izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া

Russia_USA_nuclear_weapon.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২ ফেব্রুয়ারি) :: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি (আইএনএফ) চুক্তি স্থগিত করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন  এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ছয় মাসের জন্য আইএনএফ চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। খবর রয়টার্স।

কয়েক বছর ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে আইএনএফ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া চুক্তিটি স্থগিতের পাল্টাপাল্টি এ ঘোষণা দিল। পারমাণবিক অস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুদ নিয়ন্ত্রণকারী দুই দেশের এমন ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার কারণ হতে পারে বলে গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্বীকার করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। একই আশঙ্কার কথা বলছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা।

আইএনএফ চুক্তি অনুসরণ থেকে আপাতত সরে আসার কথা জানিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন গতকাল বলেছেন, আমাদের মার্কিন অংশীদাররা চুক্তিতে তাদের অংশগ্রহণ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বহু বছর ধরে নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির মূল বিষয় নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলেছি। কিন্তু আমরা দেখেছি অংশীদাররা আমাদের উদ্যোগে সমর্থন দেয়নি।

এর আগে শুক্রবার একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, আইএনএফ চুক্তির শর্তগুলো রাশিয়ার উপর্যুপরি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি স্থগিত করছে। চুক্তি ভেঙে রাশিয়া মাঝারি পাল্লার যেসব কৌশলগত অস্ত্র প্রস্তুত করেছে, সেগুলো এ সময়ে ধ্বংস না করলে মার্কিন সরকার আইএনএফ থেকে স্থায়ীভাবে প্রস্থান করবে বলে তিনি জানান।

জবাবে আরো কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট গতকাল বলেছেন, আইএনএফ চুক্তি কার্যকর থাকায় যে অস্ত্রগুলো এতদিন নিষিদ্ধ ছিল, এখন থেকে রাশিয়া সেগুলো প্রস্তুত করবে। ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে রাশিয়া কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবে না বলেও তিনি ঘোষণা করেন।

স্নায়ুযুদ্ধকালের যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বেপরোয়া অস্ত্র প্রতিযোগিতার রাশ টানতে ১৯৮৭ সালে আইএনএফ চুক্তি স্বাক্ষর করেন দুই পরাশক্তির তত্কালীন নেতা রোনাল্ড রিগ্যান ও মিখাইল গর্বাচেভ। এতে দুই পক্ষ ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ মাইল পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ভাবন ও প্রস্তুত না করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত ইউনিয়ন কৌশলগত অস্ত্র সীমিতকরণ চুক্তি (সল্ট) ও কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি (স্টার্ট) নবায়ন বন্ধ হওয়ার পর আইএনএফ ছিল ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বড় হাতিয়ার। এবার দুই পক্ষ চুক্তিটি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় আরো কিছু দেশকে নিয়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে পরমাণু অস্ত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জন উলফস্টল। আইএনএফ ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভাবেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন গতকাল দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বৈঠকে আইএনএফ ইস্যুতে মস্কোর পদক্ষেপের কথা জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, অন্যরা কোনো চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে আমরা নিজেদের হাত-পা বেঁধে রাখতে পারি না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ঘোষণার পর দুই পক্ষকেই দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে চীন। গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চলে যাওয়াকে সমর্থন করে না চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে তাদের মধ্যকার বিবাদ গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri