২০১৯ সালের মহাশিবরাত্রি কেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ?

Mahashivratri-2019-784x441.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৩ মার্চ) :: এই বছর মহাশিবরাত্রি ৪ মার্চ পালিত হবে। এই বছরের শিবরাত্রি আগামী ১২ টি শিবরাত্রির মধ্যে সবথেকে বিশেষ। বিশ্বাস করা হয় যে, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীর দিন যে শিবরাত্রি পালিত হয় তাই হল সবথেকে মাহাত্ম্যপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, প্রতি মাসেই কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর দিন শিবরাত্রি হয় প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষ চতুর্দশীতে ওই মাসের শিবরাত্রি (Shivaratrii) হয়, কিন্তু ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীতে পড়া শিবরাত্রি মহাশিবরাত্রি হিসাবে পালন করা হয়। মনে করা হয় যে, এই বিশেষ দিনটিতে শিব ও পার্বতীর বিয়ে হয়েছিল। এর পাশাপাশি প্রয়াগরাজে চলে কুম্ভমেলারও এটি বিশেষ দিন! কারণ এই দিনেই এখানে শেষ শাহী স্নান হবে।

মহা শিবরাত্রি কখন পালিত হয়?

৪ মার্চ মহাশিবরাত্রি। এই দিন আবার সোমবারও। সোমবারে ভগবান শিবের পুজোর বিশেষ দিনও। সোমবারের দিন অনেকেই সোমেশ্বর ব্রত রাখেন। সোমেশ্বরের দুইটি অর্থ হ’ল। প্রথম অর্থ চাঁদ এবং দ্বিতীয় অর্থ দেব। শিবপুরাণের মতে প্রতি সোমবার ভগবান শিবের পুজোর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছেন। অনেকেই মনে করেন এই দিন পুজো করলে ভক্তের কুণ্ডলী থেকে সব ধরনের ত্রুটি দূর হয়। মহাশিবরাত্রিতে মন্দিরে মন্দিরে বিশাল ভক্ত সমাগম হয়। কিছু মন্দিরে বিশেষ ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠানও করা হয়।

মহাশিবরাত্রির শুভ মুহুর্ত কখন?

শুভ মুহুর্ত শুরু – ৪ মার্চ বিকেল ০৪:২৮ থেকে

শুভ মুহুর্ত শেষ – ৫ মার্চ সন্ধ্যা ০৭:০৭ পর্যন্ত।

কীভাবে শিবের পুজোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়?

পুজোর নিয়ম অনুযায়ী, গাওয়া ঘিতে কর্পূর মিশিয়ে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পড়ে ১০৮ বার আহুতি দিতে হয়। এই দিন রুদ্রাক্ষের মালা ধারণ করাও শুভ মনে করা হয়। মহাশিবরাত্রির দিন কাঁচা দুধে গঙ্গা জল মিশিয়ে তা শিবলিঙ্গে ঢালতে হ। চন্দন, ফুল, ধূপ, প্রদীপ ইত্যাদি দিয়ে পুজো করা হয়।

মহাশিবরাত্রির ব্রতে কী খাবেন?

মহাশিবরাত্রি ২০১৯: মহাশিবরাত্রিতে শিবভক্তরা বিশেষ ব্রত রাখেন। সারা দিন খাবার ও জল গ্রহণ করেন না মানুষ। আবার কিছু ভক্তরা সারাদিন ফল, দুধ এবং ড্রাই ফ্রুটস খান। এছাড়াও অনেকে আলু, সাবুদানা, আলুর সবজি এবং সাবুদানার পকোড়াও খান। এই সব খাবারই ঘি দিয়ে বানানো হয়, তেল ব্যবহার করা হয় না। এবং মশলা বলতেও শুধু জিরে, গোলমরিচ ও লঙ্কা ব্যবহার করেন ভক্তরা। ব্রত চলাকালীন সাধারণ লবণের বদলে সৈন্ধব লবণ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া পুজো পার্বণে মিষ্টির ভূমিকা তো অসীমই।

এখানে জেনে নিন, ফাল্গুন মাসের শিবরাত্রি কেন এত বিশেষ।

হিন্দু পুরাণে এই মহাশিবরাত্রি সম্পর্কিত একাধিক গল্প রয়েছে : 

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে মহাশিবরাত্রিতেই শিব শিবলিঙ্গের রূপে প্রকাশিত হয়েছিলেন। এই দিনই প্রথম বিষ্ণু এবং ব্রহ্মা শিবলিঙ্গের পুজো করেন। আরও বলা হয় যে, ব্রহ্মা নিজে মহাশিবরাত্র্রিতে শিবের রূদ্র রূপ প্রকাশ করেন।

দ্বিতীয় কাহিনী অনুযায়ী মহাশিবরাত্রিতে শিব এবং পার্বতীর বিয়ে হয়েছিল। এই কারণে নেপালে মহাশিবরাত্রির তিন দিন আগে থেকেই মন্দিরগুলোকে সাজানো হয়। পার্বতী এবং শিবের মূর্তিকে বর কনে সাজিয়ে ঘরে-ঘরে ঘোরানো হয়। মহাশিবরাত্রির দিন ওদের বিয়েও দেওয়া হয়। সেই কারণেই অনেকে ভেবে থাকেন কুমারী মেয়েরা শিবরাত্রি পুজো করলে তাড়াতাড়ি বিবাহের যোগ হতে পারে।

তৃতীয় কাহিনী অনুসারে, সমুদ্রমন্থনে উঠে আসা গরল পান করে সারা পৃথিবীকে রক্ষা করেছিলেন শিব। এই ঘটনাকে মাথায় রেখেই মহাশিবরাত্র্রি পালিত হয়। সাগর মন্থনের সময় যখন অমৃতের জন্য দেবতাদের এবং অসুরদের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল, তখন অমৃতের আগে সমুদ্র থেকে কালকূট নামক বিষ বেরিয়ে আসে। এই বিষ এতই বিপজ্জনক ছিল যে, তা সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব ধ্বংস করে দিতে পারে। তখন শিব নিজে সেই বিষ পান করেন, তাঁর গলা নীল হয়ে যায়। এই কারণেই তাঁর আরেক নাম নীলকণ্ঠ।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno