জিদান-রিয়ালের টার্গেটে কারা ?

zidan.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১২ মার্চ) :: মাত্র ১০ মাস আগে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন জিনেদিন জিদান। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের বাজে ফর্ম আবার তাকে ফিরিয়ে এনেছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় রিয়ালের দায়িত্ব পাওয়া জিদান ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার কাজ চালিয়ে যাবেন।

জিদান দায়িত্ব নেয়ার পর রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বলেন, ‘বিশ্বের সেরা কোচ আবারো আমাদের ক্লাবে যোগদান করেছেন। আমাদের লক্ষ্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলা।’

দায়িত্ব দেয়ার পর জিদান বলেন, ‘আমি আবারো রিয়ালে কারণ ক্লাব সভাপতি আমাকে ডেকেছেন।’

দুইজনের কথাতেই স্পষ্ট যে লস ব্লাঙ্কোসদের হারানো গৌরব ফেরাতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে মরিয়া। তবে আসলেই কি মানসিক ঐক্য তাদের ভেতর রয়েছে?

রিয়ালের টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পেছনে বড় কৃতিত্ব ছিল জিদানের। তবে সেসময় তার দলে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার নতুন চ্যালেঞ্জ।
চ্যালেঞ্জ হলেও আবার ‘ঘরে’ ফিরে তিনি খুশি। সেকথা নিজেই জানিয়েছেন জিদান। রোনালদোর বিদায়ের ঠিক আগেই ক্লাব ছেড়েছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পর বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাকে ফোন করেছিলেন, এ জন্যেই আমি এখানে। কারণ আমি তাকে (পেরেজ) এবং রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসি। রিয়ালের ডাকে আমি সাড়া না দিয়ে পারি না।’

তবে জিদান এসেছেন মানে, নিশ্চয়ই কোনো তারকা ফুটবলারকেও নিতে চলেছে রিয়াল। সেই প্রতিশ্রুতি না পেলে জিদান আসতেন না বলেই মনে করেন ফুটবল বিশ্লেষকর। সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্লাবের সভাপতি পেরেজও। আগামী মৌসুমে দল গঠনের জন্য ৩০ কোটি পাউন্ড ধার্য করেছে রিয়াল।

ফরাসি জিদানকে ফিরিয়ে রিয়াল সভাপতির চোখ সেই ফ্রান্সই। জোড়া টার্গেট করেছেন তিনি। পিএসজি থেকে ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপেকে দলে নেয়ার ব্যাপারে বলেছেন, জিদান নিজে ফরাসি, তাই আশা করছি এমবাপেকে দলে নেয়ার ব্যাপারে তিনি সাহায্য করতে পারবেন। পেরেজকে প্রশ্ন করা হয় নেইমার আর এমবাপের মধ্যে কাকে নিয়ে তারা বেশি আগ্রহী? উত্তরে তিনি বলেন, ‘দুজনকে নিয়েই।’

স্পেনের গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সামনের গ্রীষ্ম মৌসুমের দল বদলের সময় গ্যারেথ বেলকে নাকি রিয়াল আর ধরে রাখতে চাইছে না। বর্তমানে পিএসজির হয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তার জাতীয় দলের সতীর্থ চেলসির মিডফিল্ডার এডেন হ্যাজার্ডকে নাকি দলে চাইছেন জিদান।

তবে বেলের থাকা না থাকা এবং হ্যাজার্ডকে দলে আনার বিষয়ে কিছু না বললেও রিয়ালের সভাপতি পেরেজ এমবাপ্পেকে নিজের মনোভাবের কথা সাফ জানিয়ে দিয়ে বলেছেন, তিনি এমবাপ্পেকে দলে নেবেন না। একইসঙ্গে তিনি এটিও জানিয়েছেন, বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার ও বর্তমানে পিএসজির তারকা ও ব্রাজিলিয়ান ওয়ান্ডারবয় নেইমারকেও নাকি তার দলে টানার কোনো ইচ্ছা নেই।

জিদান যখন রিয়ালের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন কারণ হিসেবে মিডিয়ায় একাধিক কারণ উল্লেখ করে খবর প্রচার করা হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল পেরেজের সঙ্গে জিদানের মতের অমিল।

তবে কারণ যাই থাকুক না কেন, অতীতের সকল ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে জিদান আবারো লস ব্লাঙ্কোসদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তবে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেয়ার পর এমবাপ্পেকে নিয়ে ক্লাব মালিকের সঙ্গে মতের অমিলের খবরে এখন জিদানের মেয়াদ শেষের আগেই আবারো বিদায়ের শঙ্কাও জাগিয়েছে অনেকের মাঝে।

এদিকে, রিয়াল মাদ্রিদে জিদানের ফিরে আসায় আরেকটি মুখরোচক আলোচনাও এখন জোরের সঙ্গেই চলছে। লস ব্লাঙ্কোস ছেড়ে জুভেন্টাসের হয়ে মাঠে উজ্জ্বল পারফর্মেন্স দেখিয়ে যাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও তবে আবারো ফিরে আসছেন মাদ্রিদে?

এ বিষয়ে অবশ্য দায়িত্ব নেয়ার পরই নিজের মনোভাবের কথা জানিয়েছেন জিদান। তিনি বলেন, ‘আমি এই ব্যাপারে পেরেজের সঙ্গে এখনই কোনো আলোচনা করতে চাই না। আমরা সবাই জানি রোনালদো ক্লাব ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তবে এ প্রসঙ্গে কথা বলা এখন যুক্তি সঙ্গত নয়। চলতি মৌসুমে আমাদের আরও ১১টি ম্যাচ বাকি আছে। ম্যাচগুলো শেষের পরই আমরা পরের মৌসুম নিয়ে পরিকল্পনা করবো।

জিদানের সংবাদ সম্মেলনে অবধারিতভাবে প্রশ্নটা উঠেছিল। আর তখন সকল জল্পনা-কল্পনায় এক রকম পানি ঢেলেছেন এই ফরাসি কিংবদন্তি, ‘আমার মনে হয় এই বিষয় (রোনালদোর ফেরা) নিয়ে কথা বলার সময় এখন না। আমাদের এখনো লিগে ১১ ম্যাচ খেলতে হবে, আগে সে দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তারপর আমরা সামনের মৌসুম নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা শুরু করব। আমরা ক্রিস্টিয়ানো সম্পর্কে জানি, ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন সে। কিন্তু আজকের দিনটি সেসব নিয়ে কথা বলার সময় না।’

ইঙ্গিতটা পরিষ্কার। রোনালদোকে রিয়ালের জার্সি গায়ে আবার দেখার আশা করে লাভ নেই। রিয়াল ছাড়ার পরে জিদান কার্যত বেকার ছিলেন। অন্য কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেননি। শুয়ে, বসে, খেলা দেখে কাটিয়ে দিতেন সময়। ফলে ‘বেকার’ জিদানকে ফিরিয়ে আনতে তেমন একটি।

কিন্তু এই কথাটা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বেলায় আবার খাটে না। রোনালদো তো বেকার নন! উল্টো নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় বানিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে রোনালদোকে নিয়ে এসেছে জুভেন্টাস। রোনালদোকে ঘিরেই এখন জুভেন্টাস কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি তার দল সাজান। জুভেন্টাসে গিয়েও একই ভাবে আলো ছড়াচ্ছেন রোনালদো। ফলে চাইলেই রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে চলে আসবেন, এমন আশা করাটা বোকামি। তার ওপর রিয়াল সভাপতির সঙ্গেও রোনালদোর সম্পর্ক আগের মতো নেই। পেরেজের কাছে আগের মতো গুরুত্ব পান না দেখেই রিয়াল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোনালদো। রোনালদো বহু চেষ্টা করেও পেরেজকে বলে নিজের বেতন মেসি-নেইমারদের সমান করতে পারেননি।

রিয়াল সভাপতির সঙ্গে জিদানের সম্পর্কও শেষ দিকে খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আগে যেটা বললাম, জিদান চাননি তাঁর দলে বেল থাকুক। তিনি আগেই বুঝেছিলেন, এই স্কোয়াড তার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছে গেছে। আর শিখরে পৌঁছে যাওয়ার পর শুধু একদিকেই যাওয়া যায়, নিচের দিকে। এটা জিদান বুঝেছিলেন। ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে জিদান অনুরোধ করেছিলেন গ্যারেথ বেলকে ছেড়ে দিয়ে হলেও রোনালদোকে রেখে দেওয়া হোক। কিন্তু সে অনুরোধে কাজ হয়নি। ২০১৩ সালে দলবদলের বাজারে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে আনা ওয়েলশ তারকাকে ঘিরে রিয়াল সাজাতে চেয়েছিলেন পেরেজ।

রোনালদোর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গিয়েছিল তাঁর কাছে। ফলে ফ্রেঞ্চ কিংবদন্তি বুঝতে পেরেছিলেন, রিয়ালের মেরুদণ্ড ক্ষয়ে গেছে। রোনালদো না থাকলে সেটা আর আড়াল করা যাবে না। তাই মানে মানে কেটে পড়েছিলেন। রিয়ালের দলবদল সংক্রান্ত কার্যক্রমে জিদান সর্বময় ক্ষমতায় অধিকারী থাকবেন না, জিদানের ক্লাব ছাড়ার পেছনে এটাও একটা বড় কারণ ছিল। জিদান যে ভুল ছিলেন না, এই মৌসুমের প্রতি মুহূর্তে সেটা বুঝতে পেরেছে রিয়াল।

ফলে এখন যেহেতু জিদান চলে এসেছেন, ধরেই নেওয়া যায় রিয়াল স্কোয়াড ও দলবদল নিয়ে তাঁর কথাই শেষ কথা হবে এমন আশ্বাস পেরেজ তাঁকে দিয়েছেন। পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন জিদান। যে সংবাদটা দলের বেশ কিছু তারকার জন্য সুখকর নয়। এদের পুরোভাগে অবশ্যই গ্যারেথ বেল। প্রায় ছয় বছর রিয়ালে আছেন, তাও এখনো পর্যন্ত স্প্যানিশটা ঠিকঠাক বলতে পারেন না। দলের বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও নেই তাঁর। দলের বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে এক সঙ্গে কোথাও খেতে যান না, ঘুরতে বের হন না। কিছুদিন আগে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জানিয়েছেন এটা। ফলে জিদান আসা মানে বেলের বিদায় এক রকম নিশ্চিত। জিদানের পরিকল্পনার সঙ্গে খাপ না খাওয়াতে পারা কলম্বিয়ার তারকা হামেস রদ্রিগেজও বায়ার্নের সঙ্গে ধার চুক্তি শেষ হলে রিয়ালে ফিরছেন না, এটাও বলা যেতে পারে।

জিদান আসার ফলে আরও একজন তারকা মুখ কালো করে বসে থাকতে পারেন, তিনি নেইমার। বহুদিন ধরেই নেইমারের প্রতি রিয়াল আগ্রহী। আগ্রহ থাকার পরেও যে নেইমারকে ক্লাবে আনতে পারেনি, তার পেছনেও এই জিদানই ছিলেন। জিদান এমন কাউকে দলে চাননি যে মাঠের ভেতরের কাজ দিয়ে খবর হওয়ার চাইতে মাঠের বাইরের কাণ্ডকারখানা দিয়ে খবরের শিরোনাম হতেই বেশি আগ্রহী। জিদান চলে যাওয়ার পরে নেইমারের রিয়ালে আসার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছিল একটু হলেও। নেইমার ও তার বাবাও দুই দিন পর পর রিয়ালে যাওয়া না যাওয়া, পিএসজি ছাড়া না ছাড়া নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে সংবাদপত্রগুলোকে খবরের জোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন। জিদান ফিরে আসার ফলে বলা যায়, এমনটা হচ্ছে আর আর।

দলবদল সংক্রান্ত সকল বিষয়ে জিদান সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েই রিয়ালের সঙ্গে আবারও তিন বছরের চুক্তি করেছেন, এটা এখন বোঝা যাচ্ছে। শোনা গেছে, দলকে ঢেলে সাজানোর জন্য জিদানের হাতে ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড দিতে প্রস্তুত পেরেজ। যে টাকা দিয়ে রোনালদোর একজন আদর্শ বিকল্প নিয়ে আসবেন জিদান। সেটা চেলসির বেলজিয়ান উইঙ্গার এডেন হ্যাজার্ডও হতে পারেন, আবার পিএসজির ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও হতে পারেন।

জিদান-রোনালদো যাওয়ার পর দলের বেশ কিছু খেলোয়াড় মূল একাদশ থেকে জায়গা হারিয়েছিলেন। যারা জিদানের দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। যেমন মার্সেলো, ইসকো। সোলারির আমলে এই দুজন ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন মূল একাদশ থেকে। শোনা যাচ্ছিল, ক্লাব ছাড়তে পারেন তারা। জিদান আসার অর্থ হলো, মার্সেলো ও ইসকোর কাউকে আর রিয়াল ছাড়তে হবে না। আর ফর্মে থাকা ইসকো যে রিয়ালের কত বড় অস্ত্র হতে পারে, সেটা জিদানের অধীনে বেশ কয়েকবার দেখিয়েছেন তিনি।

‘নিয়মিত জেতার জন্য পরিবর্তন আনতে হবে দলে’— জিদান যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন, সে পরিবর্তন আনার সবচেয়ে বড় মাধ্যম তিনি নিজেই।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno