আইন করে ইহুদি রাষ্ট্র হলো ইসরায়েল

israel-air.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৮ জুলাই) :: ইসরায়েলকে ‘ইহুদি জনগণের রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। এর মধ্য দিয়ে দেশটির আরব নাগরিকরা তীব্র বৈষম্যের মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরব আইন প্রণেতা এবং ফিলিস্তিনিরা এই আইনকে ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

আইনটি ৬২ ভোটে গৃহীত হয়। এর বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ৫৫টি। এই আইন ইসরায়েলের ইহুদিবাদী প্রকৃতিকেই সর্বাগ্রে প্রকাশ করবে। এ ছাড়া আইনে হিব্রুকে জাতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ইহুদি সম্প্রদায়ের জাতীয় স্বার্থেই এই আইন প্রণয়ন করা হলো। অতীতে হিব্রুর সঙ্গে আরবিকে জাতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সেটি শুধু বিশেষ ভাষার মর্যাদা পাচ্ছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত পার্লামেন্টে গৃহীত চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, ইসরায়েল ইহুদিদের ঐতিহাসিক স্বদেশভূমি। তাদের জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে।

শুরুতে অবশ্য আরো কঠিন শর্ত রেখে এই খসড়া তৈরি করা হয়। প্রাথমিক খসড়ায় বলা হয়েছিল, শুধু ইহুদিনির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরে তীব্র সমালোচনার মুখে সে অবস্থান থেকে সরে আসেন ক্ষমতাসীন দলের আইন প্রণেতারা। এমনকি প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিনও ওই খসড়ার তীব্র বিরোধিতা করেন।

এটি এখন ইসরায়েলের মৌলিক আইন হিসেবে বিবেচিত হবে, যা তাদের কার্যত সংবিধানেরই অংশ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই প্রস্তাবের পেছনে কঠোরভাবে অবস্থান নেন।

ভোটাভুটির পর তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের রাষ্ট্র, ইহুদি রাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোকে কেউ কেউ এই বিষয়টি, আমাদের টিকে থাকা এবং আমাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।’ তিনি এই আইনের অনুমোদনকে ইসরায়েলের ইতিহাসের জন্য ‘চূড়ান্ত মুহূর্ত’ হিসিবে বর্ণনা করেন।

তবে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী সরকারের কাছে এই আইনটি যাই হোক না কেন একে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন অনেকেই। প্রধান আরব জোট জয়েন্ট লিস্টের প্রধান আয়মান ওদেহর এই আইনকে দেখছেন ‘গণতন্ত্রের মৃত্যু’ হিসেবে। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের কক্ষে আরব আইন প্রণেতারা এই আইনের খসড়ার অনুলিপিও ছিঁড়ে ফেলেন।

আরব আইন প্রণেতা ইউসুফ জাবারিন বলেন, ‘এই আইন শুধু বৈষম্যই নয়, বর্ণবাদকেও উৎসাহিত করবে।’ ইসরায়েলের মোট ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ আরব। তাদের মধ্যে আগে থেকেই বৈষম্য নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের মহাসচিব সায়েদ এরেকাত নতুন আইনকে ‘ভয়ংকর ও বর্ণবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে বর্ণবাদী ব্যবস্থাকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো এবং জাতিবিদ্বেষ ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বৈধতা পেল।’

যদিও আইনটির প্রস্তাবক ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির আভি ডিচটের বলেন, ‘এই আইন ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেবে।’ সমালোচকদের মতে, ১৯৪৮ সালে যে ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় তার সঙ্গে এর পার্থক্য ব্যাপক। ওই ঘোষণায় সাম্যের কথা বলা হলেও এই আইনের মধ্য দিয়ে তা প্রত্যাহার করা হলো।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউশনের গবেষক শুকি ফ্রিজম্যান বলেন, ‘এই আইন আরবদের অধিকারকে আরো সংকীর্ণ করে দেবে। ইসরায়েলের ইহুদিবাদী যে প্রকৃতির কথা এতে বলা হয়েছে তাতে প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে দেশটির গণতান্ত্রিক চরিত্র খর্ব হয়।’ সূত্র : এএফপি।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri