সারাদেশে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পৌনে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি’

power-bill.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১১ ফেব্রুয়ারি) :: সারাদেশে মোট ৬ হাজার ৮৮২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এই বিল সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন (প্রাইভেট) কোম্পানিগুলোর কাছে বকেয়া রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে আজ সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। সংসদকে প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব বকেয়ার মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৬৪২ কোটি ৯৮ লাখ, আধা সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৭৬৩ কোটি ৯০ লাখ এবং প্রাইভেট (ব্যক্তি মালিকানাধীন) প্রতিষ্ঠানগুলোতে বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার ৪৭৬ কোটি ৬ হাজার টাকা।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বকেয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি সংসদকে জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বকেয়ায় প্রথম স্থানে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বকেয়া ৩২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ১৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তৃতীয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ১২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, চতুর্থ গৃহায়ণ ও গণপূর্তের বকেয়া ৭৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা, ৫ম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ৬ষ্ঠ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ৪৩ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং সবচেয়ে কম বকেয়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাত্র ২০ হাজার টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বকেয়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব বকেয়া বিল আদায়ে টাক্সফোর্স গঠন করে ঝটিকা অভিযান চালানো হচ্ছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, সেই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট ৪ লাখ ৯৫ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন রয়েছে।

সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের (চট্টগ্রাম-৪) এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওয়াধীন ৮৪ হাজার ৫৬৩টি গ্রামের মধ্যে ৭০ হাজার ১২০টি গ্রাম পূর্ণাঙ্গভাবে এবং ৯ হাজার ৮১৮ টি আংশিকভাবে বিদ্যুতায়ন শেষ হয়েছে। অবিদ্যুতায়িত ও আংশিকভাবে বিদ্যুতায়িত গ্রামগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার জন্য ১৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৮ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইনের কাজ চলছে।

তিনি জানান, নতুন ২ কোটি ১৭ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগের ফলে বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বিদ্যুতের সামগ্রিক সিস্টেম লসের পরিমাণ শতকরা ১৬.৮৫ থেকে কমে হয়েছে ১১.৮৭ ভাগে।

তিনি আরো জানান, সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কাজ চলছে।

মেহেরপুর-২ আসনের এমপি সাহিদুজ্জামানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার গ্যাস লাইন সম্প্রসারণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ভেড়ামারা হতে কুষ্টিয়া-যশোর হয়ে খুলনা জেলায় গ্যাস সরবরাহের জন্য সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ১ হাজার ১৬৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১৪টি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে গ্যাস থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ২.৮০ টাকা, ডিজেল থেকে ১৯.৩০ টাকা, ফার্নেস ওয়েল থেকে ১১.৪৮ টাকা এবং কয়লা থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ৭.৩৮ টাকা। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুতের বিক্রয় মূল্য ৪.৮২ টাকা বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে এলপিজি উৎপাদনে ও বোতলজাতকরণের প্লান্টের সংখ্যা মোট ২২টি। এর মধ্যে সরকারি ২টি এবং ২০টি বেসরকারি মালিকানাধীন।

সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া বিদেশ থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। ফলে বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা রয়েছে।

 

Share this post

PinIt
scroll to top