উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে ঝুপড়ি তৈরির উপকরণ সরবরাহ : অস্থিত্ব সংকটে বাঁশ সম্পদ

IMG_20170829_130121.jpg
মোসলেহ উদ্দিন,উখিয়া(৭ আগষ্ট) :: বছরের জুন-জুলাই-আগষ্ট এ তিন মাসে বাঁশ আহরণ, কর্তন ও বাজারজাত করণে বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞার ব্যবহার থাকলেও উখিয়ায় এই আইনের কার্যকর করা হচ্ছে না।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির নির্মাণে বাঁেশর চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় নির্বিচারে বাঁশ কাটা ও ক্যাম্পে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে বন বিভাগ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোন বাঁধা বিপত্তি না থাকায় অস্থিত্ব সংকটাপন্নে উখিয়ার বাঁশ ঝাঁট সম্পদ। ফলে প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন পরিবেশ বাদী সংগঠনের নেতারা।
পালংখালী ইউনিয়নের উপজাতি অধ্যূষিত গ্রাম তেলখোলা মোছারখোলার অধিকাংশ পরিবার নিস্ব, ভূমিহীন। তারা বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে তা বাজারজাতের মাধ্যমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
গ্রামের কেয়ামং চাকমা (৫৫) ও উদিমং চাকমা (৫০) জানান, এখানে বসবাসরত উপজাতিরা এক সময় বাঁশ ও বেতের তৈরি লাই, ছাই, ঢোলা, দোলনা, ঝুঁড়ি, থুরুং, লুই, মোরা, চেয়ার সহ বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা ছিল।
প্লাষ্টিকের তৈরি সামগ্রী বাজার কেড়ে নিলেও বাঁশ বেত শিল্পের উপর প্রভাব পড়েনি। কিন্তু বর্তমানে রোহিঙ্গাদের বস্তি নির্মাণে ব্যাপক হারে বাঁশ নিধনের মহাযজ্ঞ অব্যাহত থাকার কারণে তেলখোলা মোছারখোলা নয় পুরো উখিয়া উপজেলা বাঁশ সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেছে। ফলে যেসব  উপজাতিরা বাঁশ বেতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো তাদের সংসারে চলছে দুর্দিন।
রোহিঙ্গা ঝুঁপড়ি নির্মাণে বাঁশের অপচয় ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন জানান, বাঁশ দিয়ে তৈরি করা ঝুঁপড়ি গুলোর মেয়াদ ক্ষনস্থায়ী। যেহেতু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে মিয়ানমারের তাল বাহনা ও চল চাতুরীকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দিয়ে বাঁশের পরিবর্তে লোহ জাত উপকরণ দিয়ে ঝুঁপড়ি গুলো নিমার্ন করা হলে বাঁশ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতো। প্রাকৃতিক দূর্যোগে রোহিঙ্গারা নিরাপদে বসবাস করার পরিবেশ তৈরির অপার সম্ভাবনা ছিল।
উখিয়ার বাঁশ সম্পদ নির্মূলের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, কক্সবাজারের পরিবেশবিদ বিশ্বজিত সেন জানান, গ্রামাঞ্চলের খালের দু’পাশে রোপিত বাঁশ সম্পদ ভাঙ্গন থেকে ঘরবাড়ি রক্ষা পেত। তাছাড়া বাঁশ ঝাড় হচ্ছে পাখিদের আবাস স্থল। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় পাখিরা বাঁশ ঝাড়ে আশ্রয় নেয়। তারা ওখান থেকে আহার গ্রহণ করে। বাঁশ ঝাড়ের নিচে বহুজাতীয় প্রাণিকুল আশ্রয় নিয়ে থাকে। বাঁশ সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার ফলে এসব প্রাণিকুল অন্যত্রে চলে যাওয়ায় পরিবেশের উপর প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে বাঁশ সরবরাহ ও বাঁশ মজুদ করে বিক্রি করছে এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী সালামত উল্লাহ, শামশুল আলম ও নজির আহমদ জানান, উখিয়ায় রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক কোটি বাঁশ ক্যাম্পে লেনদেন হয়েছে। উখিয়ার বাঁশ ঝাড় শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে তারা আলী কদম, লাম, বান্দরবান সহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাঁশ সরবরাহ করছে। তথাপিও বাঁশের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের আবাসস্থল বা ঘরবাড়ি তৈরির জন্য যা যা প্রয়োজন তা সরবরাহ করতে সরকারের নির্দেশ রয়েছে। তাই বাঁশ সম্পদ হারিয়ে গেলেও করার কিছুই নেই। 

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri