buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

পেকুয়ায় গণ ডাকাতি, গুলি বিনিময়

dakati.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২৭ জানুয়ারি) :: পেকুয়ায় উজানটিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়ায় একাধিক বসতবাড়ি ও দুটি কার্গোবোটে গণ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।

এ সময় স্বশস্ত্র ডাকাতদল ওই দ্বীপে ৭ টি বসতবাড়ি ও ৫ টি মৎস্য ঘেরের বাসায় হানা দেয়। এ সময় বোটের ইঞ্জিন, লবণ চাষে পানি ও সেচ যন্ত্র ৭ টি (মেশিন), নগদ টাকা, বসতবাড়ির মালামাল, স্বর্ণালংকার লুট করে। গভীর রাতে ডাকাতদল বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপটিতে হানা দেয়।

ডাকাত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা জড়ো সময় ডাকাত দলের উপস্থিতি ও বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি সংঘটিত হচ্ছে এ খবর আঁচ করতে পেরে মসজিদের মাইক্রোফোনে এ খবর প্রচার করে।

এ সময় শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হন। তারা বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপ থেকে ডাকাত তাড়াতে সামনের দিকে অগ্রসর হন। এ সময় ডাকাত, ডাকাত চিৎকারে বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপে আতংক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্বশস্ত্র ডাকাতদল অন্তত ২০ রাউন্ডের বেশী ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করে। জনতার প্রতিরোধের মুখে স্বশস্ত্র ডাকাত দল পিছুনের দিকে হটতে থাকে।

২৬ জানুয়ারী (শনিবার) দিবাগত গভীর রাতে করিয়ারদিয়ায় পৃথক স্থানে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় ডাকাত দলের হামলা ও প্রহারে লবণ ও চিংড়িঘেরের অন্তত ৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

এদেরকে বিভিন্ন ক্লিনিক ও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা সেরে নিয়েছেন। আহতরা হলেন-মৃত জেবর মুল্লুকের ছেলে আবুল কাসেম (৪০), কুতুবদিয়ার বাসিন্দা চিংড়ি ঘেরের ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন (৩৫), সদর ইউনিয়নের জালিয়াখালীর মাহামুদুল করিম (৪০), অপর আহতের নাম জানা যায় নি।

তবে অজ্ঞাত নামের ওই আহত একজন কিশোর বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন দিবাগত গভীর রাতে স্বশস্ত্র ১৫/২০ জনের ডাকাতদল উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়ায় হানা দেয়।

এ সময় তারা সাইটপাড়ার শফিউল কাদেরের বাড়ি, আবু ছৈয়দের বাড়ি, মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ি, জামাল উদ্দিনের বাড়ি, সালাহ উদ্দিনের বাড়ি, ঢেমুশিয়ার আক্কাসের লবণ মাঠের বাসা, কুতুবদিয়ার আলীআকবর ডেইলের মৃত নুরুচ্ছফার ছেলে ফিরোজ আহমদের খামার বাড়ি, একই এলাকার জকির আলমের ছেলে সাহাব উদ্দিনের খামারবাড়িসহ অন্তত ১০ টি বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় এ সব পৃথক বাড়ি থেকে বিপুল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন মুল্যবান দ্রব্যাদি লুট করে।

একই দিন রাতে তারা এ দ্বীপের নাপিতারঘোনা, ছোট বাইশারী, কুমবাইশারী, বড় বাইশারী ও ভইসাঘোনায় চিংড়িঘেরের বাসা ও লবণ মাঠের অন্তত ৫ টি বাসায় হানা দেয়।

এ সব বাসা থেকে নগদ টাকা, লবণ উৎপাদনে ব্যবহৃত পলিথিন বান্ডিল, পানি ও সেচযন্ত্রে ব্যবহৃত ৭ টি মেশিন ও বিভিন্ন দ্রব্যাদি লুট করে। চিংড়িঘেরের কর্মচারী ও লবণ শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে ফেলে। এ ছাড়া উল্লেখিত শ্রমিকদের বেদম প্রহর ও হামলা চালিয়ে আহত করে।

নাপিতাঘোনায় মৃত হাজি আলী আহমদের ছেলে এনামুল হক ও আজিজুল হকের বাসায় হানা দেয়। এ ছাড়া ছোট বাইশারীতে ওয়ার্ড আ’লীগ সম্পাদক করিয়ারদিয়ার ছৈয়দ আলমের বাসায় হানা দেয়। একই দিন রাতে পুরাতন ঘোনায় উপজেলা আ’লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফার খামারের বাসায় হানা দেয়। এ সময় তার ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিনকে পিটিয়ে জখম করে।

এ ছাড়া চকরিয়ার ফাসিয়াখালীর মৃত বদিউল আলমের ছেলে আবদুল মালেক কুমবাইশারী লবণ মাঠের বাসা, দরবেশকাটার সাবেক চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের চিংড়ি ঘেরের বাসায় হানা দেয়। তারা এ সব খামার থেকে বিপুল পরিমাণ দ্রব্যাদি ও নগদ টাকা লুট করে। এ দিকে গত ১ মাসের ব্যবধানে করিয়ারদিয়ায় পৃথক স্থানে দফায় দফায় ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ২৫ ডিসেম্বর মৌলভী রফিক আহমদের মালিকানাধীন কার্গোবোটে ও এর ৩ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইউপি সদস্য জাফর আলম চৌধুরী মালিকানাধীন দুটি কার্গোবোটে ডাকাতি হয়েছে। এ সময় এ দুটি বোট থেকে দুটি মেশিন লুট করে।

গত ১৫ দিনে করিয়ারদিয়ায় অন্তত তিন দফা ডাকাতি সংঘটিত হয়। অজিউল্লাহর ছেলে মনজুর আলমের চিংড়িঘেরের বাসায় চলতি মাসের ৭ জানুয়ারী ডাকাতি সংঘটিত হয়। এ সময় ওই বাসা থেকেও বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সম্প্রতি সিরিজ ডাকাতিতে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়ার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। মানুষের জান মাল বিপন্ন প্রায়। মহেশখালী চ্যানেল ও উজানটিয়া চ্যানেলের অববাহিকায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়ার অবস্থান।

ভৌগলিক অবস্থানগত প্রেক্ষাপটে এ দ্বীপটি উপজেলার দুর্গম স্থানে অবস্থিত। এতে করে জলদস্যু ও অপরাধীরা এ দ্বীপকে ঘিরে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিগণিত করে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারনে এর নিরাপত্তা জোরদার করা প্রশাসনের অনেকটা কঠিন।

পেকুয়া উপজেলার অন্তর্গত হলেও থানা প্রশাসনের নজরদারীতে আনা অত্যন্ত জটিল। পুলিশের পক্ষে নিয়ন্ত্রন অনেকটা দু:সাধ্য। সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের নেতা সিরাজুল মোস্তফা জানায়, সম্প্রতি করিয়ারদিয়ায় সিরিজ আকারে ডাকাতি হচ্ছে।

গত এক মাসের ব্যবধানে এ দ্বীপে ১৫ টির বেশী ডাকাতি হয়েছে। ২৬ জানুয়ারী রাতে ১৫ থেকে ১৬ পয়েন্টে ডাকাতি হয়। সাইটপাড়ায় ১০ টির বেশী বাড়ি ও লবণ, চিংড়িঘেরের ৭ টি বাসায় ডাকাতি হয়েছে। আমরা মসজিদের মাইকে প্রচার করে মানুষ জড়ো করেছি। ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা ছৈয়দ আলম জানায়, আমার বাসায় ডাকাতি হয়েছে। মেশিন নিয়ে গেছে।

ইউপি সদস্য জাফর আলম জানায়, আমার কার্গোবোট থেকে মেশিন নিয়ে গেছে ডাকাতি করে। নলবিলা, মাতারবাড়ি, বদরখালীসহ মহেশখালীর জলদস্যুরা এখানে ডাকাতি করছে। নলবিলার একজন পেশাদার ডাকাত ও করিয়ারদিয়ার পেশাদার ডাকাতদের সমন্বয়ে এ ডাকাতি হচ্ছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন ভূইয়া জানান, কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) কাজী মতিউল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, আমি বিষয়টি দেখছি। পুলিশকে জানিয়েছেন কেউ।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri