ভারতীয় ভিসা আবেদন ও অনলাইনে ফরম পুরন করার সহজ নিয়ম (ভিডিও সহ)

visa-ind.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১০ মার্চ) :: ভারতীয় ভিসা করতে চান? অনেকেই ভিসা করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েন। ভিসার নিয়ম নীতিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। সহজে ভিসা করার সব পদ্ধতি জেনে নিতে পারেন এ লেখা থেকে।পার্সপোর্ট করার পরেও যে আপনি সকল দেশ ভ্রমন করবেন তা কোন কথা নয়। ভারতে যেতে হলে আপনাকে ভারতীয় ভিসা করতে হবে।

তবে আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করব দালাল ছাড়া ভারতীয় ভিসা আপনি যেভাবে করবেন। দালাল ছাড়া পার্সপোট করা যদিও অনেকটা কস্টসাধ্য কিন্তু ভারতীয় ভিসা করা মোটামুটি সহজ।

ভারতীয় ভিসা করার জন্য আপনাকে যা যা করতে হবেঃপ্রথমত আপনার বাড়ির আসে পাশে অনেক কম্পিউটার দোকানে দেখবেন লিখা থাকে ভারতীয় ভিসার আবেদন করা যায়। অথবা ভারতীয় ভিসার ই-টোকেন দেয়া হয়। সেই দোকানে আপনি ভিসার জন্য সরকারী ব্যাংক ড্রাফট বাবদ ৮০০ টাকা আর অনলাইন চার্জ বাবদ ৩০০ মোট ১১০০ টাকা দিবেন। অথবা এখান থেকে ভিডিও দেখে নিজেই ফরম পুরন করে জমা দিতে পারবেন।

আপনার যে সকল কাগজপত্র লাগবে-

(০১) পাসপোর্ট(০২) এককপি ২x২ ইঞ্চি মাপের প্রিন্টেড ছবি ও আরেকটি সফট কপি (শুধু অনলাইন আবেদনের সময় লাগবে)

(০৩) পুরনকৃত ফর্ম (প্রিন্টেড)

(০৪) স্মার্ট কার্ড/এনআইডি অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি।

(০৫) ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি (বিদ্যুৎ/পানি/গ্যাস বা টেলিফোন বিল)

(০৬) পেশার প্রমাণপত্র (বেসরকারি চাকুরিজীবি হলে NOC, সরকারি চাকুরিজীবি হলে NOC/G.O, ছাত্র হলে আইডি কার্ড বা বেতনের রশিদ, ব্যাবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি, আর পেশা কৃষি হলে জমির খতিয়ানের ফটোকপি)

(০৭) ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা ডলার এনডোর্সমেন্ট অথবা ইন্টারন্যাশনাল কার্ডের কপি পাসপোর্ট এর ডাটা পেইজের ফটোকপি (ছবির পাতা)★ ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর ক্ষেত্রে নূন্মতম ৩০ হাজার টাকা একাউন্টে দেখাতে হবে। আর ডলার এনডোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে আপনার পার্সপোটে ২০০ ডলার এনডোর্স করতে হবে

।(০৮) সর্বশেষ ইন্ডিয়ান ভিসার ফটোকপি (যদি থাকে) অন্য কোন সাপোর্টিং কাগজ যদি দিতে চান তাহলে দিতে পারেন। পূর্ববর্তী সকল পাসপোর্ট,যদি পুরাতন পাসপোর্ট থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে আর হারিয়ে গেলে জিডি কপি ও দিতে হবে।সকল কাগজপত্রের মেইন কপি নিয়ে যাবেন, ওরা দেখতে চাইবে। না দেখাতে পারলে জমা নাও নিতে পারে। কাগজগুলো স্ট্যাপল করার দরকার নেই, ওরা বলে স্ট্যাপল করা থাকলে খুলে ফেলতে। আপনি চাইলে একটা ফাইলে সব নিতে পারেন।

এখানে শুধুমাত্র ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য যেসব ডকুমেন্ট লাগে তা উল্লেখ করা হয়েছে। মেডিক্যাল, ট্রানজিট ও ব্যাবসা ভিসার জন্য প্রধান সব ডকুমেন্ট একই তবে আলাদা আলাদা কিছু ডকুমেন্ট লাগে। আপনারা IVAC এর হেল্পলাইন থেকে জেনে নিতে পারেন।এইসকল কাগজপত্র দিয়ে অনলাইন করার পর আপনি সরাসরি ভিসা অফিসে চলে যাবেন।

ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কিছু বিষয়-

  • ভিসা আবেদন সকাল ৯ঃ০০ থেকে ২ঃ০০ পর্যন্ত নেয়া হয়। আর ৩ঃ০০ থেকে ৬ টায় পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হয়।
  • এখানে কোন দালাল নেই কারণ কোন লাইন নেই। 🙂
  • ভিতরে ফটোকপি ও প্রিন্টের ব্যবস্থা আছে।
  • কফির ব্যবস্থা আছে, ২৫ টাকা প্রতি কাপ।
  • ভেতরে ফোনে কথাবলা নিষেধ, তবে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, হেডফোনে গান শুনতে পারেন। প্রধান কথা ভেতরে ফোনে কথা বলবেন না।
  • ব্যাগ নিয়ে ভেতরে ঢোকা যাবে না। তবে ঢোকার আগে টাকা দিয়ে ব্যাগ জমা রেখে যেতে পারেন। ওরা একটা টোকেন দিবে।
  • ৬৫ বছরের উর্ধের ‘Senior Citizen’ দের কোন লাইনে দাড়াতে হবে না, আর তাদের জন্য আলাদা কাউন্টারও আছে।
  • কেউ তার পরিবারের সদস্যদের আবেদন একসাথে জমা দিতে পারেন। যেমন কেউ তার স্ত্রী-সন্তান, ও বাবা-মা’র আবেদন নিজে জমা দিতে পারবেন। আবার কোন মহিলা, তার স্বামী ও সন্তানদের আবেদন জমা দিতে পারবেন। এজন্য যে জমা দিবে তার নিজের পাসপোর্টের কপি সব আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হবে।

৫. পাসপোর্ট সংগ্রহ করা

আপনি ভিসা আবেদন জমা দেয়ার সময় আপনাকে একটি প্রাপ্তি রশিদ দেয়া হবে যাতে আপনার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, Web File No, ভিসা আবেদন ফি ইত্যাদিসহ একটা তারিখ দেয়া থাকবে। তারিখটি এভাবে দেয়া থাকে  ‘Delivery on or after: 2017-12-17’. এর মানে আপনি উল্লিখিত তারিখ বা এর পর যেকোনদিন নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে পারবেন। যদি অনলাইনে রশিদে উল্লিখিত তারিখের আগেই পাসপোর্ট রেডি দেখায় তাতেও আগে দিবে না।  আর সব সময় যে রশিদে উল্লিখিত সময়েই পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হবে এমন কিন্তু নয়, অনেক সময় দেরিও হতে পারে। তাই আপনি আইভ্যাকে যাওয়ার আগে চেক করে নিন যে আপনার আবেদনের কি অবস্থা। সাধারণত ওরা আগেই এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয় যে আপনার পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত। এছাড়া আপনি আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে আপনার ভিসার আবেদন ট্র্যাক করতে পারেন। এজন্য আপনাকে যেতে হবে এই ঠিকানায়, এরপর আপনি যেই সেন্টারে আপনার আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তা সিলেক্ট করুন।

এখন নিচের দেখানো বক্সে ‘Web file Number’ দিয়ে সাবমিট করুন। এখন আপনি আপনার ভিসা আবেদণের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।

এই IVAC ৩:০০ থেকে ৬:০০ পর্যন্ত পাসপোর্ট ডেলিভারি দিয়ে থাকে। নিচের ছবিটি দেখুন, এটি আমাকে দেয়া হয়েছিল ফর্ম জমা দেয়ার পর।

IVAC Dhaka Receipt
IVAC Receipt

ভিসা জমা দেয়ার জন্য সকালে যেটুকু ভীড় হয় তার চেয়ে পাসপোর্ট নিতে বেশি বড় লাইন হয়। তবে আশার কথা পাসপোর্ট নিতে বেশি সময় লাগে না তাই দ্রুতই লাইন শেষ হয়। পাসপোর্ট ডেলিভারির সময় তারা কোন কথা বলবে না, শুধু রশিদ দিবেন আর পাসপোর্ট নিবেন।

আর একটা কথা রশিদ যত্ন করে রাখুন, কারণ হারিয়ে গেলে অনেক ঝামেলা হবে। জিডী করতে হবে ও এর পরেও কাগজপত্র লাগে। তাই সাবধান!

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno