পেকুয়ায় হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

tex-holding.jpg

মো:ফারুক,পেকুয়া(২৭ জানুয়ারী) :: পেকুয়ায় রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে সাধারণ আসহায় মানুষের কাছে থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন প্রতিবেদককে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা জানান, বর্তমান সরকার বিভিন্নভাবে উন্নয়ন ও সেবামমূলক কর্মকান্ড করে আসলেও রাজাখালী ইউনিয়নের অবস্থা ভিন্ন। কারণ আমাদের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর এলাকার মানুষের উপর অর্থ আদায়ের নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হয়রানি করে আসছে। যেখানে আমরা রীতিমতো তিনবেলা ভাত খেতে পারিনা, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত অর্থ গুলো কি ভাবে দিব ?

এই অর্থ পরিশোধ করতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমরা এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে অসম্মতি জানালে বিভিন্নভাবে ভয়ভিতি সহ ইউনিয়ন পরিষদের সেবা থেকে বঞ্চিত করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমরা কার কাছে পাব এই অনাচারের প্রতিকার ?

রাজাখালী ইউনিয়ন জমিদার অধ্যুষিত এলাকায় আমাদের পূর্ব পুরুষেরা বসবাস করে আসছে। এ ধারাবাহিতা আমাদের বসবাস। কালের বিবর্তনে আমাদের পূর্ব পুরুষরাসহ আমরা শোষিত ও বঞ্চিত হয়ে আসছি।

গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমরা বহু আশা নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি আমাদের দুঃখ দুর্দশা বুঝবে বলে। কিন্ত এখন দেখছি সে অতীতের চাইতে এখন আরো বেশি করের বোঝাসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থিক হয়রানির করা হচ্ছে। এহেন তার এই অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য প্রসাশনের হস্তেক্ষেপ কামনা করছি।

ভুক্তভোগী আজিজুল হক বলেন, আমি একজন জেলে। সাগরে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে আমার সংসার চলে। অভাব অনটন লেগেই থাকে সংসারে। সঠিক সময়ে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখার খরচ দিতে পারিনা। একটি খুঁড়ে ঘরেই আমার বসবাস। যে ঘরে শীতের বাতাসের জন্য ভালো ভাবে ঘুমাতে পারিনা। সেই সাথে আবার গুণতে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক কর নামের অতিরিক্ত টাকা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রাজাখালী ইউনিয়ন সচিব নবীউল ইসলাম বলেন, সরকারি ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন কেন্দ্রিক হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য। এ অর্থ আদায়ের জন্য গ্রাসরুট কো-অপারেশনের নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করা হয়েছে।

গ্রাসরুট কো-অপারেশনের এরিয়া ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজাখালী ইউনিয়নে বসবাড়ি থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য আমরা চুক্তিবদ্ধ হই। চলতি মাসের ১৪ তারিখ থেকে তাদের দেওয়া হোল্ডিং তালিকার ভিত্তিতে আমরা অর্থ আদায় করে আসছি। আজ পর্যন্ত আমরা ২ হাজার বসতঘর থেকে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবউল করিম বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের তালিকাটা খানা ভিত্তিক অর্থাৎ চুলা ভিত্তিক তৈরী করা হয়েছে। এজন্য একটি বসতগৃহে তিনটা পরিবার থাকলে ঐ তিন পরিবারই তালিকায় অন্তভুক্ত হবে। যতটাকা আদায় করা হবে তত টাকার রিসিভ দিতে হবে।

রিসিভের বাইরে কেউ অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকলে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা একেবারে নিম্ন আয়ের লোক তাদের কাছ থেকে কর নেওয়া হলে, তারা যৌথভাবে আমার বরাবর অভিযোগ দিতে বলেন আমি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno