোট বাড়ানোর তাগিদে পশ্চাত্পদ এলাকাগুলোয় ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। বন্ধন পূর্ব ভারতের ব্যাংকিং সেবাবিহীন অনুন্নত অঞ্চলগুলোয় মনোনিবেশ করছে। অ্যাঞ্জেল ব্রুকিং লিমিটেডের বিশ্লেষক জয়কিশান পার্মারের মতো, এটি একটি উচ্চলাভের ব্যবসা। আশা করছি, বন্ধন ব্যাংক শক্তিশালী হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে থাকবে।

ভারতের বেসরকারি ব্যাংকগুলো সবচেয়ে মূল্যমানের ব্যাংক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তৃতীয় ভারতীয় কোম্পানি হিসেবে জানুয়ারিতে এইচডিএফসি ব্যাংক লিমিটেডের বাজার মূলধন ৫ ট্রিলিয়ন রুপি (৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) ছাড়িয়েছে। গোল্ডম্যানের ধারণা, ২০২০ সালের মধ্যে এইচডিএফসির বাজার মূলধন ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ঋণদাতা এ প্রতিষ্ঠানটি গত মাসে আট প্রান্তিকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ফি আয় ঘরে তুলেছে। পাশাপাশি তাদের মোট ঋণের ৭০ শতাংশ হচ্ছে রিটেইল ঋণ।

ইন্ডাসব্যাংক লিমিটেড ‘ট্রিপল বি’ বা এর নিচে রেটিংধারী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ঋণসুবিধা এক বছর আগের ৪৮ শতাংশ থেকে ৩৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। কোটাক মহিন্দ্র ব্যাংক লিমিটেড সম্পদ মানে অবনমন না এনেও তাদের শক্তিশালী ঋণপ্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ন রেখেছে।

এর ঠিক উল্টো চিত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয়। ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকে দেশটির বৃহত্তম ঋণদাতা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ১০০ কোটি ডলার লোকসানের ঘোষণা দিয়েছে। আর ২০০ কোটি ডলারের প্রতারণার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ভারতের ব্যাংকিং ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লোকসানের ঘোষণা দিয়েছে।

মুডি’স ইনভেস্টরস সার্ভিসের স্থানীয় শাখা আইসিআরএ লিমিটেড জানিয়েছে, ২০১৯ সালের মার্চ নাগাদ ভারতের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এ হার হবে প্রায় ২৫ শতাংশ।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri