ইউরোপের তিন বড় ক্লাবকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রোনালদো !

rnjv.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৯ অক্টোবর) :: রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে নাম লেখানোর আগে আরো তিন-তিনটি বড় ক্লাবকে ফিরিয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এরা হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, এসি মিলান ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।

চলতি গ্রীষ্মে জুভেন্টাসের জার্সি গায়ে পরার আগে রিয়ালে দীর্ঘ নয় মৌসুম কাটিয়েছেন রোনালদো। এ সময় সম্ভাব্য সবকিছুই তিনি জিতেছেন ‘লস ব্লাঙ্কোস’দের হয়ে। টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের পর সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে তিনি ১০০ মিলিয়ন ইউরো ফি’তে নাম লেখান জুভেন্টাসে।

রোনালদো মূলত হতাশা থেকেই রিয়াল ছেড়েছেন। তিনি হতে চেয়েছিলেন বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়, যে দাবি রিয়াল পূরণ করতে পারেনি। তাই চলে যাওয়া। তাকে বছরে ৩ কোটি ইউরো বেতনসহ আরো বোনাস দিতে চেয়েছিল রিয়াল, তবে এই অংকটা বার্সেলোনার লিওনেল মেসির বেতনের চেয়ে কম ছিল। তাই খেলোয়াড়টি সিদ্ধান্ত নেন, ২০১৭-১৮ মৌসুমই রিয়ালের জার্সিতে তার শেষ মৌসুম হয়ে থাকবে।

চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যখন পাকা, তখন রোনালদোর এজেন্ট হোর্হে মেন্দেস রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে জানান, খেলোয়াড়টি আর বার্নাব্যুতে থাকতে চান না। পেরেজও জানিয়ে দেন, এমন একটি ক্লাবে সে চলে যেতে পারে যারা ১০০ মিলিয়ন ইউরো দিতে রাজি আছে।

এল মুন্ডোর খবর অনুসারে, সর্বপ্রথম রোনালদোর জন্য রিয়ালকে প্রস্তাব দেয় ইতালির ঘুমন্ত দৈত্য এসি মিলান। ওই সময় মিলানের মালিক ছিলেন চীনা ব্যবসায়ী লি ইয়ংহং। তিনি মিলানের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমেছিলেন। রোনালদোর মতো সুপারস্টারকে কিনে ক্লাবকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। এজন্য রিয়ালকে দিতে চেয়েছিলেন পাক্কা ১৫ কোটি ইউরো! কিন্তু সাতবারের ইউরোপসেরা মিলানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স রোনালদোকে মুগ্ধ করতে পারেনি, ফলে তিনি মিলানকে ‘না’ বলে দেন। পরিশেষে ইয়ংহংয়ের মিলান অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে। লোন পরিশোধ করতে না পারায় তার কাছ থেকে মিলানের কর্তৃত্ব নিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ট ম্যানেজমেন্ট। এ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে এখন মিলানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন পাওলো স্কারোনি।

প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তাদের আশা ছিল, দ্বিতীয়বারের মতো রোনালদোকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরিয়ে আনতে পারবে তারা। তবে ইংলিশ ক্লাবটি যে আর্থিক প্রস্তাব দেয়, তা রিয়ালের প্রত্যাশার ধারেকাছেও ছিল না। ফলে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী খেলোয়াড়টিকেও পাওয়া হলো না। আসলে রোনালদো মনেপ্রাণে ফিরতে চেয়েছিলেন ম্যানচেস্টারে। এ ক্লাবে ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সময় ১৯৬ ম্যাচ খেলেছেন। ম্যানইউর হয়ে তিনটি লিগ শিরোপা ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তিনি। ‘রেড ডেভিল’দের হয়ে খেলার সময়ই ২০০৮ সালে জেতেন ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর। ক্লাবটির প্রতি আবেগ ছিল, তবে অন্তত এ যাত্রায় ম্যানইউতে নাম লেখানো হলো না রোনালদোর।

এরপর রোনালদোর জন্য মেন্দেসের কাছে প্রস্তাব নিয়ে এল প্যারিস জায়ান্ট পিএসজি। তবে প্রস্তাবের ক্ষেত্রে তাদের একটি শর্ত ছিল। তারা দাবি করে, রোনালদোকে নিয়ে চুক্তিটা হবে দলবদলের একেবারে শেষ দিন, যাতে নেইমার কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কিনে না নিতে পারে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। রোনালদো একে দেখলেন বড় ‘ঝুঁকি’ হিসেবে এবং শেষ পর্যন্ত পিএসজিকে ‘না’ বলে দিলেন।

সবকিছুর বিচারে জুভেন্টাসে নাম লেখানোকেই যৌক্তিক মনে করলেন রোনালদো। তিনি টানা সাতবারের সিরি-এ চ্যাম্পিয়নদের ক্লাবেই নাম লেখালেন। এ নিয়ে তার ব্যাখ্যা, ‘আমি তাদের পছন্দ করি, কেননা তারা সুবিন্যস্ত একটি ক্লাব। আমি এও ভুলিনি, স্পোর্টিং লিসবনে থাকাকালে তারা আমাকে কেনার চেষ্টা করেছিল।’

জুভেন্টাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উপরের রাউন্ডে খেলার সামর্থ্যই আকৃষ্ট করে রোনালদোকে। তার আশা, হয়তো জুভেন্টাসের হয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারবেন তিনি। আরেকটি বিষয় রোনালদোর মন কেড়েছে। গত মৌসুমে তুরিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে বাই-সাইকেল কিকে অবিশ্বাস্য এক গোল করে রিয়ালকে জেতানোর পর জুভেন্টাস সমর্থকরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান রোনালদোকে। ওই স্মৃতি কখনই ভুলবেন না তিনি। এ ঘটনা তার সিদ্ধান্তকে উৎসাহিত করেছে।

রিয়াল মাদ্রিদ শেষবারের মতো তাদের ‘৭ নম্বর’ খেলোয়াড়কে ধরে রাখার চেষ্টা করেছে, তবে সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে আসেননি ৩৩ বছর বয়সী সুপারস্টার। এমনকি তাকে বেতন দ্বিগুণ করে দিলেও তিনি সিদ্ধান্ত পাল্টাতেন না বলে জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত জুভেন্টাসে নাম লেখানোর সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

মার্কা, দ্য সান

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri