রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দুদিন অন্ধকারে : চরম কষ্ট ২ লাখ মানুষের

power-mn.jpg

মাঈনুদ্দিন খালেদ,নাইক্ষ্যংছড়ি(১০ জুন) :: রামু বিদ্যুৎ অফিসের আওতাধিন রামু ও পার্শ্ববর্তী ন্ইাক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ১০ জুন রোববার ও এর আগের দিন শনিবার দুদিন ধরে অন্ধকারে রামু বিদ্যুৎ অফিসের অদক্ষ পরিচালনা ও দূর্নীতির কারণে। ফলে এ দু উপজেলার ২ লাখ মানুষ দৈনন্দিন কাজ-কর্ম সম্পাদনে চরম কষ্টে দিন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে দিনের পর দিন।

রামু উপজেলা গেইট এলাকার রিদওয়ান কম্পিউটারের মালিক তারেক জানান,রামু উপজেলার শতাধিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্টানের সমাপনি পরীক্ষার্থীদের ডিআর জমা দেওয়ার তারিখ ছিল গতকাল ১০ মে রোববার। এ জন্যে প্রধান শিক্ষকরা খসড়া ডিআর প্রস্তুত করে কম্পিউটার ও ফটোকপি করে নিদির্ষ্ঠ তারিখে জমা দিতে এসে দেখতে পান বিদ্যুৎ নেই।

যেহেতু প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফরমের সাথে জন্ম নিবন্ধন কার্ট সংযুক্ত করতে হয়,সেহেতু এটিও একই পদ্ধতিতে প্রস্তুত করতে বিদ্যুতের দরকার ছিল। কিন্তু দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় এ কাজ গুলো তাদের ঠিকভাবে করা সম্ভব হয়নি। চরম কষ্টে অনেক শিক্ষক ফেরত গেছেন বিদ্যূৎ সমস্যার কারণে। আবার অনেকে তিনগুন টাকা খরচ করে জেনারেটার দিয়ে এসব কাজ শেষ করে ফেরত যায় কর্মস্থলে।

এদিকে রামুর গর্জনিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর একই অভিমত, বিদ্যুৎ অফিসের অদক্ষতা ও অবহেলায় দুদিন ধরে তাদের বাজার অন্ধকারে ছিল। একারণে আসন্ন ঈদে তাদের ব্যবসায় খুবই ক্ষতি হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো হোটেল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গির আলম,স্টোর মালিক আবু তাহের,আমিনুল্লাহ ও মুদ ব্যবসায়ী রুবেল প্রমূখ। তাদের মতো অন্যদের ও একই মত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী তোফাজ্ঝল হোসেন ভ’ইয়া জানান, পবিত্র রমজান। পাশাপাশি ঈদুল আজহা আসন্ন। উপজেলা ব্যাপী কত কাজ। অথচ বিদ্যুৎ নেই দুদিন ধরে। কী আজব ব্যাপার ! মানুষ অন্ধকারে কীভাবে বসবাস করবে ? কাজ কীভাবে করবে ?

গৃহিনী রাবেয়া খানম, জাহেদা বেগম ও জাইতুন নাহার এ প্রতিবেদকে জানান,তাদের ফ্রিজের সব মাছ মাংস ফল-ফলার নষ্ট হয়ে গেছে, দুদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায়।

এভাবে দু উপজেলা প্রতিটি সেক্টরের একাধিক সচেতন ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানান,রামুর বর্তমান আবাসিক প্রকৌশলী নুরুল আলম এখানে যোগদানের পর থেকে বিদ্যুতের এ কাহিল অবস্থা চলে আসছে।

ব্যবসায়ী,শিক্ষক,গৃহিনী, সরকারী কর্মচারী ও কৃষক সহ সকলের এই সূর,রামুতে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম আর দুর্নীতি আর সওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির ফোটা পড়লেই বিদ্যুৎ চলে যায়। যেন ছাগল দৌড়। শনিবার থেকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসে নি। অন্ধকারেই জীবনমান।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সস্পাদক ইমরান মেম্বার জানান, রামু বিদ্যুৎ অফিসের নিয়ন্ত্রনে যেহেতু নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাও- সেহেতু তাদের বলার অনেক কিছু আছে। বর্তমান প্রতিদিন অনির্ধারিত বিদ্যুত চলে যায়। লোডশেডিং এর কোন নিয়ম-নীতি নেই।

দুদিন-তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ চলে যায়। এটা কোন ধরণের নাগরিক সুবিধা- বোঝাই মুশকিল। এ সব কর্মকান্ড সরকারের ভাবমূর্তি অবশ্যই নষ্ট হবে। এসব মেনে নেয়া যায় না।

এ বিষয়ে রামু উপজেলা প্রকৌশলী নূরুল আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায় নি কোনবারই।

তবে এ বিষয় নিয়ে রামু উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মো: লুৎফর রহমান জানান, বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে জানতে গিয়ে পবিবেশ ও লাইনের সমস্যা থাকার কথা জানান বিদ্যুৎ অফিস। রাস্তা ঘাটের যত্র-তত্র গাছ রোপন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম কারণও বটে।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno