izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

 বিএনপি কী ভাঙছে ?

bnp-andolon-1-3.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৪ জানুয়ারী) :: বিএনপি কী ভাঙছে? এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম ভরাডুবির পর বিএনপি ভাঙার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে প্রসঙ্গটি। এবার তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর তা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং বিএনপি মহাসচিব। এ জন্য অবশ্য বরাবরের মতো তিনি দায় চাপাচ্ছেন সরকারের ওপর। তার ভাষায়, বিএনপিকে বিভক্ত করে তার শক্তিকে ছোট করে দেয়ার চক্তান্ত হচ্ছে।

তার বিশ^াস যেটা আগে পারেনি, কোনোদিন সেটা পারবে না সরকার। এ অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে সরকার পক্ষ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ভাঙবে দলের মধ্য থেকে। এতে সরকারের দায় নেই।

আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নির্বাচনে মহাপরাজয় ঘটায় বিএনপির শৃঙ্খলা ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম ভরাডুবিতে দলের মধ্যে এক ধরনের উন্মাতাল পরিস্থিতি চলছে তা শেষ পর্যন্ত ভাঙনে ঠেকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। অন্য অনুষঙ্গের সঙ্গে নেতাদের দল পরিচালনায় ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, স্বজনপ্রীতি ও টাকা কামানোর মনোনয়ন বিএনপিকে যে দ্ব›দ্ব ও সংঘাতে ফেলেছে তার মুক্তি ভাঙন ছাড়া মিলছে না- এটা এখন স্পষ্ট।

দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গভীর সংকটে পড়া বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না, এমন ঘোষণা দিয়ে আসছিল। কিন্তু বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নেতারা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বোঝাতে সক্ষম হন, নির্বাচনে অংশ নিলে তারা নিশ্চিত বিজয় অর্জন করবে। এমনকি খালেদা জিয়াকে আবারো প্রধানমন্ত্রী বানানো এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তারা। তাদের পরামর্শে প্রলুব্ধ হয়ে হঠাৎ করেই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় হাইকমান্ড।

একটি অংশ তখনো নির্বাচনে না যাওয়ার প্রশ্নে অটল থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। এমনকি তারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে বৈধতা দেয়া হবে- এমন যুক্তিও তুলে ধরে। কিন্তু তাদের কোনো যুক্তি ও পরামর্শ ধোপে টেকেনি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে বিএনপির হাইকমান্ড। মনোনয়নের নামে সারা দেশে চলে বাণিজ্য। এতে একটা সুবিধাবাদী চক্র নিজেদের আখের গুছিতে সটকে পড়ে।

ফলে গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে মাত্র আটটি আসনে জয়ের দেখা পায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। দলটির চার দশকের ইতিহাসে আর কখনো এত বাজে ফল হয়নি। অন্যদিকে রেকর্ড ভোটে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্র্নির্বাচন দাবি করলেও তা আমলে নেয়নি সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির একটি অংশ এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। অন্য একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ায় হাত দিয়েছে। যাতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার নামে হাইকমান্ডকে বোকা বানানোর সঙ্গে জড়িতদের দল থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই পক্ষের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে দলে ভাঙনের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

ভাঙন প্রক্রিয়া যে এগিয়ে যাচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সেই চক্রান্তগুলো হচ্ছে বিএনপিকে বিভক্ত করে তার শক্তিকে ছোট করে দেয়া। এই চক্রান্ত হচ্ছে বিএনপিকে যেটা এখন পর্যন্ত পারেনি, এর আগেও চেষ্টা করেছে। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, কোনোদিনই তারা (সরকার) সেটা পারবে না। তিনি বলেন, যতবার বিপর্যয় এসেছে ততবার বিএনপি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ফিনিক্স পাখির মতোই জেগে উঠেছে, নতুন জীবন লাভ করেছে।

এর আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বিএনপিতে ভাঙনের সুর তৈরি হওয়ার কথা বলে আসছেন। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে বলেও গত নির্বাচনের আগে মন্তব্য করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে বলেছিলেন, লজ্জা থাকলে নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগ করা উচিত।

তিনি বলেন, মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসবে কি আসবে না, এটা বিএনপির ব্যাপার। এখানে আওয়ামী লীগের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই।

দল ভাঙনের গুঞ্জন যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, এমন সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ত্যাগী, যারা পরীক্ষিত নেতাকর্মী তাদের নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, আমাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে এমনিভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলাম। তারপর দলের কাউন্সিল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা সাহসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান অবস্থা থেকে বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল পুনর্গঠনের বিকল্প নেই।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, তরুণদের সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা যারা, আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা সরে যাব। তারপরও এই দলটাকে তো রাখতে হবে। এর একমাত্র উপায় হলো পুনর্গঠন করা। এই কাজ আমাদের কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তাহলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

দলীয় নেতাদের এমন অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপিকে যারা বিভক্ত করতে চায় তাদের পরাজিত করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের রাজনীতিকে বুঝে সেই রাজনীতির পক্ষে আমাদের অত্যন্ত শক্তভাবে অবস্থান নিতে হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri