পেকুয়ায় শ্রমিকলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অবশেষে মামলা

mamla-coxbangla.jpg

মোঃ ফারুক,পেকুয়া(১৩ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম শাহাদত হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

রবিবার (১১ নভেম্বর) আহত শ্রমিকলীগ নেতার মা দিলোয়ারা বেগম বাদি হয়ে দায়ের করা এজাহারকে মামলা হিসেবে নেয় পেকুয়া থানা পুলিশ। এ মামলায় ১২জনকে এজাহার নামীয় এবং ৫জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। যার মামলা নং- ১২/১৮ইং।

এজাহার নামীয় অসামীরা হলেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মাতবর পাড়া এলাকার মোঃ রাজু, মোঃ ওয়াহিদ, মোঃ তৌহিদ, আবদুল্লাহ, ইব্রাহিম, জয়নাল, আবদু রহিম, রিফাত কাদের, মোঃ মানিক, ছোটন, মোকাদ্দেস ও গিয়াস উদ্দিন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পেকুয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের মালামাল সাপ্লাই ও নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্ব পালন করছিল শ্রমিকলীগ নেতা শাহাদত হোসেন। গত ৪ নভেম্বর সংঘবদ্ধ আসামীরা ওই প্রতিষ্ঠানের কাজে গিয়ে ১লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে। চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় শ্রমিকলীগ নেতা শাহাদত হোসেনকে উপজেলা সদরের চৌমহুনী স্টেশনে উপর্যপুরী ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা চালায় আসামীরা। বর্তমানের তিনি চমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতের ভাই আপেল মাহমুদ বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে হামলার একটি ঘটনায় মামলা রুজু করাতে আমাদের অনেক কাটখড় পেড়াতে হয়েছে। এছাড়া জড়িত অনেককে আসামী তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত রোববার অজ্ঞাতসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড হলেও পুলিশ আসামীদের আটকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এজাহারভুক্ত আসামী জয়নাল, আব্দু রহিম ও মোকাদ্দেসের পেকুয়া সদরের একটি বাড়িতে অবস্থানের খবর আমরা পুলিশকে দিই।

কিন্তু আসামীদের আটক করতে কোন চেষ্টাই করেনি পুলিশ। আমরা পুরো পরিবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পরও প্রশাসন আমাদেরকে সহযোগিতা করছেনা। উল্টো আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। এসব জেনেও অদৃশ্য কারণে মামলার আসামীদের আটক করছেনা পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। মহান আল্লাহ সহায় ও এলাকাবাসীর দোয়ায় তিনি এখনো প্রাণে বেঁচে আছেন। তবে, এজাহারভুক্ত একটা আসামীকেও যদি পুলিশ আটক করলে আমাদের মনে স্বস্থি আসতো। ন্যায় বিচার পাবার আশা জাগতো। এব্যাপারে আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আসামীদের আটকে পুলিশের অসহযোগিতার বিষয় অস্বীকার করে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকলীগ নেতা শাহাদত হোসেনের উপর হামলাকারীদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শীঘ্রই এ মামলার আসামীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri