বিশ্বকাপে রাশিয়াকে কাদিয়ে সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

croatia.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৮ জুলাই) :: অতিরিক্ত সময়ের শেষবেলায় মারিয়ো ফার্নান্ডেজের গোলে যেন রুশ বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল। ফার্নান্ডেজের গোলে সমতা ফিরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলেন রুশ সমর্থকরা। কিন্তু না, শেষবেলায় পেনাল্টি শুটআউটে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে ১৯৬৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারলেন না চেরিশিভরা।

টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে না উঠেও আজকের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সৌজন্যে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেবেন মারিয়ো ফার্নান্ডেজরা।

ক্রোয়েশিয়ার মতো এবারের চমকপ্রদ দলের সঙ্গে যে হারে টক্কর দিয়েছেন রুশ ফুটবলাররা তা চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে টানটান ম্যাচে আয়োজক দেশকে হারিয়ে শেষ চারে উঠে আবারও চমক দেখালেন ক্রামারিচরা।

এদিন খেলার ৩১ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রাখেন রাশিয়ার চেরিশিভ। রাশিয়ার কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আক্রমণাত্মক হয়েছিল টিম ক্রোয়েশিয়া। গোল শোধ করার জন্য মুখিয়ে ছিলেন মদ্রিচরা।

আট মিনিট বাদেই বদলা নিলেন ক্রামারিচ। এরপরই দুই দলের স্কোরবোর্ডে যখন ব্যবধান ১-১, তখন দ্বিতীয় গোলের আশায় মুখিয়ে ছিল দু’দলই। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়েনি। ফলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় এই কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা। ১০১ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোলটি করে রাশিয়াকে ২-১ গোলে পিছনে ফেলে মাঠে জার্সি খুলে উল্লাসে মেতে ওঠেন ক্রোয়েশিয়ার ভিদা।

ভিদার গোলের পর যখন অনেকেই ভেবেছিলেন রাশিয়ার বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের শেষলগ্নে ১১৫ মিনিটের মাথায় গোল করে অবিশ্বাস্য ভাবে সমতা ফেরান মারিয়ো ফার্নান্ডেজ। ফার্নান্ডেজের গোলে যেন নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয় রাশিয়ার। ২-২ ব্যবধানে থাকায় অতিরিক্ত সময়ের খেলাও অমীমাংসিত ভাবে শেষ হয়। অগত্যা পেনাল্টি শুটআউটের দ্বারস্থ হতে হয়। টাইব্রেকারেই ক্রোয়েশিয়ার কাছে কুপোকাত হয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হয় রাশিয়ার।

রাশিয়া শেষবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে ১৯৭০ সালে। সেসময় তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্রোয়েশিয়া সর্বশেষ সেমিফাইনাল খেলেছে ১৯৯৮ সালে। এবার শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

Share this post

PinIt
scroll to top