izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

কক্সবাজারের খুরুশ্কুলে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবছারকে হত্যা করেছে চেয়ারম্যান জসিম

IMG_20180621_152352.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক(২১ জুন) :: কক্সবাজার সদরের খুরুশ্কুলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুন নিহত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবছার কামালকে হত্যার উদ্দেশ্যে সরাসরি আঘাত করেছিলেন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন। এছাড়াও চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার আপন ছোট ভাই গিয়াস উদ্দীনসহ অন্যান্য আসামীরা আবছারকে নির্মমভাবে খুন করে। তাদের পিটুনিতেই মারা যায় আবছার কামাল-এমনটি দাবি করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত আবছারের বড় ভাই, স্ত্রী, মা ও ভাবিসহ পরিবারের সদস্যরা।

হত্যাকারী চেয়ারম্যান জসিমসহ জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত আবছারের স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এসময় নিহতের বড় ভাই ছৈয়দ উল্লাহ, স্ত্রী সাবিনা বেগম ও মা গোলবাহার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে আবছারের মামাতো ভাই জালাল উদ্দিন ও ভাতিজা বেলাল উদ্দিন তাদের আরো সমবয়সী মোবাইলে সেলফি তুলছিল। কিন্তু সে সময় জসিম উদ্দীন চেয়ারম্যানের ফুফাতো ভাই শফিউল্লাহ মোটর সাইকেলে আসার পথে বেলাল উদ্দীনদের সাথে তর্কে জড়ায় এবং তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে বেলালদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে শফিউল্লাহ চলে যায়। আবছার কামালের বড় ভাই মামলার বাদী ছৈয়দ উল্লাহ লিখিত বক্তব্যে বলেন, তর্ক ও ঝগড়ার কিছুক্ষণ পর চেয়ারম্যান জসিমের নেতৃত্বে শফিউল্লাহসহ আরো ৮/১০ লোক হাতে বন্দুক, হকিস্টিক, লোহার রড, লাঠি, হাতুড়ি নিয়ে এসে আমাদের বাড়ীতে হামলে পড়ে।

এসময় বিতর্কিত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে তার ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন, একই এলাকার মৃত আবু সোলতানের ছেলে শফিউল্লাহ ও মনসুর আলম, মৃত ভুতি’র ছেলে নাগু, ছৈয়দ কাজীর ছেলে ধলা মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জন আমাদের বাড়ীতে ঢুকে দরজা-জানালা, বারান্দা ও মুল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। ওই সময় আমি এবং আমার ছোট ভাই নিহত আবছার কামাল তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করি।

এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান জসিমের সরাসরি নির্দেশে তার ভাই গিয়াস উদ্দীন ও শফিউল্লাহসহ অন্যরা আমাকে (ছৈয়দ উল্লাহ) লাঠি দিয়া এলোপাতাড়িভাবে মারাত্মক আঘাত করে। এসময় মারধর থেকে বাঁচতে আমার ভাই আবছার কামাল বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু এই সময় তাকে এলোপাতাড়ি লাথি-কিল-ঘুষি মারতে মারতে টানা হেঁচড়া করে বাড়ীর সামনে রাস্তার উপর নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে হকিস্টিক ও লোহার রড় দিয়ে মাথার পিছনের ঘাঁড়ে এবং বুকের বাম পার্শ্বে উপর্যুপরিভাবে আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। তার অন্ডকোষে লাথিও মারে। শেষে চেয়ারম্যান জসিমও আবছার কামালকে হকিস্টিক দিয়ে পুনরায় মাথায়, মুখে, বুকে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে। এতে নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আবছার কামাল।

তাৎক্ষনিকভাবে আমিসহ প্রতিবেশী লোকজন এবং খুরুশকুল ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সদস্য শেখ কামাল এর সহায়তায় ভিকটিম আবছার কামালকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিয়ে যাই। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবছার কামালকে মৃত ঘোষনা করেন।

মামলা বাদি ছৈয়দ উল্লাহ আরো বলেন, সেদিনের চেয়ারম্যান জসিম ও তার লোকজনের হামলা ও ভাংচুরের ফলে অনুমান ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে খুরুশকুল ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন মেম্বার আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পরিকল্পিত খুনের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো শুরু করেছে।

এমনকি রাজনৈতিক খাতেও প্রভাবিত করাসহ বিশাল কিলিং মিশনের প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে খুনি চক্রের প্রভাবশালী সদস্যরা। তারা মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি ধুমকিও দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি চেয়ারম্যান জসিমসহ খুনিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে না নিলে আমাদের পরিবারের সবাইকে নিহত ছোট ভাই আবছার কামালের পরিনতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি ধুমকি দিচ্ছে। তাই আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

বিশেষ করে প্রধান আসামী স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়া সত্বেও পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের মধ্য থেকে প্রধান নেতৃত্বদানকারীকে তাৎক্ষনিক আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করায় সরকার এবং প্রশাসনের উচ্চ মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন মানবিক সহযোগিতা বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামাল উদ্দীন বলেন, জসিম উদ্দীন একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। একসময় তার বাহিনীর ও তার একে-৪৭ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে খুরশ্কুল অশান্ত ছিলো। সেই চিত্র এখনো বদলায়নি। বরং চেয়ারম্যান হওয়ার সুক্ষ্ম কৌশলে এখনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও সন্ত্রাস লালন করছে জসিম। শুধু তাই নয়; চেয়ারম্যান হওয়ায় তার নানা অপকর্ম ও অপরাধ আরো বেড়েছে। সে এখন কোটি কোটি কালো টাকার মালিক। ইয়াবা ব্যবসা ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে এত পরিমাণ টাকা মালিক বনে গেছে।

নিহত আবছার কামালের বড়ভাই মামলার বাদি ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আবছার কামাল হত্যাকান্ড ও মামলা নিয়ে এখন গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। খুনি চেয়ারম্যান জসিম কারাগারে থাকলেও অন্যান্য আসামীরা প্রতিনিয়ত আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। একই সাথে হত্যার ঘটনা ও মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা ষড়যন্ত্র। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri