কক্সবাজারকে আকাশ,রেল ও সড়ক পথে সরাসরি সংযোগ করা হচ্ছে : মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

dcpm-6-feb.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৬ ফেব্রুয়ারি) :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোট দেওয়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে জনগণ যে দায়িত্ব নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে; এক বছরের মধ্যে প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে দেশকে আরো এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এক অন্যরকম ও উন্নত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।

বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী গ্রীড উপকেন্দ্র (১৩২/৩৩ কিলোভোল্ট লেভেল) এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আর বিদ্যুতের জন্য গ্রাহকদের গুরতে হয় না। বরং সংযোগ পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকদের কাছে। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার বদ্ধ পরিকর। এর জন্য সুনির্ধারিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। ২০২০ সালের মধ্যে আরও বেশি উন্নয়ন ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এক উন্নত বাংলাদেশকে দৃশ্যমান করতে কাজ চলছে।

মাতারবাড়ি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ৮টি গ্রিড উপকেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন। এতে ১০৬২ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিমান বন্দর আর্ন্তজাতিকমানের উন্নিত হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা একটি পর্যটন এলাকা। তাই কক্সবাজারের আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর পর্যটন শিল্পের জন্য অনেক গুরুত্ব বহন করে। তাই পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারকে আরো আধুনিকভাবে সাজাতে আমরা কাজ করতে চাই। রোহিঙ্গার কারণে যাতে স্থানীয়দের কোন সমস্যা না হয় সে বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। কক্সবাজারের সাথে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ হবে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে চট্টগ্রামের সাথেও একই ভাবে সড়ক যোগাযোগ আরো উন্নত করা হবে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় ও বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন,টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলাবাসীর পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন । এ শুভক্ষণে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, সকল শহীদদের এবং সে সাথে ভাষার মাসে আমি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ভাষা শহীদদের ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আমাদের মাঝে উপস্থিত রয়েছেন মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সম্মানিত বিভাগীয় কমিশনার, বিদ্যুৎ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা ও উপজেলার সুবিধাভোগী বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আপনার দুরদর্শী ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্তগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ফলে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানীখাতে বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মাতারবাড়ীতে আজ ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র উদ্বোধনের ফলে মাতারবাড়ী ও মহেশখালী এলাকায় মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নে আপনার লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও সদর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। এছাড়া আগামী মার্চের মধ্যে পেকুয়া ও রামু উপজেলা এবং অন্যান্য উপজেলা সমূহে ২০১৯ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মহেশখালীতে অধিগ্রহণকৃত ৯৯১৩ একর জমিতে ১৩টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে মোট ১৯,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের বর্তমান মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় সমান হবে। মহেশখালী হবে বাংলাদেশের পাওয়ার হাব। হবে আপনার ঘোষণাকৃত ভবিষ্যতের সিঙ্গাপুর।

আপনি বলপ্রয়োগে বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে আজ আপনি মাদার অব হিউম্যানিটি হিসেবে সমাদৃত ।বিশ্বনেতৃবৃন্দের মত গতকালও বিশ্বখ্যাত হলিউড তারকা ও UNHCR এর বিশেষদূত এঞ্জেলিনা জেলি আপনার সরকারের ও আপনার ভূয়াসী প্রশংসা করেছেন। আপনার নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন সবাইকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সর্বোচ্চ মানবিক সহায়তা প্রদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ,আপনার সানুগ্রহ বিবেচনার জন্য কক্সবাজার জেলাবাসীর পক্ষ থেকে দুটি দাবী পেশ করছি : ক) প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার জনসংখ্যার কুতুবদিয়া উপজেলায় ২২ হাজার পরিবারের মধ্যে মাত্র ৯০০ পরিবার রাতের বেলায় জেনারেটরের মাধ্যমে মাত্র ৪/৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে থাকেন । এ উপজেলার জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা হতে বঞ্চিত । এখানে জনগণের দৈনন্দিন ব্যবহার এবং সম্ভাবনাময় মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লবন শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন । সম্প্রতি সন্দীপের মত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবারহের ব্যবস্থা করেছেন । তদ্রুপ একই পদ্ধতিতে কুতুবদিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিলে কুতুবদিয়াবাসী আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

খ) টেকনাফ উপজেলায় বেজা কর্তৃক নির্মিতব্য সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুািরস্ট জোন ও জালিয়ারদ্বীপে ইকো ট্যুািরজম পাক, পযটন  বিকাশে এবং ঐ অঞ্চলের অথনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরী করবে। তাই এ এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টেকনাফে একটি সঞ্চালন লাইন ও গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মাণ করা প্রয়োজন ।

আপনার চিন্তাপ্রসূত পরিকল্পনায় আগামীর কক্সবাজার হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। | আপনার প্রতি আবারও সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।

উক্ত ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে এ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সরাসরি সুবিধাভোগীদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কৃষক, মৎসজীবী, একটি বাড়ি একটি খামার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী, ব্যবসায়ী এবং বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহক কথা বলেন।

এছাড়া ভিডিও বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডঃ সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও কর্মজীবি চু-সাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোছাইন ইব্রাহীম, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য আনোয়ার পাশা চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য রুহুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, মোশারফ হোসেন খোকনসহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষনেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।

 

Share this post

PinIt
scroll to top