চকরিয়ায় বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিন ব্যাপী মহোৎসব

krishno-arjn.jpg

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া(২০ নভেম্বর) :: ‘রস’ থেকে ‘রাস’। রস অর্থ নির্যাস, আনন্দ, হ্লাদ, অমৃত ও ব্রক্ষকে বোঝায়। ‘তৈত্তিরীয়’ উপনিষদে রস সম্পর্কে বলা হয়েছে “রসো বৈ স:। অর্থাৎ ‘ব্রক্ষ’ রস ছাড়া আর কিছুই নয়। পুরুষত্তোম শ্রীকৃষ্ণ হলেন রসের ঘণীভুত আধার। তাকে ঘিরেই রাস।

প্রতি বছর শারদ পূর্ণিমা তিথীতে বৃন্দাবনের যমুনার তটে শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের সাথে অহং বর্জিত রস আস্বাদন করেন। তাই বৈষ্ণব তথা সনাতন সম্প্রদায়ের কাছে রাস উৎসব ভগবানের এক অভুতপূর্ব মিলন মেলা। প্রতি বছর শারদ পূর্ণিমা তিথীতে স্বাড়ম্বরপূর্ণভাবে বিশ্বব্যাপী রাস উৎসব করে আসছে বৈষ্ণব তথা সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজনরা।

এরই ধারবাহিকতায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং ধর পাড়ার হরি মন্দির প্রাঙ্গনে গত ৪৮ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে রাস মহোৎসব। এবার সেই রাস মহোৎসব ৪৯তম বর্ষে পর্দাপন করতে যাচ্ছে।

২১ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকে রাস মহোৎসব উপলক্ষ্যে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্টান, প্রতিমা প্রদর্শনী, ধর্মসভা ও ষোড়শপ্রহর ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও মেলা। শনিবার পূর্ণাহুতি ও বৈষ্ণব বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে রাস মহোৎসব।

হারবাং ধর পাড়া রাস মহোৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল ধর বলেন, গত ৪৮ বছর ধরে চকরিয়ার পল্লী গ্রাম হারবাং ধর পাড়ায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী নানা অনুষ্টানে আয়োজন করে আসছে। এরই ধারবাহিকতায় বুধবার থেকে শুরু হবে রাস মহোৎসব।

তিনি আরো বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় শ্রীমৎভগবত গীতাপাঠের মাধ্যমে রাস মহোৎসব শুরু হবে। এদিন সন্ধ্যায় অনুষ্টিত হবে ধর্মসভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলম।

এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। ধর্মসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রীমৎ স্বামী শংকরানন্দ মহারাজ। অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করবেন নিখিল বন্ধু ধর।

অনুষ্টানে সার্বিক সহযোগীতায় থাকবেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চকরিয়া উপজেলা শাখা, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হবে মহানামযজ্ঞ। এতে নামসুধা পরিবেশন করবেন দেবব্রত সম্প্রদায় (ভোলা), নদীয়া বিনোদনী সম্প্রদায় (গোপালগঞ্জ) , জয়রাম সম্প্রদায় (বি.বাড়িয়া), সত্যনারায়ন মন্দির সম্প্রদায়( চট্টগ্রাম) ও ভাগ্যলক্ষী সম্প্রদায়( বরিশাল)।

হারবাং কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিলাস ধর বলেন, প্রতি বছরের শারদ পূর্ণিমা তিথীতে চকরিয়ার হারবাং ধর পাড়ায় রাস উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্টানের আয়োজন হয়ে আসছে।

এটি এখন ঐতিহ্যবাহী অনুষ্টানে রুপ নিয়েছে। এই রাস পূর্ণিমাকে ঘিরে এ এলাকায় বসে অসম্প্রদায়িক মিলন মেলা। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এতে অংশ নেন।

তিনি বুধবার থেকে শুরু হওয়া অনুষ্টানের প্রতিটি পর্বে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে উপস্থিত থেকে অনুষ্টানকে সাফাল্যমন্ডিত করার আহবান জানান।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri