izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা নেই বিএনপিতে

up-bnp.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২২ জানুয়ারী) :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশে বইতে শুরু করেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী শিবির তৎপর হয়ে উঠলেও এখনও কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না বিএনপির। জাতীয় নির্বাচনের ধকল কাটিয়ে উঠে আবারও নির্বাচনমুখী হবে কি না দলটি- এখনও নিতে পারেনি কোনো সিদ্ধান্ত। বিচ্ছিন্নভাবে দলের নেতারা বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বললেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি দলটি। তবে সমালোচকরা বলছেন, যাব না যাব করেও অতীতের মতো বিএনপি এবারও উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে।

মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকায় নির্বাচনোত্তর এক মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরাজয় হয়নি, হয়েছে আওয়ামী লীগের। এ দলটি লজ্জা থাকলে আর কখনই গণতন্ত্রের কথা মুখে আনতে পারবে না।

তিনি বলেন, ভোট ডাকাতি, কারচুরি ও প্রহসনের এই ভোট দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ভোট ডাকাতির চিত্র দেখেছে। তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলেছে। মূলত ৩০ ডিসেম্বর দেশে কোনো ভোটই হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভোট ডাকাতির সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। সারা বিশ্ব দেখেছে- আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।

এদিকে, গত সোমবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের পাগলার হাট এলাকায় একাদশ জাতীয় নির্বাচনের দিন সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত বিএনপির স্থানীয় নেতা তোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে তার বাড়ি সফর করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

সেখানে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, একাদশ নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচন জনগণ মেনে  নেয়নি। আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে নামাতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই ক্ষমতাসীন সরকারকে সরিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের দাবি আদায় করা হবে।

এই সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশগ্রহণ করবে না বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে বিএনপির ভেতর বর্তমান সরকার ও বর্তমান ইসির অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলটি মনে করে, বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত: এবারই দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হহে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও সংসদ নির্বাচনের পর  ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়। সেবার নির্বাচনটি হয়েছিল মোট ছয় ধাপে। দেশের মোট ৪৬০টি উপজেলার মধ্যে অধিকাংশ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হলেও বিএনপির প্রার্থীরা প্রায় ১শরও বেশি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়। বিএনপির ঘনিষ্ট শরিক জামায়াতও ৩৪টি উপজেলায় নিজেদের চেয়ারম্যান পায়। ভাইস  চেয়ারম্যান পেয়েছিল ১০৫ জন। ওই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও দলীয়ভাবে প্রার্থী দেয়া হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ইসি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।  ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। এবার উপজেলা নির্বাচন হবে মোট পাঁচ ধাপে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় মহলের সিদ্ধান্ত পরিস্কার না হওয়ায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা রয়েছে অন্ধকারে। সরকারী দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা যেখানে ইতোমধ্যেই নির্বাচনী গণসংযোগে নেমে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, সেখানে এখনও বিএনপির কোনো আগ্রহী প্রার্থীর নামই শোনা যাচ্ছে না। তবে, একাদশ নির্বাচনের ফলাফল দেখে বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাই নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বলে শোনা যায়।

রাজধানী ঢাকার কাছের উপজেলা ধামরাইয়ে ২০১৪ সালে বিএনপি থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তমিজ উদ্দিন আহমেদ। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি উপজেলা নির্বাচন করবো না। দেশের যা অবস্থা, তাতে এখান থেকে আমরা আগ্রহী প্রার্থীও পাচ্ছি না। দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন হয়ত কেউ প্রার্থী হবেন। এখন কেউ আগ্রহ  দেখাচ্ছেন না। তবে আমি নির্বাচন করবো না এটা চূড়ান্ত। দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক অবস্থা চলছে, তা এ রকম থাকলে আমি রাজনীতিই ছেড়ে দেবো।

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করবে কি করবে না এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ নির্বাচনে যা হয়েছে, তাতে আর নির্বাচনের কথা চিন্তা করা যায় না। একটি অনির্বাচিত সরকার, অনির্বাচিত সংসদ ও পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা নেই।

আমির খসরু বলেন, আমরা এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবো না এমন  কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেইনি। তবে আমরা মনে করি, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই আর গ্রহণযোগ্য হবে না। সেক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগও তেমন নেই।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি থেকে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান এলাকায় তারা কোনো তৎপরতা না চালালেও দলের কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অবশ্য কেন্দ্র থেকে তাদের হা-না কিছুই বলা হচ্ছে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুটি বৈঠক হয়েছে। তাতে নির্বাচনের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে। কিন্তু সকলেই একতমত যে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় তা সংসদ নির্বাচন দিয়েই প্রমাণ হয়েছে।

দুদু জানান, এর আগে আমরা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখনও উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। তফসিল হওয়ার পর নির্বাহী কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্র থেকে এখনও উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে দেশে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদের শাসনামলে। এরপর ১৯৯০, ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পরিষদই হলো সর্বোচ্চ নির্বাচিত পরিষদ।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri