izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

পৃথিবীর হত্যার রাজধানী মেক্সিকোর সিউদাদ জুয়ারেজ

mexico_death.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১০ ফেব্রুয়ারি) :: মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী শহর সিউদাদ জুয়ারেজকে বলা হয় পৃথিবীর হত্যার রাজধানী। মাদক চোরাকারবারি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যার জন্য কুখ্যাত এ শহর। তবে এত কিছুর পরও এই শহরের মানুষদের আতঙ্কমুক্ত ও ভালোবাসায় সিক্ত করে রেখেছে ফুটবল। একইসঙ্গে এ খেলা এখানকার মানুষদের ঐক্যবদ্ধ রাখতেও সহায়তা করেছে।

২০০৮ সাল থেকে শুরু করে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ লাখ মানুষের এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গণহত্যার জোয়ার শুরু হয়। চোরাকারবারিদের নিজেদের মধ্যকার এ সংঘর্ষে শহরের হাজারো সাধারণ মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। মার্কেট, বিয়ের অনুষ্ঠান অথবা সন্তানের জন্মদিন অনুষ্ঠানেও এই মৃত্যুর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ে।

মেক্সিকোর সিটিজেন কাউন্সিল ফর পাবলিক অ্যান্ড ক্রিমিনাল জাস্টিসের (সিসিপিএসসিযে) সূত্র মতে, ১৯৮৫ সাল থেকে ২০১০ সালে সিউদাদ জুয়ারেজে ৫,৬৮১ শতাংশ হত্যার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ওই সময়ে শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কারণ মেক্সিকোর নানা শহর থেকে এখানকার কারখানাগুলোতে কাজ করতে অনেক মানুষ জড়ো হয়। যারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করে এমন কারখানায় কাজ করতো। এসময় অনেক নারী কর্মীও এখানে কাজ করতে আসে। তবে যখন হত্যা, মাদক আর সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন নারীরা আস্তে আস্তে এখান থেকে সরে যেতে থাকেন। কারণ পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীর মরদেহ এখানে সেখানে পড়ে থাকতো। নারীদের মরদেহে যৌন নির্যাতনের চিহ্ন থাকতো এবং অনেক সময় তাদের বিভিন্ন অঙ্গহানী করা হতো। সুসানা সেভেজ নামের এক নারী অধিকার কর্মী এসব অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যা কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তুললে তাকে ২০১১ সালে একটি হাত কেটে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

২০১০ সালে ৩,০৪২ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। অর্থাত্ প্রতি ১ লাখ লোকের মধ্যে ২২৯.০৬ জন হত্যার রেকর্ড গড় নিয়ে সিসিপিএসসিযে’র হত্যার শীর্ষ ৫০ দেশের তালিকায় এই শহরের স্থান হয়। তবে পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ২০১৫ সালে শহরটিতে হত্যার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ৫০ শীর্ষ দেশের তালিকার বাইরে বেরিয়ে যায়। সেসময় ধারণা করা হয়, হয়তো শহরটির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে একটি ভারসাম্য এসেছে।

তবে এক বছর পরই ২০১৬ সালে শহরটি আবার এ তালিকায় ৩৭তম হয়। আর ২০১৭ সালে হয় ২০তম। কিন্তু ২০১৮ সালে ১ লাখ লোকের বিপরীতে ৯৬ জন হত্যার গড় নিয়ে ২০১১ সালের পর আবার রেকর্ড সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় সিউদাদ জুয়ারেজ।

তবে এত ভয়াবহতা, অশান্তি আর হতাশার মাধ্যেও অন্য একটা জিনিস এই শহরের মানুষকে উজ্জীবিত করে। আর তা হলো ফু্টবল। জুয়ারেজ এই পজন্মের সেরা ফুটবল দল পেয়েছে, এমন সংবাদ এ শহরের মানুষকে আশার আলো দেখায়।

দলটির নাম ইন্দিওস ডি সিউদাদ জুয়ারেজ। এই দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় নিজেও কৈশরে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য ছিলেন। মাদকের অপব্যবহার ও সন্ত্রাসী জীবন ত্যাগ করে তিনি ফুটবলের জীবন বেছে নেন এবং এই সিউদাদ শহরের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারের খ্যাতি অর্জন করেন। তার নাম জুলিও ড্যানিয়েল ফ্রায়াস।

১১ বছর আগে তার ভাই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। সেঘটনার ১ বছরের মাথায় তার ফুটবল জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত আসে যা তাকে অন্যতম তারকার খ্যাতি প্রদান করে। কিন্তু এর পেছনের গল্প মোটেও সহজ ছিল না। ফ্রায়াস বলেন, আমি ১৪ বছর থেকে শুরু করে ১৮ বছর পর্যন্ত কোকেইন, গাঁজাসহ আরও বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলাম। সেই সময়ে আমি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপেও জড়িয়ে পড়েছিলাম। এগুলো ছিল আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। ঈশ্বরের কাছে অশেষ ধন্যবাদ ফুটবলের মাধ্যমে তিনি সেই জীবন থেকে আমাকে ফিরিয়েছেন।

ইন্দিওস ডি সিউদাদ জুয়ারেজ তার সাফল্যের মাধ্যমে শহরের কুখ্যাতির পাশাপাশি কিছু সুনাম অর্জন করতে সাহায্য করে। ফুটবলই একমাত্র মাধ্যম যার মাধ্যমে জুয়ারেজ শহরকে দেশ ও দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ভিন্নভাবে উঠে এসেছে।

২০০৭-০৮ সালের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগের শুরুতে এই দলটি প্রথম বিভাগে উন্নতির জন্য একদমই পছন্দের তালিকায় ছিল না। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে তারা ফ্রায়াসে ভর করে ১৯৯২ সালের পর জুয়ারেজের কোনো দল  আবার প্রথম বিভাগে উন্নতি লাভ করে। ইন্দিওস ডি সিউদাদ জুয়ারেজ ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।

এত অল্প সময়ের সফলতার পরও ইন্দিওস ডি সিউদাদ জুয়ারেজ ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যায়। তারপরেও এই শহরের মানুষ ফুটবলকে আপন করে নিতে মুখিয়ে আছে। শহরে যখন হত্যা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, নতুন একটি ফুটবল টিম আবারও তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ২০১৫ সালে গঠিত নতুন টিমটির নাম এফসি জুয়ারেজ। তাদের স্লোগান, ফুটবল ও শান্তি।

২৩ বছর বয়সী এফসি জুয়ারেজের সমর্থক থমাস আগুয়েরো, যিনি এল কার্টেল গ্রুপেরও সদস্য। তিনি তার সকল অর্থ ও সময় ব্যয় করেন এই দলকে সমর্থন করতে। তিনি বলেন, যদিও আপনি এই শহরের নামের সাথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরার যোগসূত্র খুঁজে পাবেন কিন্তু আমরা শান্তি ও ফুটবলকে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ফুটবল আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে এবং বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।

এফসি জুয়ারেজের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলভারো নাভারো বলেন, ফুটবল ও এই ক্লাব শহরের মানুষের জীবন ও ভাবমূর্তি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বদলে দিবে। এই ক্লাবকে ঘিরেই আমাদের সব পরিকল্পনা ও স্বপ্ন।

এত বাঁধা বিপত্তির পরও এই জুয়ারেজ শহরের মানুষ ফুটবলকে আপন করে রেখেছে। মৃত্যুর ভয়াবহতার পরেও ফুটবলকে তাদের রক্তের সাথে মিশিয়ে রেখেছে। অদূর ভবিষ্যতে এই ফুটবলই হয়তো তাদের হত্যার রাজধানী কুখ্যাতির কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিয়ে নতুন সম্মানের উপাধী ‘ফুটবলের রাজধানী’র মুকুট পরিয়ে নিবে। তবে তার জন্য পাড়ি দিতে হবে অজশ্র অমশ্রিন পথ। সেই আশায় বুক বেঁধে রয়েছে জুয়ারেজের হাজারো ফুটবল প্রেমী।

বিবিসি অবলম্বনে 

Share this post

PinIt
scroll to top