শেখ হাসিনার সবুজ সংকেতে ধস নামবে বিএনপিতে

alg-bnp-perlament-18-logo-1.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২১ নভেম্বর) :: শেখ হাসিনার গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা৷ সেটা এসে গেলেই অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি থেকে দল ছাড়ার হিড়িক লাগবে৷ বহু নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার সঙ্গ ত্যাগ করে সরকারপক্ষে নাম লেখাতে মুখিয়ে রয়েছেন৷ এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের৷ তাঁর মন্তব্যের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছড়িয়েছে প্রবল আলোড়ন৷

বুধবার আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রীর ক্লিয়ারেন্স পেলে, নেত্রী একটু সবুজ সংকেত দিলেই আওয়ামী লীগে যোগ দিতে সারাদেশ থেকে বিএনপির বিপুল নেতা-কর্মীদের ঢল নামবে।

তিনি বলেন, অলরেডি তো অনেকেই দলবদল করেছেন। আমরা কিন্তু এখনো আমাদের নেত্রীর ক্লিয়ারেন্স পাইনি। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসতে অনেকেই আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, ঘোড়া বদলের রাজনীতি, এটা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নতুন কোনও বিষয় নয়। নতুন কোনও দৃশ্যপটও নয়।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় জেল বন্দি৷ তিনি অসুস্থ তাঁকে মুক্তি দিয়েই নির্বাচন করার দাবি তুলেছে বিরোধী জোট৷ এরই মাঝে খালেদা জিয়ার নামে তিনটি কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন ফর্ম ইস্যু করেছে তাঁর দল৷ যদিও খালেদা জিয়া আদৌ ভোটে লড়াই করতে পারবেন কিনা সে বিষয়টি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের উপরেই নির্ভর করে রয়েছে৷

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির তরফে প্রার্থী হতে চেয়ে ঢাকায় তাদের দলীয় দফতরে প্রবল ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ সেখানে পুলিশের সঙ্গে নেতা কর্মীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল গত সপ্তাহে৷ হামলায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় অর্ধ শতাধিক নেতা কর্মীকে৷ এদের অন্যতম যুব বিএনপি নেত্রী তথা খালেদা জিয়া ঘনিষ্ঠ সংখ্যালঘু হিন্দু নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী৷ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

প্রশ্ন উঠছে নেতা কর্মীদের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাব থাকার পরেও কী করে আওয়ামী লীগ সম্পাদক দাবি করেন-সংকেত মিলতেই বিএনপিতে ভাঙন ধরবে ? এতে নিছকই রাজনৈতিক পারদ চড়ানোর প্রক্রিয়া বলেই মনে করছেন কিছু বিশেষজ্ঞ৷

গত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েও বিএনপি ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে ভোট বয়কট করেছিল৷ এতে দলের নিচুস্তরের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন৷ বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক সভায় সেই ক্ষোভ ধরা পড়েছে৷ রেন নির্বাচন বয়কট করা হয়েছিল এই প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন দলনেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া৷

আসন্ন একাদশ তম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও আরও কয়েকটি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ জাতীয় ঐক্যজোট একযোগে সরকারপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তৈরি৷ ইতিমধ্যেই বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার কাজে এগিয়েছে৷ তেমনই ঐক্য জোটের অপর সংগঠন গণফোরামের প্রার্থীরাও তৈরি৷ তবে প্রত্যেকেই বিএনপির প্রতীক অর্থাৎ ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে নামছেন৷ বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক জামাত ইসলামির রেজিস্ট্রেশন বাতিল হওয়ায় তাদের প্রার্থীরাও তৈরি হয়েছে নির্দল হিসেবে লড়াই করার জন্য৷

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri