কক্সবাজারে চাঞ্চল্যকর জাল দলিল মামলায় মূল হোতাকে বাদ !

mamla-jal-dalil.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক(১২ ফেব্রুয়ারী) :: কক্সবাজারে জাল দলিল চক্রের একটি চাঞ্চল্যকর মামলার মূল হোতা উমেদার আবদুস সাত্তারকে মামলার অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ দীর্ঘ ১১ মাস ধরে তদন্তের পর এজাহারভুক্ত ওই আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ায় নানা কথা উঠেছে। গত ডিসেম্বর মাসে গোপনে পুলিশ কর্মকর্তা চাঞ্চল্যকর জালিয়াত মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এরপর পরই সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র আবারো জালিয়াতির কাজে হামলে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রেল প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা অবৈধ পথে হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে জালিয়াত চক্রটি ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সীল-স্বাক্ষর এবং পরিষদের প্যাড ব্যবহার করে জাল দলিলসহ অন্যান্য দলিল-দস্তাবেজ সৃজন করছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে উমেদার হিসাবে কর্মরত ছিলেন ঝিলংজা হাজী পাড়ার মৃত জামাল হোছেনের ছেলে আবদুস ছাত্তার (৩৩)। সরকারি ভূমি অফিসে উমেদারীর পদ নিয়ে আবদুস ছাত্তার ঝিলংজার রেলপথ প্রকল্পের জমির দাগ-খতিয়ান বের করে গোপনে জালিয়াত চক্রের সঙ্গে হাত করে জাল দলিল সৃজন করতে শুরু করে।

কক্সবাজারের বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন ভূমি অফিসের একজন উমেদার জালিয়াতি চক্রের সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। এ কারণে জেলা প্রশাসক তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পুলিশকেও তাগিদ দিয়েছিলেন বার বার। কিন্তু সেই পুলিশই উমেদার ছাত্তারকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দিয়েছেন।

এজাহারভুক্ত চাঞ্চল্যকর একটি মামলার মূল হোতাকে বাদ দেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে চরম অসাধুতার। বলা হচ্ছে যার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল ও সীল তৈরির মাধ্যমে রেল প্রকল্পসহ আরো হরেক প্রকল্পের অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের পাঁয়তারা করা হচ্ছে তাকেই বাদ দেওয়া হয়েছে মামলার অভিযোগ থেকে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার বাদী টিপু সোলতান অভিযোগপত্র থেকে মূল হোতাকে বাদ দেওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট স্বপন কুমার ভৌমিকের আদালতে লিখিত আপত্তি দাখিল করে মামলার পুনঃতদন্ত দাবি করেছেন।

মামলার বাদী একজন জনপ্রিয় তৃণমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। মামলাটিতে তিনি বাদী হয়েছেন, রেল প্রকল্পের মতো দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের সরকারি টাকা লোপাট থেকে রক্ষার জন্য। যাতে জালিয়াত চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা এক্ষেত্রে মস্ত বড় অন্যায়ের পথে পা বাড়িয়ে জালিয়াত চক্রের হাত থেকে অবৈধ সুযোগ নিয়ে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দিয়ে জালিয়াত চক্রকেই শক্তিশালী করার সুযোগ দিলেন বলে অভিযোগ তুলেন চেয়ারম্যান টিপু সোলতান।

জাল দলিল সৃজনের মামলার অভিযোগ থেকে বাদ যাওয়া সংঘবদ্ধ দলের নেতার নাম আবদুস সাত্তার (৩৩)। কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা হাজী পাড়ার বাসিন্দা আবদুস সাত্তার কক্সবাজার সদর ভূমি অফিসের একজন ওমেদার (নির্ধারিত বেতন ছাড়া কর্মচারী) হিসাবে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের কর্মচারী হবার সুযোগে তিনি গোপনে লোকজনের জায়গা-জমির তথ্য বের করে দিয়ে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের সঙ্গে মিলে জাল দলিল সৃজনে লিপ্ত রয়েছেন।

গেল বছরের ১৬ জানুয়ারি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র কক্সবাজার সদর উপজেলা অফিস গেইট এলাকায় জাল দলিল সৃজনের সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল দলিল, সিলমোহর, ওয়ারিশ সনদ পত্রসহ প্রায় তিন বস্তা নানা আলামত জব্দ করেন। ঘটনাস্থল থেকে জালিয়াত চক্রের তিনজনকে আটক করা হয়। আটক হওয়া তিনজন হচ্ছেন- যথাক্রমে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ নয়াপাড়ার তৌহিদুল ইসলাম, একই এলাকার নুরুল আবছার এবং ঝিলংজা চান্দের পাড়ার সৈয়দুল হক।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সোলতান বাদী হয়ে আমিন উল্লাহ ও ভূমি অফিসের ওমেদার আবদুস সাত্তারসহ আরো ৭/৮ জন জালিয়াত চক্রের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক দেবব্রত রায় গেল বছরের ১৭ জানুয়ারি আদালতে প্রেরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, মামলার আসামিরা সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজসে কক্সবাজার রেল লাইনের অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করার জন্য জাল দলিল সৃজনে লিপ্ত।

পরবর্তীতে স্বপন কুমার ভৌমিক নামের একই থানার অপর একজন উপ-পরিদর্শক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োজিত হয়ে মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার বাদী ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সোলতান অভিযোগ করেছেন যে, কোনো তদন্ত না করেই অসাধুতার আশ্রয় নিয়ে জালিয়াত চক্রের মূল হোতা আবদুস ছাত্তারকে মামলার অভিযোগপত্র থেকে বাদ দিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সোলতান বলেন- ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিক আমার সঙ্গেও কোনো কথা পর্যন্ত বলেননি।’ বাদী আজ মঙ্গলবার এ ব্যাপারে আদালতে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন জমা দিয়ে পুনরায় তদন্ত দাবি করেছেন। তবে আবদুস সাত্তার দাবি করেছেন তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

Share this post

PinIt
scroll to top