টেকনাফে কম্বনিয়া পাড়ায় অবৈধ অস্ত্রধারী ও ইয়াবা কারবারীদের দৌরাত্ব চরমে

Teknaf-Pic-A-12-02-19.jpg

হুমায়ুন রশিদ,টেকনাফ(১২ ফেব্রুয়ারী) :: টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়া পাড়ায় প্রভাবশালী ইয়াবা গডফাদার ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের ছত্র-ছায়ায় ফেরারী ইয়াবা কারবারীরা নিয়মিত পুলিশী টহল না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অভাবের তাড়নায় পড়ে এসব চিহ্নিত ইয়াবা কারবারীদের চালান বহন করতে গিয়েই দূগ্ধ আহারী শিশুসহ মা-বাবা জেলে থাকায় অবুঝ দুই শিশু নানীর বাড়িতেই শেষ আশ্রয় পেয়েছে।

জানা যায়,গত বছরের শুরুর দিকে অভাবের তাড়না এবং লোভের বশীভূত হয়ে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়া পাড়ার ফরিদ আলমের পুত্র আমান উল্লাহ পশ্চিম মহেশখালীয়া পাড়ার এক ব্যক্তির ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে চট্টগ্রাম শহরে গিয়েই আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে।

গত বছরের শেষের দিকে আমান উল্লাহর স্ত্রী অভাবের তাড়নায় নিরুপায় এবং স্বামীকে কারামুক্ত কলার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ইয়াবা গডফাদারের চালান বহন করতে গিয়েই আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে দূগ্ধ আহারী আটক হয়ে গত ৩ মাস ধরে হাজত বাস করছে।

এদিকে আমান উল্লাহ রেহেনার সংসারে সাড়ে তিন-চার আর পুতনী ও দুই-আড়াই বছরের উম্মে হাবিবাদের কান্না থামায় কে? শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে আমান উল্লাহর শ্বাশুড়ী অর্থাৎ শিশুদের নানী জোহরা মিথ্যা সান্তনা দিয়ে শিশুদের লালন পালন করছে।

আমান-উল্লাহ রেহেনার মত অভাবের তাড়নায় পড়ে কম্বন, পশ্চিম মহেশখালী পাড়া, পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, কাচার পাড়ার ও সাতঘরিয়া পাড়ার সংঘবদ্ধ ইয়াবা সিন্ডিকেটের মাদকের চালান বহন করতে গিয়েই শত শত নারী-পুরুষ হাজত বাস করছে।

এই ব্যাপারে কম্বনিয়া পাড়ার কয়েকজন ব্যক্তি জানান,ভাই এইটা দূর্গম এলাকা। এখানে পুলিশের নিয়মিত টহল হয়না। স্থানীয় প্রভাবশালী ও স্বশস্ত্র গডফাদারদের ছত্রছায়ায় কতিপয় রোহিঙ্গাসহ বহিরাগত অপরাধীরা জড়ো হয়েছে। তারা প্রকাশ্যে মহড়া দেয় আর ফাঁকাগুলি বর্ষণের মাধ্যমে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে।

এসব অপরাধীদের কুনজর এবং লালসার শিকার হয়ে অনেকের সংসার ভাঙ্গলেও কারো প্রতিবাদ করার সাহস নেই। বন বিভাগের লোকজনের সাথে আতাঁত করে বিশাল বনভূমি দখলে নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

প্রকাশ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মহড়া, মাদক সেবন, জুয়ার আসর ও বস্তায় বস্তায় মাদকের চালান আনা-নেওয়ায় নীরব দর্শক হয়ে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। পুলিশ বা আইন-শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার সন্দেহভাজন কাউকে পেলে নির্মম নির্যাতন চালায়।

এখানকার খেটে খাওয়া দিন-মজুর সহজ-সরল মানুষের দরিদ্রতা আর অভাব-অনটনকে পুঁজি করে টাকার লোভে ফাঁদে ফেলে মাদক বহনে বাধ্য করছে মাদক চোরাকারবারীরা। এসব মাদক চক্রের হাতে স্থানীয় অনেক জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত অসহায় বলে জানা গেছে।

এই ব্যাপারে সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশ্বস্থ একাধিক সুত্র জানায়,এসব দূর্গম এলাকায় অপরাধীদের অপকর্মে লোকজন অতিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি অবহিত রয়েছেন। তাদের দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কৌশলী ভূমিকায় অগ্রসর হচ্ছেন বলে দাবী করেন।

Share this post

PinIt
scroll to top