izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে শীর্ষস্থানে যারা

dse-3.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১০ মার্চ) :: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশী কোম্পানিতে বিদেশীদের শেয়ারহোল্ডিংও বাড়ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সবচেয়ে বেশি ধারণ করে আছেন, তার প্রথমেই আছে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং (ডিবিএইচ)। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। এ দুটিই স্যার ফজলে হাসান আবেদ প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাকসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) স্যার ফজলে হাসান আবেদ প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাক। অন্যতম স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠানও এটি। ডিএসইর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১২ সালে বিদেশীদের শেয়ারধারণে সপ্তম স্থানে থাকা ডিবিএইচ ২০১৯ সালে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় অংশীদার ব্র্যাক। বিদেশীদের হাতে রয়েছে ডিবিএইচের ৪৩ দশমিক ২৯ শতাংশ শেয়ার। ২০১২ সালে এ কোম্পানিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ছিল ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

দেশের আবাসন খাতের দুর্দিনে করপোরেট সুশাসন ও ধারাবাহিক মুনাফা ধরে রেখে বিদেশীদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে কোম্পানিটি। ২০১৮ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পাশাপাশি ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য সময়ে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৬০ পয়সা।

বিদেশী শেয়ারধারণ বিবেচনায় ২০১২ সালে শীর্ষ তালিকায় না থাকলেও চলতি বছর দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্র্যাকেরই আরেক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪১ দশমিক ৭২ শতাংশ রয়েছে বিদেশীদের হাতে। করপোরেট সুশাসন, ধারাবাহিক মুনাফাও বিদেশীদের আকৃষ্ট করেছে এ কোম্পানির শেয়ারে। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৫১৯ কোটি টাকা।

ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশে আইএফসি ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের এপ্রিলে চীনভিত্তিক আলিবাবা বিনিয়োগ করেছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হোসেন বলেন, তিন-চার বছর আগেও ইন্ডাস্ট্রিতে ব্র্যাক ব্যাংকের অবস্থান ছিল ১০-এর বাইরে। তিন বছরের ব্যবধানে সব নির্দেশকে দেশের আর্থিক খাতে এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসেবে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। প্রবৃদ্ধি, সম্পদের মান, মুনাফা, সর্বোপরি করপোরেট সুশাসন বিবেচনায় আশা করছি, এ বছরও শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে ব্র্যাক ব্যাংক। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা প্রবৃদ্ধি আর করপোরেট সুশাসন—এ দুটো বিষয়কে খুবই গুরুত্ব দেন। এ কারণেই ব্র্যাক ব্যাংকের মতো একটি বড় কোম্পানির ৪১ শতাংশের বেশি শেয়ার বিদেশীরা ধারণ করছেন।

২০১৯ সালে বিদেশীদের শীর্ষ শেয়ার ধারণ করা কোম্পানির তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে উৎপাদন খাতের অলিম্পিক  ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ছয় বছর আগে শীর্ষ তালিকায় না থাকলেও এ কোম্পানিতে বর্তমানে বিদেশীদের শেয়ার ৩৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। দেশের বিস্কুটের বাজারের বড় অংশ দখলে নেয়া কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক রিটার্ন দিয়ে আসছে। ব্যবসা সম্প্রসারণ করে প্রক্রিয়াজাত সব ধরনের খাদ্যোৎপাদনে সম্প্রতি একটি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিও করেছে কোম্পানিটি।

২০১২ সালে তৃতীয় স্থানে থাকা রেনাটা লিমিটেড এখন ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। যদিও ওই সময়ের তুলনায় বিদেশীদের শেয়ার মাত্র দশমিক শূন্য ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। করপোরেট সুশাসনে শীর্ষে থাকা কোম্পানিটিতে বর্তমানে বিদেশীদের শেয়ারহোল্ডিং ২২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০১২ সালে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বিদেশী শেয়ারহোল্ডিং ছিল এ কোম্পানিতে।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ওষুধ রফতানিতে দেশের শীর্ষ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মা ২০১২ সালে ছিল বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে। ওই সময় কোম্পানির মোট শেয়ারের ২৩ দশমিক ৮২ শতাংশ ছিল বিদেশীদের হাতে। ২০১৯ সালের শুরুতে এ কোম্পানিতে বিদেশীদের শেয়ার ৩৮ দশমিক ৫৩ শতাংশে উন্নীত হলেও শীর্ষস্থান হারিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে ২০১২ সালের তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেড ২০১৯ সালে শীর্ষ দশে স্থান করতে পারেনি। ওই সময় কোম্পানিটিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ছিল ১০ শতাংশ। বর্তমানে তা ৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে নেমে এসেছে।

বর্তমানে শীর্ষ তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ২০১২ সালে অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। যদিও ব্যাংকটিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ারহোল্ডিং আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। অন্য কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে অবনমন হয়েছে ব্যাংকটির। ২০১২ সালে বিদেশীদের ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে এখন ইসলামী ব্যাংকে বিদেশীদের শেয়ার অংশ ২৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

২০১২ সালের তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মার স্থান পরিবর্তন হলেও বিদেশীদের শেয়ারধারণ বেড়েছে কোম্পানিটিতে। ২০১২ সালে ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ বিদেশীদের হাতে থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ওষুধের বাজারে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে কোম্পানিটি। যদিও বর্তমানে বিদেশীদের শেয়ারহোল্ডিংয়ে শীর্ষ তালিকায় স্কয়ার ফার্মার অবস্থান নবম স্থানে।

৬ শতাংশ বিদেশী শেয়ার নিয়ে ২০১২ সালে শীর্ষ তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা স্কয়ার টেক্সটাইলও নেই বর্তমানে শীর্ষ তালিকায়। তবে নতুন করে শীর্ষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমএল ডায়িং লিমিটেড। ২০১৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির মূল পণ্য তৈরি পোশাক শিল্পের ইয়ার্ন ডায়িং। ২০১৯ সালের শুরুতে এ কোম্পানিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ারহোল্ডিং ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এমএল ডায়িং লিমিটেডের কোম্পানি সচিব একেএম আতিকুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে আমাদের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। গত বছরই আমরা তালিকাভুক্ত হয়েছি। কোম্পানিটির শেয়ারে বিদেশী বিনিয়োগের বিষয়টি আমাদের জন্য ইতিবাচক। দীর্ঘমেয়াদে যেসব কোম্পানির পারফরম্যান্স ভালো, সেগুলোতেই বিদেশীরা বিনিয়োগ করেন।

২০১৯ সালে শীর্ষ তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুই বছর আগে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। শতাংশের বিচারে শীর্ষ তালিকার অষ্টম স্থানে থাকা কোম্পানিটিতে বিদেশীদের শেয়ার ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজও তৈরি পোশাক শিল্পের সুতা উৎপাদন ও ওয়াশিংয়ের কাজ করে।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আতাউর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোয় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের প্রোফাইল দেখেন। কোম্পানির পর্ষদে বিদেশীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিক্রি ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধি এবং লভ্যাংশ দেয়ার বিষয়গুলোও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করে।

বিদেশীদের শেয়ারহোল্ডিংয়ের শীর্ষ তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে উৎপাদন খাতের বিএসআরএম লিমিটেড। বর্তমানে এ কোম্পানির শেয়ারের ১৮ দশমিক ২৮ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে। ২০১২ সালে এ কোম্পানির ১ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার ছিল বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে। ওই সময় শীর্ষ তালিকায় তাদের অবস্থান ছিল নবম স্থানে।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি ও সুশাসনের বিষয়টি বিবেচনা করেই বিদেশীরা কোম্পানির শেয়ার বাছাই করেন। এটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়। দেশের শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি বৃদ্ধির কারণে তালিকায় স্থান বদল হয়েছে।

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. শাকিল রিজভী বর্তমানে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। করপোরেট সুশাসন, ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি আর লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি না দেখলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা উন্নয়নশীল বাজারগুলোয় কোনো কোম্পানির শেয়ার ধরে রাখেন না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফান্ড ম্যানেজারদের কাছে এখন বাংলাদেশের ইমেজ বেশ ভালো। তারা আমাদের শেয়ারবাজারে আরো বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু আমরা তাদের যথেষ্ট ভালো শেয়ার দিতে পারছি না। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, এমন কোম্পানিগুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বিদেশীদের শেয়ার বাছাইয়ের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায় ভালো করছে, এমন বহু বড় কোম্পানিকে পুঁজিবাজার পর্যন্ত আনতে পারছি না। এসবে উন্নতি করতে পারলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের শেয়ারহোল্ডিং বহুগুণ বেড়ে যাবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri