পেকুয়ায় ভয়ংকর প্রতারক চক্র

-চক্র.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২ মার্চ) :: পেকুয়ায় এবার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী থেকে জমি নিল প্রতারক চক্র। ভয়ংকর ওই প্রতারক চক্র বিনা পয়সায় ৪০ শতক জমি রেজিস্ট্রি নেয়। এ সময় মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারীকে ফুঁসলিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে প্ররোচিত করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মুল্যমানের এ জমি কবলা নেয়। এ চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়ে যায় পেকুয়ায়।

এ সময় ভয়ংকর প্রতারক চক্র জনরোষে পড়ে। এ খবর চাউর হলে চরম বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে জমি চক্রের মুলহোতাদের। ৪০ শতক জমি রেজিস্ট্রি নিতে তারা মুল্য মৌজা মূল্য লিখে ফেলে। দলিলে ১২ লক্ষ টাকা উল্লেখ আছে। ব্যাগভর্তি টাকা দেখিয়ে ওই চক্র এ নারীর কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি নেয়।

কবলা সম্পাদন সময়ে ১ লক্ষ টাকা দেয়। ওই টাকা বীমা কৌম্পানীর প্রিমিয়ামে জমা দিচ্ছেন এ কৌশলে ওই টাকাও প্রতারক চক্র নিয়ে ফেলে। এ সময় প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কৌম্পানীর টাকা জমা রশিদ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই নারীকে ধরিয়ে দেয়। অবশিষ্ট টাকা নিরাপত্তার স্বার্থ দেখিয়ে বাড়িতে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

তবে অবশিষ্ট ১১ লক্ষ টাকা পরিশোধ থেকে ওই চক্র বিরত আছে। অপরদিকে প্রিমিয়ামে টাকা জমা রশিদটিও নকল। তারা প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কৌম্পানীর প্রিমিয়াম ফাউন্ডে টাকা জমা দেননি। যে জমা রশিদটি ওই নারীকে ধরিয়ে দিয়েছে সেটিও জালিয়তি। জমি রেজিস্ট্রি সম্পাদনে ভয়ংকর জালিয়ত চক্রের সন্ধান মিলছে পেকুয়ায়।

উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মরিচ্যাদিয়া গ্রামে ভয়ংকর জমি জালিয়ত চক্রের সন্ধান মিলছে। এ দিকে জমি কবলা সম্পাদনে বিনা পয়সায় জমি নিয়েছেন এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্রে তোলপাড় দেখা দেয়। ওই নারীর ছোট ভাই পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ পৌছায়। প্রতিবন্ধী নারীর সাথে এ দুরন্ত প্রতারনার ঘটনায় ওই মহিলার ভাই থানায় সাধারন ডায়েরী লিপিবদ্ধ করতে এ অভিযোগ প্রেরন করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

থানায় প্রেরিত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ৪০ শতক জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে মগনামা ইউনিয়নের মরিচ্যাদিয়া গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে চরম মতদ্বন্ধ ও বনিবনা চলছিল। ওই এলাকার মৃত হেফাজতুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে রৌশন আরা (৬০) চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী ৪০ শতক জমি বিক্রি করে। কবলা দাতা হিসেবে ওই নারী মগনামা মৌজার তার পৈত্রিক প্রাপ্ত অংশ থেকে এ জমি বিক্রি করে। একই এলাকার ছগির আহমদের ছেলে এস,এম বেলাল উদ্দিন ওই জমির রেজিস্ট্রি গ্রহীতা।

সুত্র জানায়, বেলাল উদ্দিনের পক্ষে তার ভাই মিফতাহ উদ্দিন, মঈন উদ্দিন এ জমি কবলা সম্পাদনে মধ্যস্থতা করে। রৌশন আরাকে ফুঁসলিয়ে তারা ৪০ শতক জমি কবলা নেয়। জানা গেছে, রৌশন আরা মানসিক রোগী। দীর্ঘদিন ধরে ওই নারী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অবস্থায় দিনাতিপাত করছিলেন। তার বিবাহ হয়েছিল। সংসার ও স্বামীর প্রতি তার চিন্তা চেতনা কাজ করছিল না। এর সুত্র ধরে তার সংসার হয় নি। অনেক বছর ধরে পিতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মগনামার মরিচ্যাদিয়ায় ওই নারীর প্রাপ্ত অংশ আছে। ওই দিন ওই নারীকে টাকার প্রলোভনে ফেলে ৪০ শতক জমি কবলা নেয়।

সুত্র জানায়, ১২ লক্ষ টাকা জমির মুল্য নির্ধারন ছিল। ওই অংকের টাকা দলিলে উল্লেখ করেছেন। তবে ১২ লক্ষ টাকা এ জমি বিনা পয়সায় বেলাল উদ্দিন কবলা নেয়। বেলাল উদ্দিনের ভাই মিফতাহ উদ্দিন ব্যাগ ভর্তি টাকা দেখায়। ১১ লক্ষ টাকা বাড়িতে দিবেন ১ লক্ষ টাকা তার নামে বীমার প্রিমিয়ামে জমা দিয়েছেন এ বাহনায় ওই নারীর কাছ থেকে ৪০ শতক জমি রেজিস্ট্রি নিয়েছেন। জমি রেজিস্ট্রি সম্পাদন সময়ে হেফাজতুর রহমানের ছেলে নজরুল ইসলাম চৌধুরী দেশের বাইরে ছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ভারতে যান। ওই সুবাধে এ জমিদার বাড়ীর একজন কেয়ারটেকারসহ ৪ জন মিলে ২০ লক্ষ টাকার মুল্যমানের এ জমি রেজিস্ট্রি নেয়।

নজরুল ইসলাম জানায়, আমি দেশে এসে এ খবর জেনেছি। এ সময় আমরা চরমভাবে উৎকন্ঠায় ভোগছিলাম। আমার বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বেলাল উদ্দিন, মিফতাহ উদ্দিন ও মঈন উদ্দিন গং এ জালিয়তি করেছে। আমি থানায় জিডি করতে অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ এ নিয়ে বৈঠক করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সেখানে এ সটামির বিষয়টি ধরা পড়ে। একজন প্রতিবন্ধীর সাথে এ ধরনের দুরন্ত সটামি মারাত্মক অপরাধ। আমরা ওই চক্রের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপের দিকে ছুটছি। এর উপযুক্ত বিচার প্রত্যাশী। তারা এর আগেও ৮০ শতক জমি এ ভাবে কৌশলে রেজিস্ট্রি নিয়েছে। সে গুলির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। তারা প্রতারক চক্র।

পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান জানায়, যথেষ্ট অসংগতি আমরা পেয়েছি জমি রেজিস্ট্রিতে। বাড়ির একজন কেয়ারটেকার সহ তারা এ নারীকে ফুঁসলিয়ে জমি কবলা নিয়ে ফেলে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri