izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর একরামুলের নিহতের ঘটনা “টক অব দ্যা কান্ট্রি”

akram-talk-of-the-country.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৮ মে) :: বাংলাদেশে মাদক-বিরোধী বিশেষ অভিযানে টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও জনপ্রিয় পৌর কাউন্সিলর মো. একরামুল হক নিহতের ঘটনা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াসহ প্রায় সব মিডিয়াতেই এখন আলোচিত খবর নিরাপরাধ ও সৎ ব্যক্তিত্ত মো. একরামুল হক নিহতের ঘটনা।

বিবিসি বাংলা, প্রথম আলো, কালের কন্ঠ,ডেইলি স্টার,সমকাল.যুগান্তর,আমাদের সময় সহ প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যম পৌর কাউন্সিলর একরামের নিহতের ঘটনায় গুরুত্বসহকারে সংবাদ ছাপা হয়।

বিবিসি বাংলা এবং প্রথম আলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজার পৌর মেয়রের খোলা চিঠি নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। আর কালের কন্ঠ একরাম নিহতের ঘটনায় কক্সবাজারের বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে।

এছাড়া প্রথম আলো ও আমাদের সময় একরামের দুই মেয়ের খোলা চিঠি ‍”প্রিয় বাবা, কেমন আছো আমরা ভালো নেই” এ লেখাটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে।

এদিকে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহতের ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে টেকনাফে। এলাকাবাসীর দাবি, একরামুল হক ইয়াবা ব্যবসায় সংশ্নিষ্ট ছিলেন না। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের অভিযানে একরাম নিহত হয়েছেন কি-না, তা তদন্তের দাবি উঠেছে।

অপরদিকে নিহত একরামুলের বিধবা স্ত্রী তাঁর স্বামীর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়াকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এর তদন্ত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর স্বামী ইয়াবা কারবারের তালিকার কারণে হত্যার শিকার হননি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনার কথা বলে। একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমার স্বামীকে শনিবার সকাল থেকেই জায়গা-জমি নিয়ে বৈঠকে বসতে একটি মহল চাপ দিয়ে আসছিল। আমার স্বামী বারবার বলছিলেন তিনি ইফতারের পর বসবেন। ইফতারের পর তিনি যথারীতি বৈঠকে বসেছিলেনও। ’

একরামের স্ত্রী আরো বলেন, অভিযানের সময়টিকে কাজে লাগিয়েছে কুচক্রীরা। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী যাওয়ার পথে মোবাইলে বলেছিলেন, ‘ওদের সঙ্গেই আমাকে হ্নীলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ আয়েশা বেগম আরো বলেন, তাঁর স্বামী সেদিন ইফতারের পর বের হওয়ার সময় তাঁর কাছে ৫০০ টাকা চান মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে। কিন্তু ঘরে ছিল মাত্র ২০০ টাকা। পরে তিনি পাশের এক হোটেলের ম্যানেজারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা হাওলাত করে এনে দেন। তিনি জানান, তাঁদের একটি ঘর নেই। তাঁরা থাকেন কেবল একটি রুমের ঘরে এবং একটি বিছানায় দুই কন্যাসহ।

একরামের স্ত্রী জানান, তাঁদের দুই কন্যা তাহিয়া হক অষ্টম শ্রেণি ও নাহিয়ান হক ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। মেয়েদের টিউশন ফি এবং ঘরের পাঁচ মাসের বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া রয়েছে। তাঁর ব্যাংকের হিসাবেও কোনো টাকা নেই। এমন একজন ব্যক্তিকে কোনোভাবেই ইয়াবা কারবারের দায়ে হত্যা করতে পারে না—এমনই বিশ্বাস আয়েশা বেগমের।

জানা গেছে, টেকনাফ পৌরসভার মরহুম আব্দুস সাত্তার ছিলেন জমিদার। তার চতুর্থ সন্তান হলেন একরামুল হক। বাবা মারা যাওয়ার পর সবাই আলাদা হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সম্পত্তিগুলো শূন্যের কোটায় চলে আসে। বাবার পৈতৃক বাড়ি থেকে ভাগাভাগির মাধ্যমে উত্তরাধিকার সূত্রে একটু পান একরাম। একরামের দুই মেয়ে। দুজনই টেকনাফ বিজিবি স্কুলে পড়াশোনা করে। এর মধ্যে বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে আর ছোট মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে। পৈতৃকভাবে পাওয়া ছোট্ট বাড়িতে দুই মেয়েকে নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করতেন একরামুল হক। তার সম্পতি বলতে ছিল শুধু একটি মোটরসাইকেল এবং একটি কালো চশমা। ওই মোটরসাইকেলে দুই মেয়েকে প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছে দিতেন আর নিয়ে আসতেন।

বিবিসি বাংলা তাদের প্রতিবেদনে লেখে…….

বাংলাদেশে মাদক-বিরোধী বিশেষ অভিযানে স্বার্থান্বেষী মহল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ভুল তথ্য দিয়ে টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর মো. একরামুল হককে হত্যা করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে এই অভিযোগ করেছেন।

রোববার রাতে লেখা এই চিঠিতে মি. চৌধুরী একরামুল হককে একজন ত্যাগী নেতা ও আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেন।

“মাদক বিরোধী অভিযানকে যখন দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা স্বাগত জানিয়েছেন ঠিক তখনই আপনার এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা একাত্তরের দোসররা,” চিঠিতে তিনি লেখেন, “তারা ইয়াবা বিরোধী অভিযানের দোহাই দিয়ে আপনার সন্তানকে হত্যা করেছে।”

“যার চাল চুলো নেই, থাকার জন্য বাড়ি নেই, পরিবার ও সন্তানদের লেখাপড়া চালানোর জন্য যাকে নির্ভর করতে হয় ভাইদের উপর, বন্ধুদের উপর; আওয়ামী লীগকে ভালবেসে জনগণকে সেবা করতে গিয়ে দেনার দায়ে যার সব শেষ তাকে বানানো হচ্ছে ইয়াবা গডফাদার! হায় সেলুকাস।”

তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে তাৎক্সণিকভাবে আইনশৃঙ্খলারাক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য জানা যায়নি।

গত ২৬শে মে গভীর রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মিঠাপানির ছড়া এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে এক ‘বন্দুকযুদ্ধে” টেকনাফের তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হন।

র‍্যাব বলছে, সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, পাঁচটি গুলি ও ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার মেয়রের ফেসবুক পোস্ট।
Image caption-কক্সবাজার মেয়রের ফেসবুক পোস্ট।

একরামুল হকের মৃত্যু সম্পর্কে র‍্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০১০/১১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার নাম ছিল বলে র‍্যাব দাবি করেছে।

কিন্তু একরামুল হকের মৃত্যুর খবর প্রচারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িতরা বলছেন, মি. হক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন না। সেটা হলে তার আর্থিক অনটন থাকতো না।

টেকনাফ থানার ওসি রনজিৎ কুমার বড়ুয়া জানান, একরামুল হকের বিরুদ্ধে ইয়াবাসংক্রান্ত কোনো মামলা নেই।

অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে র‍্যাব-পুলিশের অভিযানে গত দু’সপ্তাহে প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছে।

কোন নিহতের সংখ্যা এখন প্রায় একশ’র কাছাকাছি। মাদক বিরোধী অভিযানে নিহত এবং গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

‘এসব ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধকে’ বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর তীব্র সমালোচনা করছে।

সরকারের পক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এই অভিযানকে সমর্থন করে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন, তরুণ সমাজকে সর্বনাশা ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।এই অভিযানে দেশের মানুষ ‘খুশি’ হয়েছে বলেও তারা দাবি করছেন।

কালের কন্ঠ তাদের প্রতিবেদনে লেখে…….”এসব কিসের ষড়যন্ত্র 

বন্দুকযুদ্ধে’ কাউন্সিলর একরামুলের নিহত হওয়া নিয়ে সোমবার কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় তুলকালাম হয়েছে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার বেশির ভাগ অংশজুড়েই ছিল বিষয়টি।

সভায় অভিযোগ ওঠে—টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যা করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় টেকনাফ-উখিয়া আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এবং বর্তমান এমপি আবদুর রহমান বদির মধ্যে ইয়াবা কারবার নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়।

দলের সাবেক এমপি ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বর্তমান এমপি আবদুর রহমান বদিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘আপনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এ দেশে ইয়াবা পাচারের কাজ শুরু করেছেন। আপনি গত ১০ বছরে গোটা দেশটাকে ইয়াবায় ছেয়ে দিয়েছেন। এমনকি আপনার কারণেই আজ আমার দুই সন্তানের নাম ইয়াবা তালিকায় ওঠানো হয়েছে। ’

জবাবে বদি বলেন, ‘আমি যখন এমপি হওয়ার পর দেশে ইয়াবা ছড়িয়ে দিয়েছি, তাই আমাকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যবস্থা আপনারা করুন। আপনারা যাকে দলীয় প্রার্থী করবেন আমি তাঁর পক্ষেই নির্বাচনে ভূমিকা রাখব। ’

ফেসবুকে নিন্দার ঝড় :

একরাম নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় অব্যাহত রয়েছে। ইয়াবাবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একরামকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে বলে চলছে সর্বত্র সরব সমালোচনা।

কক্সবাজারের কবি মানিক বৈরাগী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয়, শ্রদ্ধেয় বেনজির আহমদ, ছাত্র অবস্থায় আপনি কবিতা লিখতেন। এখনো লিখতেন কি না জানি না। ’ মানিক বৈরাগী একরামুলের নিহত হওয়া সম্পর্কে লিখেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন তুলছে আসল অপরাধীকে আড়াল করতে ইহা একটি আবেগী প্রতারণা। 

জেলা আওয়ামী লীগের ক্ষোভ

কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, আবদুর রহমান বদি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, একরাম একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন এমন কোনো তথ্য তাঁদের কাছে ছিল না। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চান তাঁরা।

সভা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, সভায় একরাম নিহতের ঘটনা আলোচনা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেবে জেলা আওয়ামী লীগ।

প্রসঙ্গত গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালিয়াপাড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়ার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং একই ওয়ার্ডে পরপর তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, টেকনাফ বাস স্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও টেকনাফ মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

আর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে ই-মেইলে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বাবার নাম বলা হয়েছে মোজাহার মিয়া ওরফে আবদুস সাত্তার। বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার নাজিরপাড়া। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, শীর্ষ গডফাদার; তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top