buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

২৫ আগস্টকে কালো দিন আখ্যায়ীত করে উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

R-pic-01.jpg

শহিদুল ইসলাম,উখিয়া(২৫ আগস্ট) :: বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর এক বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিধনে অভিযান শুরু করে। পূর্ব পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত এই অভিযানে নিহত হয়েছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। ধর্ষণের শিকার হয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরী। নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

আর ২৫ আগস্টকে কালো দিন আখ্যায়ীত করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে উখিয়ার শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোহিঙ্গারা সেদিনের ঘটনার বিচার চেয়ে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়ার কুতুপালং বাজারের সামনের প্রধান সড়কে মাথায় লাল ফিতা বেধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

এছাড়া বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে উখিয়ার কুতুপালং বাজার, মধুছড়া, লম্বাশীয়া, জামতলী, তাজনিমারখোলাসহ আরও ১০টি ক্যাম্পে। তাদের দাবী একটাই সম্মানের সাথে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে। মায়ানমারে নির্যাতনের স্বীকার রোহিঙ্গারা তাদের নির্যাতনের বিচার চায়। রাখাইনে তারা সহায় সম্বল নিয়ে বাঁচতে চায়। অধিকার ছাড়া তারা মায়ানমারে ফিরে যাবেনা।

এদিন কালোদিবস উপলক্ষে কুতুপালং ক্যাম্পের ব্লক-৩ এ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ আমাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কতদিন এদেশে থাকবো? আমরা দিনে দিনে এদেশের বোঝাতে পরিণত হচ্ছি। তাই আমরা ফিরে যেতে চাই স্বদেশে। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ, মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন যাতে সরকার দ্রুত আমাদের নিয়ে যায়। নিরাপদ প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা টালবাহানা শুরু করেছে। বিশ্বমোড়লরা কেন মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বিষয়ে নিশ্চুপ এটি আমাদের মাথায় ঢুকছে না।

তবে বিক্ষোভটি কারা আয়োজন করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নায্য অধিকার আদায়ের জন্য কোনো কিছুই আয়োজন করতে হয় না। এখানে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে।

বিক্ষোভ মিছিলে থাকা মোঃ আয়ুব নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা আজকের এই বিক্ষোভ করেছি। আমরা কি চাই তাই জানানোর জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আর সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চাই। আমরা সেদিন ঘটনার জন্য দোষীদের বিচার চাই।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, বছর ঘুরে চলে এলো সেই কালোদিন। এ দিনটিকে আমরা কালদিবস হিসেবে পালন করবো। এই দিনে আমরা সব ধরনের কাজকর্ম থেকে বিরত থাকবো। ঘরে রান্নাবান্নাও হবে না। ওই নেতা আরও বলেন, ৩০টি ক্যাম্পের সব ব্লকেই কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে নিরাপদে স্বদেশে ফেরার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উখিায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান জানান, নিরাপদে স্বদেশে ফেরার দাবিতে রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ করছে। তাই ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বার্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট রাতের প্রথম প্রহরে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম রাজ্যের পাহাড়ের পূর্ব পাশে রাশিদং, রাজারবিল, বড়ছড়া, আন্দাম, ধুপমাইল, কুল্লুং, শীতাইক্যা, মন্ডুর মেরুল্লা, হাসছুরাতা, বাগঘোনা, তালাসখ, রাবাইল্যা, ঝিমংখালী, কুয়াংছিপং, তুমব্রু, ক্যাংবং, বুচিদংস্থ টংবাজার, মিংনিশি, পীরখালী, মগডিল, বলী বাজার, ফৈরা বাজার, কুয়ারবিল, মন্ডুর হাইন্ডার পাড়াসহ ২৪টি এলাকার সীমান্ত চৌকি ও সেনা ঘাটিতে স্বশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এই সময় হামলাকারী ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি এবং সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে থেমে থেমে লড়াই চলতে থাকে।

এ ঘটনায় রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আর জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখে দাঁড়িয়েছে।

তাই এই দিনটি কালোদিন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রোহিঙ্গারা। এসব হত্যার বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে তাদের এ কমসূচী।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri