কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা : ম্লান হচ্ছে সৌন্দর্য

Merin-Drive-cox-pic.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১ আগষ্ট) :: কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে সমুদ্র সৈকত আর পাহাড় টিলার মিতালী দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমে পর্যটকদের।আর কলাতলী থেকে সাবরাং পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার সড়কের পূর্ব পাশে পাহাড়ের ঢালে রয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। এরই মধ্যে এসব জায়গা কিনেছে দেশের নামিদামি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

এসুযোগে মেরিন ড্রাইভের পাশেই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ করছে কিছু প্রভাবশালী। এতে সমুদ্র আর পাহাড়ের মিতালীর সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কা বাড়ছে। তাই মেরিন ড্রাইভ এলাকাকে বিশেষায়িত অঞ্চল ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রশাসন।

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক কলাতলী সৈকত থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার। একপাশে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। অন্যপাশে পাহাড়। এর মাঝ দিয়ে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ সম্পন্ন করেছে সরকার। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মেরিন ড্রাইভ ঘেঁষে গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত স্থাপনা।তবে এই সড়কের সৌন্দর্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বিশেষায়িত এলাকা ঘোষণা করে পরিকল্পিত থিমেটিক নগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজারের ট্যুর এন্ড ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান Aventure এর স্বত্বাধিকারী রাশেদুল ইসলাম জানান, এমন অনেক দেশ আছে, যাদের মোট জাতীয় আয়ের প্রধান অংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। অথচ কক্সবাজারে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে পর্যটন খাতের বিকাশ হয়নি বললেই চলে। বিশেষকরে পর্যটন এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ সহ পর্যটকদের বিনোদন সুবিধা না থাকায় বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্চে সরকার। এ অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরন করতে না পারলে পর্যটকরা কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

কক্সবাজারের পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ করেন, এসব অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনার ফলে আড়াল হচ্ছে প্রকৃতি।অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হলে মেরিন ড্রাইভের দু’পাশে অবৈধ দখলদারিত্ব শুরু হওয়ার আশঙ্কাও করছেন পরিবেশকর্মীরা।

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই অংশকেই সংরক্ষিত পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে এটিকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এছাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিচের পাশের অংশটি সংরক্ষিত পর্যটন এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু এই সড়কের অপর অংশ যেদিকে পাহাড় আছে, সেটি এখনো সংরক্ষিত নয়। এই সড়কের দুই অংশকেই সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এটি করা হলে এখন এ সড়কের পাশে যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে, তা উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে। 

জানা যায়,কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ২০১৭ সালের জুনে উদ্বোধন করা হয়। সমুদ্রসৈকতের ধার ঘেঁষে ৮০ কিলোমিটার সড়কটি টেকনাফের সাবরাংয়ে গিয়ে শেষ হয়েছে। কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে এখন অন্যতম আকর্ষণ এই সড়কটি। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত জুড়ে থাকা এই রাস্তাটিই এখন পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ হিসেবে পরিচিত। এই সড়কের একদিকে আছে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে দৃষ্টিনন্দন পাহাড় ও অন্যান্য স্থাপনা।

মেরিন ড্রাইভ তৈরিতে খরচ হয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা। সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এটি নির্মাণ করেছে। তিনটি ধাপে দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, পরের ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফ সদর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ও শেষ ধাপে শিলখালী থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি করা হয়। পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় এলাকাটিতে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ বাড়াতে ১৯৯৯ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।

 

Share this post

PinIt
scroll to top