কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করলেন অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

angelina-jolie-rohingya-camp-cb-1.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৫ ফেব্রুয়ারি) :: হলিউড বিখ্যাত অভিনেত্রী এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি কক্সবাজার সফরের দ্বিতীয় দিনে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থীদের সাথে সাক্ষাত করেছেন।

৫ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ইনানীর রয়েল টিউলিপ থেকে  ৪৩ বছর বয়সী জোলি প্রথমে যান ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে। ওখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ করেন তিনি।

এরপর এ অভিনেত্রী যান রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে, সেখানে থাকা শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থ রোগীদের সঙ্গে আলাপ করেন। খোঁজ-খবর নেন তাদের চিকিৎসা সেবার এবং কথা বলেন স্বাস্থ্যকর্মীর সাথেও। এরপর তিনি যান কুতুপালং ৪ নম্বর ক্যাম্পে। একটি স্কুল রোহিঙ্গা শিশুদের সাথে কিছু সময় কাটান ।

এদিন সফর শেষে বিকেলে কুতুপালং ডি-৫ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে একটি সংবাদ সম্মেলনে জোলি বলেন রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।আর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বড় মানবিক দায়িত্ব পালন করে চেলেছে। এ কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী বাসস্থান এখন বাংলাদেশ। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সহায়তায় আরও বলিষ্ট ভূমিকা রাখা।

জোলি আরও বলেন, তারা এখনি ফিরে যেতে পারবেন না। তাদের ফেরানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রোহিঙ্গারা ভিটামাটি হারা। তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসন করতে হবে মিয়ানমার সরকারকেই। তিনি রোহিঙ্গাদের পাশে আছেন বলেও জানান।

কক্সবাজারস্থ রিফিউজি, রিলিফ অ্যান্ড রিপ্রেটিশন কমিশন (আরআরআরসি),কমিশনার আবুল কালাম জোলির সফরকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বিশেষ দূত হিসাবে ভূমিকা পালনকারী “(জোলি) অবশ্যই এখানে থেকে ফিরে যাওয়ার পর বিশ্ব সম্প্রদায়কে একটি বার্তা পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে তার সফর নিয়ে মঙ্গলবার একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার তিনি ঢাকার উদ্যোশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ইউএনএইচসিআর অনুসারে, এই হলিউড তারকা এবং মানবতাবাদী সোমবার পৌঁছেছেন এবং উদ্বাস্তুদের প্রয়োজনীয়তার মূল্যায়ন করার জন্য কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে তিন দিন সময় ব্যয় করছেন।

ইউএনএইচসিআর মুখপাত্র বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাচারিত সংখ্যালঘু, রোহিঙ্গা একের পরোক্ষভাবে নিরাপদ ও টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার উপর মনোযোগ নিবদ্ধ করে যা সংগঠনের বিশেষ দূত জোলি আলোচনা করবেন।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলিতে বসবাসকারী শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করার জন্য এটি ৯২০ মিলিয়ন ডলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তহবিল সংগ্রহের আগে”রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মানবিক চাহিদাগুলি এবং একটি হোস্ট দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়া আরও জটিল কিছু চ্যালেঞ্জের জন্য জোলি তিনদিনের মিশনে এখানে এসেছেন।

Share this post

PinIt
scroll to top