izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রশাসনের গড়িমসি

bakkhali-dkl.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৩ ফেব্রুয়ারী) :: কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহি ও প্রধান নদী বাঁকখালী অবৈধ দখল ও দূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি নাব্যতা সংকটে রয়েছে। শুধু দখলবাণিজ্যের কারণে বাঁকখালী নদীটির অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত প্রশাসন ও পরিবেশবাদীরা। ৫ বছর আগে বাঁকখালী দখল ও দূষণ মুক্ত করতে উচ্চ আদালতের দেওয়া নির্দেশ আজও বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। এ সুযোগে প্রতিদিন দখল ও দূষণ হয়ে চলেছে বাঁকখালী নদী। আর গত দুই বছর প্রশাসন ও পৌরসভার নিস্ক্রিয়তায় শতাধিক দখলবাজ স্থাপনা ও খুটি গড়েছে বাঁকখালীর তীরে। সর্বশেষ সরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বাঁকখালী নদীর তীরের অবৈধ দখলকারীর সংখ্যা ২২০ জন। প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী কক্সবাজার সদর উপজেলার বাংলাবাজার থেকে শহরের নুনিয়াছরা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশে দিন দিন দখল বাড়ছে। সরকারি তালিকায় দখলদারদের সংখ্যা ২২০ জন। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের তালিকায় রয়েছে ৭৯ জন, উপকূলীয় বনবিভাগের তালিকায় ৭১ জন এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের তালিকায় রয়েছে ৭০ জন। তবে সরকারি তালিকার বাইরে আরো দখলদার রয়েছে।প্রশাসন দখলদারদের তালিকা তৈরি করলেও রাজনৈতিক নেতাদের নাম থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় গতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

আর এসব কারণে নদীটিকে নৌবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি পরিকল্পনাও ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০১০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে নৌবন্দর নির্মাণে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট থেকে মহেশখালী চ্যানেল পর্যন্ত দুই পাড়ের এক হাজার ২০০ একর জমিতে নৌবন্দর প্রতিষ্ঠায় আনুুষঙ্গিক কাজও শেষ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে দখলে থাকায় জেলা প্রশাসন জমি বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নৌবন্দর স্থাপনের কাজ পিছিয়ে পড়ছে।

বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের মে মাসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে বাঁকখালী নদীর সীমানা নির্ধারণে জরিপ চালায়। জরিপের পর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নদীর দুই পাড়ের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএকে বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। তবে নৌবন্দরের জন্য নির্ধারিত জমি বুঝিয়ে দিতে না পারায় মন্ত্রণালয়ের শরণাপন্ন হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সম্প্রতি অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা তৈরি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে তারা।

বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) নয়ন শীল বলেন, কক্সবাজারে প্রস্তাবিত নৌবন্দরের জন্য নদীতীরবর্তী জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছে। দখলমুক্ত করতে না পারায় নৌবন্দরের গেজেট প্রকাশের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু করা যায়নি। নৌবন্দর বাস্তবায়িত হলে সরকারি কোষাগারে বছরে ১০-১৫ কোটি টাকার রাজস্ব জমা হতো।

জানা গেছে, বাঁকখালী নদী দখলের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা। ১৫টি প্রতিষ্ঠান নদী দখল করে শুঁটকি, হ্যাচারি, কাঁকড়া ও মাছের খামার গড়ে তুলেছে। এ ছাড়া ১০টি ভবন নির্মাণ করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া প্রদান করেছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা নদী দখল করে বসতি ভাড়া দিয়েছেন। মূলত নদীর দুই তীরে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের অবৈধ স্থাপনা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

বিআইডব্লিউটিএর তালিকার তথ্য থেকে জানা গেছে, নদীর পাড় দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, ফ্লাওয়ার মিল, ফিশারিজ, ফিশ অফিস, হ্যাচারি, কোল্ডস্টোরেজ, অ্যাগ্রো ফার্ম, বরফকল, দোকান ও বাসা ভাড়া দিয়েছেন প্রভাবশালীরা। অনেকেই নদীর মধ্যে সীমানা তৈরি করে ভবন তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছেন।

জেলার একমাত্র নিবন্ধিত পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলে নদী ভরাট করছে খোদ পৌরসভা।’এ জন্য পৌর মেয়রের অবহেলার কারণেই বর্জ্য ফেলা ও দখল-দূষণ অব্যাহত রয়েছে।তাছাড়া কয়েকজন পৌর কমিশনারের বিরুদ্ধেও বাকঁখালী দখল বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, ‘বাঁকখালীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছিল। বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে দখলদারদের বিরুদ্ধে। সময় মতো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় সদিচ্ছা থাকলেও অভিযানে নামা সম্ভব হচ্ছে না।’এছাড়া বর্জ্য ফেলা অব্যাহত রাখায় পৌরসভার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় পরিবেশ অধিদফতর।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে নদীর দখলদারদের তালিকা তৈরি ও ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের আদেশ অর্থের অভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন।পাশাপাশি  উচ্চ আদালতে মামলার কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত,২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাঁকখালী দখলদারদের তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদ এবং দূষণের উত্স চিহ্নিত করে তা বন্ধের রুল জারি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হাঈদার হোসেন ও ভবানী প্রসাদ সিংহ এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। একই সঙ্গে আদালত নদীর তীরে চিংড়ি, তামাক বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে ইজারা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ১০ সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। অথচ আদালতের নির্দেশের দুই বছরেও বেশি সময় পার হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই।

উল্লেখ্য ৩ ফেব্রুয়ারী নদী দখলকারী ব্যক্তিকে দেশের সব ধরনের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশের কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ারও অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংককে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এক ঐতিহাসিক রায়ে ওই সব নির্দেশনা দেন।

আদালত বলেন, বর্তমান আইনে নদী দখল কোনো অপরাধ না হওয়ায় বারবার নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ নদী দখল করতে না পারে সে জন্য কঠিন সাজা ও জরিমানার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। রায়ের কপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নদ-নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দ্রুত নির্দেশ দিতে পারেন।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri