তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

us-ship-in-taiwan.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৫ জানুয়ারী) :: তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে চলতি বছর প্রথমবারের মতো দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও স্বশাসিত তাইওয়ানের মধ্যকার চলমান বিরোধের মধ্যে তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের সমর্থনের নিদর্শন হিসেবেই জাহাজ দুটি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাইওয়ান সরকার। খবর রয়টার্স।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে চীন। একই সঙ্গে দেশটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও উপেক্ষা করছে না তারা।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ান ও চীনকে বিভক্তকারী তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে জাহাজ দুটি উত্তর দিকে চলে গেছে। সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনেই জাহাজ দুটি সমুদ্রযাত্রা করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাইওয়ান এ অভিযান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।

গত বছর তিনবার তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। চীনা সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত উন্নতি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য এক ধরনের হুমকি। এ হুমকি সত্ত্বেও মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা। গত ১০ বছরে এ প্রণালি দিয়ে এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি দেশটি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং জানান, সমুদ্রপথ দিয়ে মার্কিন রণতরী যাওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে চীন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দেশটিকে ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী ক্ষমতাসীন দলের নেতা সাই ইং-ওয়েন ২০১৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা শুরু করে চীন। কয়েক বছর ধরে তাইওয়ানের চারপাশে যুদ্ধবিমান ও রণতরীর মাধ্যমে ক্রমাগত সামরিক মহড়া চালাচ্ছে দেশটি।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন একটি বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ান ও ফিলিপাইনকে বিভক্তকারী বাশি চ্যানেল দিয়ে বেশ কয়েকবার বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে চীন।

মন্ত্রণালয় জানায়, গত মঙ্গলবারও এ ধরনের একটি অভিযান পরিচালনা করেছে চীন। এ অভিযানটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে তাইওয়ান।

চলতি মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের অধিকার রাখে চীন। শির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন সাই ইং-ওয়েন। তিনি তাইওয়ানকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি ‘এশিয়া রি-অ্যাশিউরেন্স ইনিশিয়েটিভ অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Share this post

PinIt
scroll to top