কম ঘুমালে আয়ুও তত কম

sleep-1.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ জুলাই) :: আমাদের অনেকের মধ্যেই কম ঘুমানো নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। কিন্ত কম ঘুমানো নিয়ে বড়াই করার কিছু নেই। কারণ ঘুমের অভাব আমাদের শরীর আর মস্তিস্কের ওপর নাটকীয় প্রভাব ফেলে।

ঘুম আমাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা যায় সেসম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন নিউরোসায়েন্স এন্ড সাইকোলজির প্রফেসর ম্যাথিউ ওয়াকার।

ঘুম কেন জরুরি

রোগব্যাধি নিয়ে মানুষের ওপর যত রকমের গবেষণা হয়েছে, সেখান থেকে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট। কেউ যত কম ঘুমাবেন, তার আয়ু তত কমবে।কাজেই বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত যদি বাঁচতে চান, শরীর সুস্থ রাখুন এবং রাতে ভালো করে ঘুমান।

ঘুম খুবই সার্বজনীন। এটা একেবারে বিনামূল্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। শিল্পোন্নত দেশগুলোর পরিসংখ্যান বলছে গত ১০০ বছরে আমাদের ঘুম ক্রমাগত হারে কেবল কমেছে। যখন আমরা আমাদের ঘুম কমিয়ে দেই, তখন আমাদের রেম বা গভীর ঘুমের সম্ভাবনাও কমতে থাকে। অথচ ঘুমের এই পর্যায়েই কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখি।

রেম কম হলে সেটি কিন্তু আমাদের জন্য ক্ষতিকর। কারণ সৃষ্টিশীলতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটা খুব জরুরী। আরেক কথায় বলতে গেলে, রেম হচ্ছে আমাদের জন্য এক ধরণের ইমোশনাল ফার্স্ট এইড। প্রতি রাতে যেটি আমরা পাই।

কেন আমরা আগের চেয়ে কম ঘুমাচ্ছি তার অনেকগুলো কারণ আছে:

ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে না জানা

বেশিরভাগ মানুষের আসলে ধারণাই নেই, ঘুম যে কতটা জরুরী। সুতরাং তারা যথেষ্ট সময় ধরে ঘুমানোর বিষয়টিকে মোটেই গুরুত্ব দিতে চান না।

ব্যস্ত জীবন

নাগরিক ব্যস্ত জীবনে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি, আর কাজে যাওয়ার জন্য রাস্তায়ও থাকছি অনেক দীর্ঘ সময় ধরে। কাজে যাওয়ার জন্য আমরা ঘর থেকে বের হই অনেক আগে, আর কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়িতেও ফিরি অনেক দেরিতে। আমরা আমাদের সামাজিক এবং পারিবারিক জীবনকেও বাদ দিতে চাই না। কাজেই পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়া, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ঘোরাঘুরি, টেলিভিশন দেখা.. এসব কিছুর পেছনেই কিন্তু সারাটা দিন চলে যায়। আর এত কিছুতে সময় দিতে গিয়ে যখন সময়ের টানাটানি পড়ে, তখন আমরা ঘুমের সময়টার ওপরই ভাগ বসাই।

বেশি ঘুম খারাপ

বেশি ঘুমানোকে এখনো খারাপ চোখে দেখা হয়। কিন্তু ব্যাপারটা সবসময় এরকম ছিল না। যখন একটি শিশু ঘুমায়, তখন বাচ্চাটা কি অলস। কারণ আমরা জানি, একজন শিশুর জন্য ঘুমটা কত জরুরী। কিন্তু শৈশবের সঙ্গে আপনার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনটা যদি মিলিয়ে দেখেন, তাহলে বুঝবেন, কোথাও একটা বিরাট তফাৎ ঘটে গেছে।

পরিবেশের প্রভাব

টেলিভিশন, মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার স্ক্রিনেই আমাদের চোখ আটকে থাকে। অনেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও মোবাইল টেপাটেপি করেন। যা ঘুম আসতে ব্যাঘাত ঘটায়।

আমাদের শরীরে ‘মেলাটনিন’ নামের একটি হরমোন নিঃসরণ হয়। এটি আমাদের একটি ভালো এবং স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য খুব জরুরী। আর এলইডি স্ক্রীনে দৃশ্যমান স্পেকট্রামের নীল রঙে সমৃদ্ধ, এটি খুবই শক্তিশালী আলো যেটি মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়।

তাপমাত্রা

আমাদের মস্তিস্ক এবং শরীরের তাপমাত্রা অন্তত এক ডিগ্রি কমে যাওয়া উচিত ভালো ঘুমের জন্য।  কিন্তু যদি আপনি ভালো ঘুম চান, তাহলে কিন্তু রাতে রুমের তাপমাত্রা সেট করা উচিত ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno