দুদক পরিচয়ে প্রতারণায় সক্রিয় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র

Dudak-1024x585.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২ ফেব্রুয়ারি) :: টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে অভিযান জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এ তত্পরতায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভয়ে থাকলেও একে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে দুদকের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণায় জড়িত অপরাধীচক্র। এরই মধ্যে দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে বড় অংকের অর্থও হাতিয়েছে এ চক্রের সদস্যরা। প্রতারণার অভিযোগ পেয়ে এসব ভুয়া দুদক কর্মকর্তার কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হচ্ছে। এর পরও দুদকের পরিচয়ে প্রতারণা বন্ধ হচ্ছে না।

জানা গেছে, চক্রটি প্রথমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কে খোঁজ নেয়। এরপর সরকারি টেলিফোন ইনডেক্স থেকে ফোন নম্বর নিয়ে তাদের দিয়ে বলায়, ‘আমি দুদক থেকে বলছি। আপনার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির কিছু ফাইল খোলা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তাই বাঁচতে চাইলে দেখা করুন।’ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের টার্গেট করে এভাবে দুর্নীতির মামলার ভয়ভীতি দেখায় তারা। এরপর বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। চক্রটি সরকারি ব্যাংক, ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পুলিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করে। কখনো দুদকের কমিশনার আবার কখনোবা কর্মকর্তা পরিচয়ে হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

গত শুক্রবার দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আনিছুর রহমান ও ইয়াসিন তালুকদার নামে দুই প্রতারককে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২১টি মোবাইল ও ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করা ২৬টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। এরপর গতকাল কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-৩) মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, সংঘবদ্ধ এ চক্রটি ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত সরকারি ৫০০ কর্মকর্তার কাছ থেকে ৪০-৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ র্যাব কর্মকর্তা বলেন, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত তারা ভয়ে টাকা দিয়ে দিচ্ছিলেন। আর দুর্নীতিগ্রস্ত নন এমন কর্মকর্তারা দুদককে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। এরপর ২৭ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে র্যাব মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির তদন্তে নেমে চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ চক্রের আরো সাত-আটজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি ভুয়া দুদক কর্মকর্তা হাসান মুন্না ওরফে রফিককে গ্রেফতার করে দুদক। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্যের পিএ রফিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তারও আগে গত নভেম্বরে দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করায় মো. ফয়েজ উদ্দিন (ফয়েজ) ওরফে ফয়সল রানা নামে একজনকে গ্রেফতার করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

দুদকের নাম ভাঙিয়ে প্রতারকচক্রের তত্পরতা প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় সতর্কবার্তা দিয়ে বিজ্ঞপ্তুি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে দুদক জানিয়েছে, কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন ভুক্তভোগী ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিভিন্ন নামে কমিশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক বা একাধিক সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, ব্যাংক-বীমায় কর্মরত ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিতদের কাছে তাদের নামে দুদকে কল্পিত অভিযোগ আছে জানিয়ে অথবা কমিশনের বিবেচনাধীন কোনো অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করছে।

দুদকের মতো সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় কোনো ব্যক্তির একক অভিপ্রায় অনুসারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অথবা অভিযুক্ত হওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। অনুসন্ধান বা তদন্তসংক্রান্ত সব যোগাযোগ টেলিফোন বা মোবাইল ফোনে করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কমিশনের। কমিশনের এ-সংক্রান্ত সব যোগাযোগ কেবল লিখিত চিঠির মাধ্যমেই করা হয়। টেলিফোন বা মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো প্রশাসনিক ও আইনি সুযোগ নেই। প্রতারকদের এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধও জানায় কমিশন।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, দুদক কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে যে বা যারা প্রতারণা করবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসব ক্ষেত্রে দুদকে কর্মরতদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের এ মহাপরিচালক বলেন, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক সবসময় কঠোর। এসব ক্ষেত্রে যদি দুদকের কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno