টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ী দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

Teknaf-yaba-2-man-dead-28.jpg

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ(২৮ জানুয়ারী) :: কক্সবাজারের মাদক অধ্যূষিত শহর টেকনাফে আবারও দুই জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর বরাবরের মত কথিত বন্দুক যুদ্ধে তাদের মৃত্যূ হয়েছে বলে দাবী করছে পুলিশ। পুলিশের আরও দাবী নিহত নিহত দুজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এনিয়ে গত তিন মাসে কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩৯ জন মাদক কারবারি নিহত হল। তাদের মধ্যে ৩৬ জনই টেকনাফের।

জানা যায়,২৮ জানুয়ারী ভোরে টেকনাফে মাদক ব্যবসায়ী দু’গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, ইয়াবা ও বুলেট উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল হতে গুলিবিদ্ধ দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। মৃতদেহ পোস্ট মর্টেমের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এরআগে ২৮ জানুয়ারী রাত ৩টারদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ঝিমংখালী এলাকায় স্বশস্ত্র মাদক কারবারী দু’গ্রুপের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪হাজার পিস ইয়াবা, ২টি দেশীয় অস্ত্র, ৭ রাউন্ড বুলেট এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হোয়াইক্যং মিনা বাজারের ছফর আলীর পুত্র মোঃ রফিক (৩০) ও ঝিমংখালীর ফরিদ আলমের পুত্র দেলোয়ার হোছন প্রকাশ রুবেল (২৫) কে আহত এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃতদের টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, দু’পক্ষের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ইয়াবা,২টি দেশী অস্ত্র ও ৭ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নিহতরা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে চুরি-ডাকাতি, মানব পাচার ও মাদক চোরাচালানসহ নানা অপরাধে সম্পৃক্ত ছিল।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ইউনিয়নের খারাংখালী, নয়াবাজার, মিনা বাজার, ঝিমংখালী, নয়াপাড়া, কাঞ্জর পাড়াসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় মৎস্য ঘেঁরের আড়ালে বিশাল বিলের মধ্যে দূর্গম সীমান্ত আর পাহাড়ী আস্তানার সুযোগে স্বশস্ত্র এক ডজনের অধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে মাদক চোরাচালান চালিয়ে আসছে।

অনেকে ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকতে মোটাংকের বিনিময়ে ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের পদপদবী বাগিয়ে নিয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে কম্বনিয়া পাড়া, কাচার পাড়া, পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়া, পশ্চিম সাতঘরিয়া পাড়া, পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, নয়াবাজার ও নয়াপাড়ার সিন্ডিকেট বিপদজনক। তাদের অপকর্মে এলাকার কোন শিক্ষিত, সুশীল ও সচেতন সমাজের কেউ প্রতিবাদ করলে নানা খুড়াঁ অজুহাতে হামলার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হতে হয়। এই স্বশস্ত্র মাদক সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় এসব এলাকার সাধারণ মানুষ এখনো নিরাপত্তাহীন রয়েছে। অত্র এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযানে সাধারণ মানুষ উৎফুল্ল।

প্রসঙ্গত সরকারের পাঁচটি সংস্থা মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা জমা দিয়েছে তা পর্যালোচনা করে ১৪ হাজার মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান পাওয়া গেছে।এরমধ্যে মাদকের গডফাদার রয়েছেন ৯০০ জন। শুধু টেকনাফেই ৫৪ গডফাদার এবং ১৭৫ জন মাদকের বড় ব্যবসায়ী আছেন। মূলত টেকনাফের ৫৪ গডফাদারই মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনার বিষয়টি দেখভাল করে থাকেন। দেশব্যাপী ৯০ ভাগ ইয়াবা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেন এই ৫৪ গডফাদারই।

Share this post

PinIt
scroll to top