পেকুয়ায় মহিলারা উচ্ছেদ করল মাদক আস্তানা

drug.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৯ ফেব্রুয়ারী) :: পেকুয়ায় এবার মহিলারা উচ্ছেদ করল মাদক আস্তানা। লোকালয়ে গড়ে উঠেছে মাদক আস্তানা। ওই আস্তানাটিতে জড়ো হয় মাাদক সেবী ও নেশাখোর। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই এ আস্তানায় বসে নেশাখোরদের আড্ডা।

মাদকসেবীদের উৎপাত বৃদ্ধিতে এলাকায় অপরাধ কর্মকান্ড বিস্তৃতি পায়। বাড়ি ঘর চুরি, লবণ মাঠের পলিথিন ও সরঞ্জামাদি চুরির ঘটনা বেড়ে যায়। মাদকের উৎকট দুর্গন্ধে লোকালয়ের বসবাসকারী ও পথচারীরা অতিষ্ট হয়। নেশাখোর বখাটেরা মহিলাদের নিয়ে অশোভন আচরন ও প্রতিনিয়ত বিশ্রি মন্তব্যে ব্যস্ত থাকে। এতে করে এলাকার মানুষ ওই আস্তানাটি নিয়ে সমস্যাগ্রস্ত হয়েছে।

মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় সামাজিক অবস্থার অবক্ষয় ঘটে। এ দিকে ওই মাদক আস্তানার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠে। নারীরা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এর সুত্র ধরে নারী ও পুরুষ একত্রিত হন। তারা হানা দেয় মাদক আস্তানায়। এ সময় অর্ধশতাধিকসহ স্থানীয় জনগন মাদক আস্তানাটি গুটিয়ে দেয়।

৯ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, মৌলভীপাড়ায় শাহ আলমের ছেলে আবু ছৈয়দ প্রকাশ কালা বদা নামক মাদক বিক্রেতা লবণ চাষের জমিতে মাদক আস্তানা গড়ে তোলে। ওই আস্তানায় প্রতিদিন বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। লবণ মাঠের বাসার অন্তরালে ওই ব্যক্তি আস্তানাটিতে রমরমা মাদক বিকিকিনিতে ব্যস্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে সেখানে আড্ডা দেয় মাদকসেবীরা। ওই দিন সকালে মৌলভীপাড়া, পালাকাটা ও বামুলারপাড়ার গ্রামবাসীরা জড়ো হন।

তারা সেখানে গিয়ে মাদকের ওই কুড়েঘরটি গুটিয়ে ফেলে। মৌলভীপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম আজাদ জানায়, কালা বদা একজন মাদক ব্যবসায়ী। লবণ মাঠের বাসার অন্তরালে সেখানে নেশার আড্ডা বসায়। বাংলামদ, ই্য়াবাসহ নানানজাত নেশাজাত দ্রব্য এ বাসায় বিক্রি হয়।

রাতে অপরিচিত কিছু বিপদগামী উঠতি বয়সী যুবক ও মহিলারাও এ বাসায় আসা যাওয়া করে। এদের গতিবিধি সন্দেহ জনক। ওয়াজেদ আলী নামক এক সাহসিক ব্যক্তির নেতৃত্বে আমরা পুরুষ ও নারীরাও জড়ো হয়ে সেটি চুরমার করেছি। লবণ ব্যবসায়ী জিয়া জানায়, নারীদের সম্ভ্রমহানি করা হচ্ছিল। তাই তারা প্রতিবাদ করতে এ বাসাটি গুটিয়ে দেয়।

ওয়াজেদ আলী প্রকাশ ওবাইদু জানায়, ২ টি মসজিদ ও ১ টি কবরস্থান আছে। এমন জায়গায় এ মাদক আস্তানাটি নিয়ে আমরা লজ্জিত ও হতাশায় ভোগছিলাম। কালাবদা একজন নামকরা মাদক বিক্রেতা। ৪০ লিটার ও ৩০ লিটার চোলাইমদসহ ২ বার পুলিশ তাকে আটক করে। ওসি জহিরুল ইসলাম খানের সময় আটক হয়েছিল। তার পিতাও মাদক বিক্রেতা। আকলিমা, পুতুনি, রাসু বেগম ও ফরিদা ইয়াসমিনসহ মহিলারা জানায়, আমরা অতিষ্ট ছিলাম। তাই গিয়ে সেটি চুরমার করে দিয়েছি।

ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম আজাদ জানায়, মানুষ একটি ভাল কাজ করলে এ কাজটি করেছে। আমি খুশি হয়েছি। এ ভাবে প্রতিবাদ করলে এ সব হ্রাস পাবে সমাজ থেকে।

Share this post

PinIt
scroll to top