জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা : ২০১৪ সালের ভয়ালচিত্র

2014_bangladesh_election.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১১ নভেম্বর) :: জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিবেশ এখন শান্ত থাকলেও পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি-জামায়াত জোট তাৎক্ষণিক ঘোষণা করে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ। ব্যাপক সহিংসতায় ঝরে প্রাণ। আর অবরোধ বেড়ে হয় ৭২ ঘণ্টা।

এরপর সময় দিয়ে দ্বিতীয় দফা, তৃতীয় দফায় অবরোধ, হরতালে সহিংসতায় পেট্রল বোমা হামলা, আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তৈরি হয় দমবন্ধ পরিবেশ। এবারও একই দাবিতে আন্দোলনের হুমকি জানিয়েছে বিএনপি। তাদের আপত্তির মুখেও এসেছে তফসিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো।

২৩ ডিসেম্বর ভোট জানিয়ে বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। বিএনপির দাবি ছিল, যেন তফসিল দেয়া না হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় সমালোচনায় মুখর দলের নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বরং বিএনপির ভোটে আসার আভাসই মিলছে বিএনপির।

যে চিত্র ছিল ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তফসিল ঘোষণা করেন সে সময়ের সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। ভোটের তারিখ দেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় নাশকতা। যানবাহনে হামলা, অগ্নি সংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। শুধু রাজধানীতেই ১০টি গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বত্তরা।

ঘোষণা করা হয় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ। আর পরে তা বেড়ে হয় ৭২ ঘণ্টা। এই তিন দিনে সহিংসতায় প্রাণ যায় ২১ জনের। এ সময় রাজপথ, রেলপথ, নৌপথে সংঘটিত ব্যাপক সহিংসতায় জীবন্ত দগ্ধ হয়েছে নিরীহ মানুষ, পুড়ে গেছে মূল্যবান সম্পদ।

অবরোধের প্রথম দিন বিভিন্ন স্থানে সাতজনের প্রাণ যায়। নাশকতায় বিপন্ন হয় রেল চলাচল। সাতক্ষীরার কলারোয়ার যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবুকে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াতকর্মীরা। কুমিল্লা শহরে বিজিবি সদস্য রিপন ও লাকসামে বাবুল নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়। বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবদল নেতা ইউসুফ আলী প্রাণ হারান। সিরাজগঞ্জে কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় অসুস্থ ছাকমান আলীর মৃত্যু হয়। ফেনীতে অবরোধকারীদের ইটের আঘাতে মৃত্যু হয় টেম্পোচালক দুলালের।

দ্বিতীয় দিনে প্রাণ যায় আরও সাতজনের। আহত হন দুই শতাধিক। সাতক্ষীরায় জামায়াতকর্মী শামসুর রহমান, কলারোয়ায় পথচারী আম্বিয়া খাতুন, গাজীপুরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামাল হোসেন, সিরাজগঞ্জে জামায়াত কর্মী আব্দুল জলিল ও ছাত্রদল নেতা মাসুম বিল্লাহ, চট্টগ্রামের পটিয়ায় টেম্পোচালক মো. এরশাদ এবং সাতকানিয়ায় শহীদ নামের এক যুবক নিহত হন।

অবরোধের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে চলন্ত বাসে দেয়া হয় আগুন। দগ্ধ হন ১৯ যাত্রী। রাতেই মৃত্যু হয় একজনের। পরে ধুঁকে ধুঁকে আরও অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কান্না আর আহাজারিতে ভারী ছিল রাজধানীর বার্ন ইউনিট।

তিন দিনের অবরোধে রেলপথে আগুন ও স্লিপার তুলে ফেলাসহ নানা নৈরাজ্য চালানো হয় দেশজুড়ে। রেল চলাচলে বাধা দেয়ার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয়। ব্যাপক ক্ষতি হয় রেলের। জানমালের নিরাপত্তাহীনতা যখন চরমে এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দেন দেশের বিশিষ্টজনরা।

৩০ নভেম্বর থেকে আবার ৭২ ঘণ্টা অবরোধের ঘোষণা আসে। দ্বিতীয় দফা অবরোধের প্রথম দিনের বলি হয় আরও ছয়জন। দ্বিতীয় দিনে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এদিন ছয়জন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আহত হন দেড় শতাধিক। তৃতীয় দিনের সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণ যায় আরও চারজনের।

২ ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগাতার অবরোধে প্রাণ হারায় ৩৪ জন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এদিন অবরোধ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা না হয়ে আরও ৫৯ ঘণ্টা বাড়ানো হয়।

৩ ডিসেম্বর অবরোধকালে সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪, সাতক্ষীরায় ৩, চাঁদপুওে ২, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীতে একজনের মৃত্যু হয়।

এ সময় তফসিল স্থগিত করে দেশকে বাঁচানোর আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তবে সেটি আর হয়নি। ৫ জানুয়ারি হয় ভোট।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri