বিশ্বকাপের প্রথমপর্বে আলোচিত ঘটনা সমুহ

worldcup_1st_round.png

কক্সবাংলা ডটকম(২৯ জুন) :: রোমাঞ্চ আর উন্মাদনা ছড়িয়ে শেষ রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথমপর্ব। ৩২ দলের ১৬টি বাড়ির পথ ধরেছে। বাকিরা খেলবে নক আউটে। ১৫ দিনের গায়ে জ্বর আনা উত্তাপের লড়াইয়ে ৪৮টি ম্যাচ কী পরিসংখ্যান-রেকর্ড আর আলোচিত রেখে গেল দেখে নেয়া যাক-

খেরোখাতা-
গ্রুপপর্বে সর্বোচ্চ পয়েন্ট- ৯। উরুগুয়ে, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া।

সর্বোচ্চ গোলদাতা– হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড), গোল সংখ্যা ৫। ৪টি করে গোল আছে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকুর।

মোট গোল– ১২২টি।

ম্যাচপ্রতি গোল– ২.৫টি।

সবচেয়ে বেশি গোল দিয়েছে– বেলজিয়াম, ৯টি।

সবচেয়ে কম গোল দিয়েছে– পানামা, ১টি।

সবচেয়ে বেশি গোল হজম করা দল- পানামা, ১১টি।

সবচেয়ে কম গোল হজম করা দল- উরুগুয়ে কোনো গোল খায়নি।

গোলমুখে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ- নেইমারের (ব্রাজিল), ১৭বার।

সবচেয়ে বেশি আক্রমণ– জার্মানির, ২৫২ বার।

কোনো এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল- ৭টি। বেলজিয়াম-তিউনিসিয়া।

কোনো এক ম্যাচে সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রমণ– ৩১, বেলজিয়াম-তিউনিসিয়া।

সবচেয়ে বেশি দৌড়েছেন– ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন। ডেনমার্ক মিডফিল্ডার গ্রুপপর্বে গড়ে ১২ কিলোমিটার করে মোট ৩৬ কিলোমিটার দৌড়েছেন।

মোট পাসের সংখ্যা– ৩৬,৩৪৯টি। ম্যাচ প্রতি যা ৭৫৭টি।

সবচেয়ে বেশি পাস- স্পেনের ২,০৮৯টি।

সবচেয়ে বেশি সফল পাস দিয়েছেন- টনি ক্রুস, ৩১০টি।

সবচেয়ে পাস দেখেছে– পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচ, ৯৯৭টি।

রক্ষণে সবচেয়ে সফল দল– ইরান। মোট ১৪৯টি ট্যাকল ও সেভ করেছে।

সবচেয়ে বেশি গোল ফিরিয়েছেন– মেক্সিকান গোলরক্ষক গির্লেমো ওচোয়া, ১৭টি।

মোট হলুদ কার্ড– ১৫৮টি। ম্যাচ প্রতি যা ৩.৪টি।

মোট লাল কার্ড– ৩টি। গড়ে ০.০৬টি।

সবচেয়ে কার্ড দেখা দল- পানামা, ১১টি। তাদের করা ফাউলের সংখ্যা ৪৯টি।

সবচেয়ে কম কার্ড দেখা দল– স্পেন, মাত্র ১টি।

যা রেকর্ড-
আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড- ৯ বার।

পেনাল্টির রেকর্ড- ২৪টি। যার ৬টিতে স্পটকিকে গোল আসেনি।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়- এসাম এল-হাদারি। মিশর, ৪৫ বছর ১৬১ দিনে বিশ্বকাপে নামেন।

আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইউরোপিয়ানদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল- ৮৫টি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক- ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ৩৩ বছর বয়সে!

বিশ্বকাপে টানা গোলের ম্যাচ- প্রথম ৩৬ ম্যাচের প্রতিটিতে গোল হয়েছে।

আরও যা-
বিশ্বকাপ ইতিহাসের ২৫০০তম গোলটি হয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে আত্মঘাতী গোল ৫০ ছুঁয়েছে।

হয়েছে বিশ্বকাপের ৫১তম হ্যাটট্রিক- ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল, বিপক্ষে স্পেন।

গ্রুপপর্ব পদ্ধতি আসার পর জার্মানি প্রথমবার প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েছে। ৮০ বছর আগে তারা যেবার শুরুতেই ছিটকে যায়, তখন ১৬ দলের বিশ্বকাপ শুরুতেই ছিল নক আউটের।

জাপান ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ফেয়ার প্লের পয়েন্টে নক আউটে উঠেছে। আর সেনেগাল প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিয়েছে।

 সেরা দশ গোল

গ্রুপ পর্বের সবকয়টা ম্যাচ শেষ। চোখধাঁধানো গোলও হয়েছে বেশ কিছু। তার মধ্যে সেরা দশ গোল বাছাই করে নেয়াটা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তারপরেও সবদিক বিবেচনা করে বাছাই করা হলো রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেরা দশ গোল।

ডেনিস চেরিশেভ, রাশিয়া বনাম সৌদি আরব

প্রথম ম্যাচের একাদশেই ছিলেন না তিনি। সতীর্থ এক খেলোয়াড়ের ইনজুরির সুবাদে মাঠে নেমেছিলেন। সেই ডেনিস চেরিশেভই করেছেন এবারের আসরের প্রথম চোখ ধাঁধানো গোলটি। ম্যাচের যোগ করা সময়ের খেলা চলছে তখন, ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা রাশিয়ার জয় ততক্ষণে নিশ্চিত। সেই সময় বক্সের ঠিক প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ের বাইরের অংশের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত তিন গোল করা চেরিশেভ।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, পর্তুগাল বনাম স্পেন

পুরো বিশ্বকাপেরই সেরা গোলের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে রোনালদোর দারুণ এই গোলটি। ম্যাচের ৮৮ মিনিট চলছে, পর্তুগাল তখনও ৩-২ গোলে পিছিয়ে। অমন সময় বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের ট্রেডমার্ক শটে ফ্রিকিক থেকে সরাসরি পরাস্ত করেন ডি গিয়াকে। এমন নিখুঁতভাবে শটটা নিয়েছেন রোনালদো, সার্জিও বুস্কেটস সর্বোচ্চ উচ্চতায় লাফিয়েও বলে মাথা ছোঁওয়াতে পারেননি।

আলেক্সান্ডার কোলারভ, সার্বিয়া বনাম কোস্টারিকা

‘ই’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। অধিনায়ক কোলারভের একমাত্র গোলে কোস্টারিকাকে হারায় সার্বিয়া। গোলটিও ছিল দেখার মতো। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো ফ্রিকিকে পরাস্ত করেন কেইলর নাভাসকে। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও ওই গোল ঠেকানোর সাধ্য ছিল না পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলা নাভাসের।

ফিলিপে কৌতিনহো, ব্রাজিল বনাম সুইজারল্যান্ড

বলতে গেলে এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে একাই টানছেন ফিলিপে কৌতিনহো। এখনও পর্যন্ত দুই গোল করেছেন, করিয়েছেনও একটি। তবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে করা গোলটি ব্রাজিল সমর্থকদের চোখে লেগে থাকবে অনেকদিন। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে ডান পায়ে নিজের ট্রেডমার্ক বাঁকানো শটে পরাস্ত করেন সুইস কিপার সমারকে।

লুকা মদ্রিচ, ক্রোয়েশিয়া বনাম আর্জেন্টিনা

তখনও ম্যাচে ফেরার সবরকম সম্ভাবনাই ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু দারুণ এক শটে সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক মদ্রিচ। তিন ডিফেন্ডারের মধ্য থেকে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে অসাধারণ দূরপাল্লার শটে কাবায়েরোকে পরাস্ত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

টনি ক্রুস, জার্মানি বনাম সুইডেন

সুইডেনের গোলটা হয়েছিল তাঁরই ভুলে। শাপমোচনটা বোধহয় এর চেয়ে ভালোভাবে করতে পারতেন না টনি ক্রুস। জার্মানির টিকে থাকা নির্ভর করছিল তাঁর উপরে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো বাঁকানো ফ্রি কিকে গোল করে জয় এনে দিয়েছিলেন জার্মানিকে।

সন হিউং মিন, দক্ষিণ কোরিয়া বনাম মেক্সিকো

দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও বিশ্বকাপকে দারুণ এক গোল উপহার দিয়ে গেছেন সন হিউং মিন। মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-১ গোলে হারা ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে গোল করেন সন।

আহমেদ মুসা, নাইজেরিয়া বনাম আইসল্যান্ড

টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না নাইজেরিয়ার সামনে। সুপার ঈগলদের সেই জয় এনে দিয়েছেন আহমেদ মুসা। প্রথম গোলটি করার আগে যেভাবে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন, তারপর ফিনিশিং টাচ দিয়েছে, তা সত্যিই দেখার মতো।

গ্রানিথ শাকা, সুইজারল্যান্ড বনাম সার্বিয়া 

সার্বিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে দারুণ একটি গোল করেছেন সুইজারল্যান্ডের গ্রানিথ শাকা। অনেকটা দৌড়ে এসে সেই অবস্থাতেই জোরালো শটে গোল করে সুইসদের সমতায় ফিরিয়েছিলেন তিনি।

লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা বনাম নাইজেরিয়া

গ্রুপ পর্বের শেষটা রাঙিয়েছেন লিওনেল মেসি। এখনও পর্যন্ত গোল করেছেন মাত্র একটি, কিন্তু সেটিই এবারের সেরা গোলের ছোট্ট তালিকাতে ঢুকে যাওয়ার মতো। মাঝমাঠ থেকে এভার বানেগার দারুণ পাসটি তার চেয়েও দুর্দান্তভাবে বাঁ উরু দিয়ে নামিয়েছেন, তারপর বাঁ পায়ের আলতো টোকায় বলটাকে সামনে নিয়েছেন, তারপর ডান পায়ে চোখে মায়াঞ্জন বোলানো ফিনিশিংয়ে পরাস্ত করেছেন নাইজেরিয়ার গোলকিপারকে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri