টেকনাফের হোয়াইক্যং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

joli-1.jpg

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ(৪ ফেব্রুয়ারী) :: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাদের অত্যাচারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা দেখতে কক্সবাজারে তিনদিনের সফরে উড়ে এসেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সোমবার বেলা একটা ১০ মিনিটের দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে এ সময় সংবাদকর্মীদের ক্যাম্পে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।সফরে দ্বিতীয় দিন তিনি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখা করার কথা রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর কার্যালয় জানায়, কক্সবাজারের একাধিক রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি সেখানকার শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনবেন। এছাড়া শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয়া শিশুদের সঙ্গেও সময় কাটাবেন।

জোলি ২০০১ সাল থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন।২০১৭ সালেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা শুনে ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন হলিউডের এ অভিনেত্রী।একই সালের নভেম্বরে ভ্যাঙ্কুভারে জাতিসংঘ পিসকিপিং মিনিস্টেরিয়েলে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তার আগে যৌন নিপীড়নবিষয়ক এক বৈঠকে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোলির সমর্থন চেয়েছিলেন। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোলি তার বক্তব্যে বলেছিলেন- ‘বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় প্রতিটি রোহিঙ্গা নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।’

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জন্ম ১৯৭৫ সালের ৪ জুন। তিনি একজন মার্কিন অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবহিতৈষী। তিনি তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, দুইবার স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং একবার একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০১ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হন। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার, বিশেষ করে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার জন্য জোলি বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে সমাদৃত।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা ছুটে এসেছে বাংলাদেশে। আগে থেকেও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল দেশে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটি ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

Share this post

PinIt
scroll to top