রিয়াল মাদ্রিদে জিদানের উত্তরসূরি হচ্ছেন কে ? কেমন হবে জিদানবিহীন দলবদল ?

zidane.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৩১ মে) :: গত শনিবারই টানা তৃতীয় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে। রিয়াল মাদ্রিদের তাই এখন সময়টা উৎসবের। কিন্তু উৎসবের মধ্যেই বিদায়ের করুণ রাগিনী বাজিয়ে দিলেন কোচ জিনেদিন জিদান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হ্যাটট্রিক শিরোপায় দলকে অমরত্বের আসনে বসিয়ে বৃহস্পতিবার রিয়ালের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জিদান। কেন আচমকা এই পদত্যাগ? কারণ ব্যাখ্যায় জিদান জানিয়েছেন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা। বলেছেন সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সবকিছুতেই পরিবর্তন দরকার রিয়ালের। কিন্তু সেটাই তার পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়। কারণ আরও আছে।

স্পেনের গণমাধ্যমগুলো জিদানের এই হঠাৎ পদত্যাগের পেছনের সেই কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। গবেষণা করে তারা উদঘাটন করেছে জিদান আসলে পদত্যাগ করেছেন মোট ৫টি কারণে। সেই ৫ কারণ কি কি, পরিবর্তন পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

১. মিশন পরিপূর্ণ

রিয়ালের পধান কোচ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আড়াই বছর। এই স্বল্প সময়েই তিনি ক্লাবকে উপহার দিয়েছেন ৯টি শিরোপা! যার মধ্যে ৩টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। টানা তিন বছরে তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা, এতোদিন এটা ছিল অবিশ্বাস্য। নিজের কারিশমায় জিদান সেটাকেই করেছেন বাস্তব। ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে রিয়ালকে উপহার দিয়েছেন টানা তিন শিরোপা।

শিরোপার হ্যাটট্রিক করে ক্লাবকে বসিয়েছেন অমরত্বের আসনে। আর কি চাই! জিদান তাই মনে করছেন তার মিশন পরিপূর্ণ। অবিশ্বাস্য এই সাফল্যের পর জিদান বুঝতে পেরেছেন, সাফল্যের এই ধারা ধরে রাখতে রিয়ালের এখন পরিবতর্ন প্রয়োজন। সেটা শুধু নতুন নতুন খেলোয়াড় কেনা নয়, পরিবরর্তন দরকার দিক নির্দেশনা, কোচিং পদ্ধতিতেও। তাই নিজে থেকেই সরে দাঁড়ালেন।

২. লিগ ও কাপ ব্যর্থতা

টানা তৃতীয় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছে বটে। তবে স্পেনের ঘরোয়া ফুটবলে মৌসুমটা একদমই ভালো যায়নি জিদানের রিয়ালের। মৌসুমের অর্ধেক না যেতেই লিগ শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে পড়ে। কোপা ডেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেও ছিটকে পড়ে পুঁচকে লেগানেসের কাছে হেরে! মৌসুমের শুরুর দিকের ওই ব্যর্থতায় শুরু হয়ে যায় সমালোচনা।

বাইরের লোকেরা তো বটেই, রিয়ালের ঘরের মানুষদেরও কেউ কেউ জিদানের কোচিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেন। ওই ক্লাব কর্তাদের আচরণ একদমই মেনে নিতে পারেননি জিদান। মনে মনে তখনই নাকি পদত্যাগের পরিকল্পনা এঁটে ফেলেছেন জিদান! অধিনায়ক সার্জিও রামোস যেমনর স্পষ্টই বলেছেন, ‘মাস তিনেক আগেই পদ্যতাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিদান।’

মনে মনে পাকা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেও তিনি অপেক্ষা করছিলেন সঠিক সময়ের জন্য। শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের পরই জিদানের মনে হয়েছে, সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই তার সঠিক সময়। পদত্যাগের ঘোষণায় তিনি বলেছেনও, ‘সঠিক সময়েই সরে যাচ্ছি আমি।’

৩. ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও গ্যারেথ বেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যত

শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের পরই রোনালদো ও বেল রিাল ছাড়ার ইঙ্গিত দেন। দুজনেই জানিয়ে দেন, রিয়ালে তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত। তবে দুজনের কারণটা ভিন্ন। রোনালদোর কারণটা আর্থিক। আর বেলের ঘটনাটা বেশি বেশি ম্যাচ খেলা নিয়ে। বেল চান বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে। সর্বোপুরি দলে চান তারকা মর্াদা।

কিন্তু ফর্মহীনতার কারণে কোচ জিদান তাকে এই মৌসুমে বেশির ভাগ ম্যাচেই বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছেন। খেলিয়েছেন বদলি হিসেবে। কিন্তু বেল চান প্রতিটা ম্যাচেই তাকে শুরুর একাদশে খেলানো হোক। স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক এএস জানিয়েছে, ওয়েলস তারকার এই মনোভাবে প্রচণ্ড বিরক্ত জিদান। তিনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন। তাছাড়া বিশ্বসেরা খেলোয়াড় হিসেবে জিদানকে সবাইশুরুতেই সবাই খুব সমীহ করত। কিন্তু বেল ও ইসকো ইস্যুতে রিয়ালের ড্রেসিংরুমে জিদানের সেই সম্মানে ভাটা পড়ে। বিষয়টি জিদানকে কষ্ট দিয়েছে। তাই অন্যান্য বিষয়ের এই ব্যাপারটিও মিলিয়ে সরে দাঁড়ানোকেই যুক্তিসংগত মনে করেন জিদান।

৪. তার মতামত না নিয়েই সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের চুক্তি পরিকল্পনা

ক্লাব নতুন কোন খেলোয়াড় কিনবে, কাকে বিক্রি করবে, সেটা মূলত কোচদের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতেই হয়। কিন্তু এবার রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ কোচ জিদানের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছামত ট্রান্সফার পরিকল্পনা সাজান। ব্যাপারে মোটেই ভালো লাগেনি জিদানের। ভেতরে ভেতরে অসম্মানিত বোধ করেছেন।

এমনিতে সভাপতি পেরেজের সঙ্গে জিদানের সম্পর্কটা দারুণ। ২০০০ সালে এই পেরেজই তৎকালীন রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে জুভেন্টাস থেকে জিদানকে রিয়ালে নিয়ে আসেন। ২০১৬ সালে এই পেরেজই অনভিজ্ঞ জিদানকে দলের প্রধান কোচ করার সাহস দেখান। পেরেজের অধীনে মোট ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে রিয়াল। সেই ৫টি শিরোপাতেই প্রত্যক্ষ অবদান আছে জিদানের। একটি শিরোপা জিতেছেন খেলোয়াড় হিসেবে। একটি সহকারী কোচ হিসেবে। বাকি তিনটি প্রধান কোচ হিসেবে। জিদান তাই খুবই আস্থার পাত্র তার।

কিন্তু দলবদল বিষয়ে এবার সেই আস্থা জিদানের প্রতি দেখাননি পেরেজ। বিশ্বমানের একজন গোলরক্ষক কেনার জন্য মরিয়া রিয়াল। জানুয়ারিতে অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের গোলরক্ষক কেপাকে কেনার দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু জিদান সভাপতি পেরেজের এই ইচ্ছার সঙ্গে একমত নন। বর্তমান এক নম্বর গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের উপরই অগাধ আস্থা তার। জিদানে সরাসরিই বলেছেন, ‘নাভাসাই আমার গোলরক্ষক।’

শুধু গোলরক্ষক প্রসঙ্গেই নয়, সভাপতি পেরেজের সঙ্গে কোচ জিদানের মতের বিরোধ দেখা দেয় আরও একাধিক বিষয়েও। পেরেজের ইচ্ছা করিম বেনজেমার পরিবর্তে বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভান্ডভস্কিকে কেনার। পোলিশ এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অনেক দূর এগিয়েও যায় রিয়াল। কিন্তু জিদানের আস্তা বেনজেমার উপরই। এই বিষয়গুলো নিয়ে ভেতরে ভেতরে তাই পেরেজ ও জিদানের মধ্যকার সম্পর্কটায় ফাটল ধরেছে। যদিও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধায় টান পড়েনি। তবে কোচ হিসেবে তার মতামতকে গুরুত্ব না দেয়ায় জিদান মনক্ষুন্ন হয়েছেন। তার আচমকা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

৫. মাথা উঁচু করে বিদায় নেওয়া

খেলোয়াড়ী জীবনেই নিজের পাহাড়সম ব্যক্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন জিদান। ফরাসি মহানায়ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, সারা দুনিয়া দিলেও তার ব্যক্তিত্বকে কেউ টলাতে পারবে না! কি নিয়ে মনোমালিন্যের কারণে যেন ২০০৬ সালে চুক্তি থাকার পরও খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টেনে দেন জিদান। সভাপতি পেরেজসহ রিয়ালের তৎকালীন কর্তারা শত বুঝিয়েও নিজের নেওয়া অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে জিদানতে টলাতে পারেননি।

অবসরের কারণ ব্যাখ্যায় জিদান বলেছিলেন খেলায় আগের মতো স্বচ্ছন্নবোধ না করার কথা। অথচ যখন অবসর নেন, তখন তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার তিনি। বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী চুক্তির মাধ্যমে তখন তার বার্ষিক আয় ৩০০ মিলিয়ন ইউরো! একনজ ফুটবলারের জন্য বছরে এতো টাকা আয় করাটা তখন ছিল অবিশ্বাস্য ব্যাপার। অথচ কাড়ি কাড়ি টাকা কামানোর দরজা বন্ধ করে দিয়ে জিদান কিনা নিয়ে ফেলেন অবসর!

সেই জিদান নিজের ব্যক্তিত্বের দাবিতে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন, এ আর নতুন কি! তা রিয়ালের কোচের পদ যতই লোভনীয় হোক, জিদানের কাছে তার ব্যক্তিত্বই আগে। সম্মানই বড়। জিদান ভালো করেই জানেন, রিয়ালের কোচের চাকরিটা চিরস্থায়ী নয়। রিয়াল শুধু সাফল্যই চিনে। যতদিন সাফল্য পাবেন, ততদিনই দাম আছে। পান থেকে চুন খসলেই ছুঁড়ে ফেলবে রিয়াল। তা তিনি যত বিখ্যাত কোচই হোন।

জিদান এটাও জানেন, রিয়ালের এই অবিশ্বাস্য শিরোপা সাফল্যধারা বেশি দিন থাকবে না। সাফল্যের পথ একদিন হারাবেই। তখন ব্যর্থতার দায় নিয়ে মাতা নিচু করে বিদায় নিতে হবে। তার চেয়ে সময় থাকতে মাথা উঁচু করে বিদায় নেওয়াই ভালো। তাতে অন্তত নিজের ব্যক্তিত্ব থাকবে। তাই তিনি বিজয়ের মুকুট মাথায় নিয়েই সরে দাঁড়ালেন।বিজয়ী বীরেরা তো মাথা উঁচু করেই বিদায় নেন!

জিদানের উত্তরসূরি হচ্ছেন কে ?

হুট করেই রিয়াল মাদ্রিদ কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জিনেদিন জিদান। এ ফরাসী কিংবদন্তির পদত্যাগের পরপরই ফুটবল পাড়ায় আলোচনা, কে হচ্ছেন রিয়ালের পরবর্তী কোচ? ২০১৪ সালে জার্মানিকে শিরোপা এনে দেওয়া জোয়াকিম লোয়ের নাম বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। আছে আর্সেন ওয়েঙ্গার, মাউরিসিও পচেত্তিনো, ম্যালিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি, এন্টোনিও কন্তে ও গুতির নামও।

২০১৬ সালে রাফায়েল বেনিতেজকে বরখাস্ত করার পর রিয়ালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন জিদান। মৌসুমের শেষ পথে দলের দায়িত্ব নিয়েই জিতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা। শুধু তাই নয় টানা তিনবারই এ শিরোপা নিজেদের কাছেই রেখেছেন জিদান। তিন মৌসুমে দলের হয়ে জিতেছেন মোট নয়টি ট্রফি। দারুণ সফল যাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের কথা জানান জিদান।

আর জিদানের পদত্যাগের পর পরই কে হচ্ছেন পরবর্তী মাদ্রিদ কোচ, এ নিয়ে শুরু হয়ে গেছে নানা জল্পনা কল্পনা। স্প্যানিশ গণমাধ্যম বর্তমান জার্মান কোচ লোয়ের নামটাই জোরালো ভাবে জানাচ্ছে। বিশ্বকাপ শেষে জার্মানদের কোচ পদ আর থাকতে চাইছেন না লো। এছাড়াও রিয়ালের যুব দলের কোচ গুতিকেও রেখেছেন সম্ভাবনার তালিকায়।

রিয়ালের কোচ হওয়ার দৌড়ে ইংলিশ লিগের তিন কোচের নামও আছে। সদ্য সাবেক হওয়া আর্সেনালের ফরাসী কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের সঙ্গে টটেনহ্যাম হটস্পারের আর্জেন্টাইন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো ও চেলসির ইতালিয়ান কোচ এন্টোনিও কন্তের নাম উঠেছে। তাদের সঙ্গে সমান তালে শোনা যাচ্ছে সিরি আ চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসের ইতালিয়ান কোচ ম্যালিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির নামও।

কেমন হবে জিদানবিহীন দলবদল?

রিয়াল মাদ্রিদের ১৩তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপো জয়ের উৎসব এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে বসে নেই রিয়ালের কর্মকর্তারা। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আগামী মৌসুমে কীভাবে স্কোয়াড আরো শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে ভাবছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। রিয়ালে খেলোয়াড় কেনা ও বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন কোচ, ক্লাব প্রেসিডেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সদস্য হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ ও জুনি কালাফাত; যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে স্কাউটিং করে থাকেন।

আগামী মৌসুমের দল গোছানো নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের পরই বৈঠকে বসেন রিয়ালের নীতিনির্ধারকরা। সেখানে কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে গতকাল হেড কোচের পদ থেকে জিনেদিন জিদান সরে দাঁড়ানোয় রিয়ালের পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কয়েক মাস আগেই। এরই মধ্যে কাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়দের এজেন্টের সঙ্গেও প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। কোচ এবং ক্লাব কোন খেলোয়াড়কে চান, তা নিয়ে এখন সময় এসেছে মনস্থির করার। কিছু জায়গায় মতভেদ হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। যেমন— অ্যাথলেটিক বিলবাও থেকে গোলকিপার কিপা আরিজাবালাগাকে কেনার আগ্রহ ছিল না জিদানের। আবার ক্লাব তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী। তবে জিদান পদত্যাগ করায় এখন আর এ দ্বন্দ্ব থাকছে না।

এটা বিশ্বকাপের বছর এবং সব সময়ই বিশ্বকাপ দলবদলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে। ২০১৪ সালে যেমন ব্রাজিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা কলম্বিয়ার হামেশ রদ্রিগেজকে মোনাকো থেকে ৮৪ মিলিয়ন ইউরোয় কিনে নেয় রিয়াল। খেলোয়াড়টিকে নিয়ে অবশ্য রিয়ালের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, তিনি এখন ধারে খেলছেন বায়ার্ন মিউনিখে। হামেশের মতো বড় তারকাকে কেনার ক্ষেত্রে অবশ্য ভেবেচিন্তেই এগোবে রিয়াল ম্যানেজমেন্ট।

গত পাঁচ বছরে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এ সময় তারা ‘মাত্র’ ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ইউরো খরচ করে খেলোয়াড় কিনেছে, বিপরীতে খেলোয়াড় বিক্রি করে পেয়েছে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। ‘মাত্র’ বলা হয়েছে এ কারণেই যে, ইউরোপের অনেক ক্লাবই দুই-তিন মৌসুমে এই অর্থ খরচ করে তেমন বড় কোনো সাফল্য পাচ্ছে না। যেমন— ম্যানসিটি ও পিএসজি। একই সময়ে বার্সেলোনা খেলোয়াড় কিনতে খরচ করেছে ৭৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো, খেলোয়াড় বিক্রি করে পেয়েছে ৪০ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। এর মধ্যে নেইমারকে বিক্রি করে এসেছে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো।

গ্রীষ্মের দলবদল সামনে রেখে একটি নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মাদ্রিদে— নেইমার। ধারণা করা হচ্ছে, রিয়ালের নিয়োগ কমিটির আসন্ন বৈঠকে নেইমারের বিষয় নিয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। এছাড়া গোলকিপার, সেন্টার হাফ ও রাইট ব্যাক পজিশনও থাকবে এজেন্ডায়। ফরোয়ার্ড লাইনে তরুণ খেলোয়াড় মারিয়ানো ডিয়াজকে লিওঁ থেকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে; যিনি এ মৌসুমে ফরাসি ক্লাবটির হয়ে ২১ গোল করেছেন। তিনি রিয়ালে ছিলেন ব্যাক-আপ স্ট্রাইকার হিসেবে। তবে গত মৌসুমে তাকে ৮০ লাখ ইউরোয় বিক্রি করে দেয়া হয় লিওঁর কাছে। এখন দারুণ ফর্ম দেখানো ডিয়াজকে ফেরানোর পরিকল্পনা।

নেইমার যদি পিএসজি ছাড়তে না চান, সেক্ষেত্রে এডেন হ্যাজার্ড, মোহাম্মদ সালাহ কিংবা পাওলো দিবালার মতো কাউকে কেনার চেষ্টা করবে রিয়াল। লস ব্লাঙ্কোসদের ফরোয়ার্ডে অবশ্য এ গ্রীষ্মেই যোগ দিতে যাচ্ছেন ১৮ বছরে পা দিতে চলা ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়-বালক ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তিনি রিয়ালের পুরো প্রাক-মৌসুমই পাবেন।

গোলবারের নিচে এতদিন ধরে কিপার নাম উচ্চারিত হলেও এখন নতুন করে উঠে এসেছে রোমার অ্যালিসনের নাম। বয়সে তরুণ এবং অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়ে কেনা যাবে, এ কারণে তাকে নিয়ে ভাবছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা। ম্যানইউর ডেভিড ডি গিয়া ও চেলসির থিবো কোর্তোয়াকে কিনতে অনেক বেশি অর্থ লাগতে পারে বলেই তাদের কথা আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলছে রিয়াল ম্যানেজমেন্ট।

রাইট ব্যাক পজিশনে রিয়ালের রাডারে রয়েছেন সোসিয়েদাদের আলভারো ওদ্রিওজোলা। খেলোয়াড়টির আশা, তার বাই-আউট ক্লজের ৪ কোটি ইউরো পরিশোধ করে তাকে বার্নাব্যুতে নিয়ে যাবে রিয়াল।

সেন্টার হাফে রিয়ালের ভাবনায় রয়েছেন নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের হোসে মারিয়া জিমিনেজ। চির বৈরিতার কারণে এমনিতে কেনা সম্ভব না হলে খেলোয়াড়টির বাই-আউট ক্লজের ৬ কোটি ৫০ লাখ ইউরো পরিশোধ করে তাকে উড়িয়ে আনার চেষ্টা করবে রিয়াল। বিকল্প হিসেবে রয়েছেন ইন্টার মিলানের মিলান স্ক্রিনিয়ার ও এসি মিলানের অ্যালেসিও রোমানোলি; যাদের দুজনকে কিনতে লাগতে পারে ৬ কোটি ইউরো।

মার্কা

 

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno